অর্থনীতি
দেশের সব বন্দরে খুব দ্রতই আরটিজিএস চালু করা হবে: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘আমদানি-রপ্তানি কাজ সহজতর করার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক লেনদেনের জন্য দেশের সকল বন্দর ও বিমান বন্দরে খুব দ্রতই আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) চালু করা হবে। দেশের প্রথম জেলা হিসেবে কক্সবাজার জেলাকে ক্যাশলেস জেলা হিসেবে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের হাতে ছয়/সাত হাজার টাকার মধ্যে স্মার্ট ফোন পৌঁছাতে হবে। প্রান্তিক এলাকায় নারী এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
শনিবার বিকেলে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন বণিক সমিতি, চেম্বার প্রতিনিধি, বন্দর, কাস্টমস, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষরা এতে অংশ নেন।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য সিঙ্গাপুর, দুবাই ও হংকং এর ন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করতে হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এ অঞ্চল সমুদ্র, পাহাড় ও সমতলের এক অন্যন্য অঞ্চল। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল, ভারী শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সিংহভাগ এ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। তবে এ সম্ভাবনাকে পূর্ণ রূপ দিতে আর্থিক খাতের সুদৃৃঢ় ভূমিকা অপরিহার্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো উৎপাদনমুখী খাতে পর্যাপ্ত ও স্বল্পমূল্যের ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমসমূহের অব্যহৃত ফান্ড এ অঞ্চলের উপযুক্ত গ্রাহকের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। আর্থিক অর্ন্তভূক্তির অংশ হিসেবে প্রত্যেক ব্যাংককে অন্তত একটি বিদ্যালয়ে আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল লেনদেন ও ক্যাশলেস লেনদেনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর উপাচার্য ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. খসরু পারভেজ। বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম অফিসে প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আমিন চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করণীয় বিষয়ক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।
অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধরা অর্থনৈতিক, ব্যাংকিং, বন্দর, কাস্টমস, রপ্তানি, কৃষি, শিল্প খাতের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে গভর্নর তাৎক্ষণিক কিছু বিষয়ে সমাধান প্রদান করেন এবং কিছু বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতি প্রণয়ণের বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন। সভাপতির বক্তব্যে মো. মকবুল হোসেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে আর্থিকর সাক্ষরতার বিষয়টি অর্ন্তভূক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থনীতি
ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা বাড়াতে লিখিত পরিকল্পনা চায় আইএমএফ
দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারে একটি সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা লিখিত আকারে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল এ আহ্বান জানায়।
বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রক্রিয়াটিকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেয় আইএমএফ।
বিশেষ করে ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত সংস্কার কার্যকর করতে একটি লিখিত রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। আইএমএফ মনে করছে, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে।
বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। এর আগে একটি রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সংস্কারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে।
আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
উল্লেখ্য, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে, বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বুধবার প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। টানা কয়েক দিন কমার পর এই বৃদ্ধি হলো। তেলের দাম কমে আসায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে, ফলে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কাও কমেছে। এতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ স্পট স্বর্ণের দাম ১.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৫৮.০৩ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে, সোমবার স্বর্ণের দাম চার মাসের সর্বনিম্ন ৪,০৯৭.৯৯ ডলারে নেমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল ডেলিভারির ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম আরও বেশি বেড়ে ৩.৫ শতাংশ উত্থান নিয়ে ৪,৫৫৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে তেলের দাম কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা আবার নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের পর স্বর্ণের বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় সামনে দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতি
ছুটিতে বন্দরে ২৫ লাখ টন কার্গো ও ৫৪ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং
ঈদের ছুটির মধ্যেও থেমে থাকেনি চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম চালিয়ে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটির সাত দিনে বন্দরে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কনটেইনার ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউএস এবং রপ্তানি কনটেইনার ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউএস। একই সময়ে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ টন এবং রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ টন। এছাড়া আলোচ্য সময়ে মোট ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগে নেওয়া পরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং ছুটিকালীন সময়েও কার্যকর বাস্তবায়নের ফলেই বন্দর তার অপারেশনাল সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। রমজান ও ঈদের সময়ে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যা বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং ও নেভিগেশনাল সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্দরের ভেতরে জাহাজের আগমন, খালাস ও প্রস্থান নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোস্টারভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক মনিটরিং করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি পণ্যবাহী যানবাহনকে বিশেষ স্টিকার দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগে যেখানে দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করতে হতো, বর্তমানে আউটার অ্যাঙ্করেজে জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা বন্দরের জন্য একটি বড় অর্জন।
সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, বন্দরের ৫৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউএস কনটেইনার অবস্থান করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই পূর্ণ কনটেইনার। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৮১ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৫২৫ টিইইউএস ডেলিভারির প্রস্তুতি রয়েছে।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ১৯ মার্চের পর বুধবার (২৫ মার্চ) আবারও দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভালোমানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমেছে। এর ফলে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে এই সুবিধা নিশ্চিত করতে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ার প্রভাব দেশের বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সদ্য কার্যকর হওয়া দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ১৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৬১৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।
এর আগে গত ১৯ মার্চ দুই দফায় স্বর্ণের দাম মোট ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা কমানো হয়েছিল। সেই সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় নেমে এসেছিল, যা বুধবার সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে স্বর্ণের বাজারে এই বড় ধস নামলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের নির্ধারিত দাম অনুযায়ীই ২২ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকায়।
অর্থনীতি
জ্বালানিতে অতিরিক্ত অর্থ খরচের কথা আইএমএফকে জানিয়েছে বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে দেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হবে, তা আইএমএফকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইএমএফের প্রতিনিধিদল।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ যাবে। সরকার সেটি দেবে কি না, জানতে চাওয়া হয় অর্থমন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, সেটাও আলোচনার মধ্যে এসেছে। আমরা স্প্রিং মিটিংয়ে ওয়াশিংটন যাচ্ছি, সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে আইএমএফ কোনো পরামর্শ দিয়েছে কিনা-জানতে চাইলে আমির খসরু বলেন, যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আছে। ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ আছে, শেয়ার বাজারে চ্যালেঞ্জ আছে। ট্যাক্স ও জিডিপির ব্যাপার আছে। সরকারের মাত্র এক মাস হয়েছে। এরমধ্যে রমজান মাস ছিল। এরমধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। ঈদের সময় সবাই বাড়িতে যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি; দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল। এবার গার্মেন্টেসে অস্থিরতা ছিল না। এটা হয়েছে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সঠিক সময়ে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি বলে এসব সুফল পাওয়া গেছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সরকারতো একা পারবে না। সবাইকে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর কাছে আহ্বান করব। সবাইকে সহানুভূতিশীল হতে হবে, সংযমের মধ্যে আসতে। যেহেতু যুদ্ধে সরকারের কোনো হাত নেই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। আমরা হচ্ছে এটার ভুক্তভোগী। এজন্য আমাদেরকে একটু সংযমের দিকে যেতে হবে, সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।
আইএমএফের ঋণ ছাড় নিয়ে মন্ত্রী জানান, ওটা জুলাইতে আলাপ হবে। পরে রিভিউ জুলাইতে হবে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে মিটিং আছে, সেখানে আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করব।
ঋণ কর্মসূচি আদায়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওটা চলছে। আলাপ-আলোচনা চলছে। আইএমএফের যে শর্ত সেগুলো আমরা আলোচনা করেছি। যতটুকু সম্ভব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো এখন সম্ভব নয় সেগুলো ক্রমান্বয়ে করতে হবে। একসঙ্গে সব করা যাবে না। কারণ, অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে উত্তরণ করতে গেলে আমাদেরকে আমাদের মতো করে চিন্তা করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েক বছর ধরে প্রোগ্রাম চলছে। অতীতের সরকারগুলো অর্থনীতিকে যেখানে রেখে গেছেন, তা থেকে উত্তরণে আমাদের অনেকগুলো সংস্কার দরকার। ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। শেয়ার বাজার খুব খারাপ অবস্থায় আছে। ট্যাক্স ও জিডিপির অবস্থা খুবই কঠিন। এগুলো থেকে উত্তরণে আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি।
আমির খসরু বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প যেগুলো আছে সেগুলো থমকে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক কিছু থমকে গেছে, সেগুলোকে রিভাইব করতে হবে। আর এগুলো রিভাইব করতে গেলে আমাদের অর্থনীতিকে একটা জায়গায় নিতে হবে। অর্থনীতিকে একটা জায়গায় নেওয়ার জন্য এরইমধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যে পদক্ষেপগুলো সেটার প্রতিফলন বাজেটে দেখতে পাবেন।



