জাতীয়
বিশ্বশান্তির ৬ সারথির মরদেহ দেশে আসছে আজ
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ আজ শনিবার আনা হচ্ছে স্বদেশে। দেশে ফেরার পর যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতায় সম্পন্ন হবে বিশ্বশান্তিতে জীবন দেওয়া এ বীরদের জানাজা ও দাফন।
গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জনের মৃত্যু ৯ জন আহত হন।
আহত সবার চিকিৎসা চলছে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। তাদের কয়েকজন এরই মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকিরা সবাই শঙ্কামুক্ত। বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক ড্রোন হামলাটি চালিয়েছিল ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে।
সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ শান্তিরক্ষী হলেন- নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন- কুষ্টিয়ার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোছা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান।
শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় নিদর্শন হয়ে থাকবে। জীবন হাতে নিয়ে কেবল দেশে নয়, সমরে-শান্তিতে বিশ্বের তরেও তারা। যার সবশেষ উদাহরণ সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী শাহাদতবরণ। জাতিসংঘের পতাকা তলে বিশ্বশান্তি রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের শপথ করেই তাদের সেখানে যাওয়া।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিপুল অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসাধারণ পেশাদারিত্ব, সাহস আর আত্মত্যাগ দেখল বিশ্ববাসী। আহত আটজনের মধ্যে তিনজন নারী সৈন্য। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো ১১৯টি দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশ। বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের যাত্রা শুরু হয়।
‘নীল হেলমেট’ পরে বিশ্বশান্তির সারথি হয়ে বাংলাদেশের অভিষেক ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। তখন জাতিসংঘের ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে ১৫ জন সদস্য পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ।
এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ১০টি দেশে শান্তির পতাকা হাতে নিয়োজিত তারা। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো ডিআর কঙ্গোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপটার মোতায়েন করা হয়েছে। শুরু থেকে সুদানে সর্বশেষ ছয়জন নিহত হওয়া ছাড়াও এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৩১ জন, নৌবাহিনীর চারজন, বিমানবাহিনীর ছয়জন এবং পুলিশের ২৪ জন। আহত হয়েছেন ২৭২ জন।
শুরু থেকেই বিভিন্ন বৈশ্বিক মিশনে বাংলাদেশের চিকিৎসক, প্রকৌশলীরাও অংশ নিয়েছেন, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের অবদানের একটি দুর্দান্ত স্বীকৃতি। বৈশ্বিক ফোরামে নেতৃত্বের স্মারক। আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত। মিশনগুলো অনেক চ্যালেঞ্জে ভরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনুকূল নয় এমন জলবায়ু, সম্পদের অভাব-সব মিলিয়ে মিশন বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অবদানের জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের প্রশংসায় ‘শান্তির কূটনীতির মোরসাল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। শুধু যুদ্ধবিগ্রহের স্থগিতাদেশ রক্ষা বা সংঘাত প্রতিরোধ নয়, স্থানীয় জনগণের কল্যাণ, পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসনে এমন ভূমিকা অন্য অনেক দেশের কোনো বাহিনীই দেখাতে পারেনি। তাদের শিক্ষা, স্কুল নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শিশুদের শিক্ষা প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নমুনা শেখার মতো। তাই শিখছে, অভিজ্ঞতা নিচ্ছে।
উপলব্ধি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তি সদস্যরা কেবল অস্ত্রধারী সৈন্য নয়, মানবতার সৈনিকও। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সময়ের পরিক্রমায় শান্তি রক্ষার ইতিহাসে জাতিসংঘের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে দেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যরা। কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠা পর্যন্তই তাদের কাজ শেষ নয়। মিশনগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় কাজ করে।
যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশ বা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা, পুনর্গঠন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজন, মানবিক সংকট মোকাবিলাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে।
সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চল আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (সিএআর), সাইপ্রাস, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো), লেবানন, দক্ষিণ সুদান, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিরোধপূর্ণ অঞ্চল পশ্চিম সাহারা, ইয়েমেন, লিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন নানা মাত্রায় কঠিন কাজ। সেই কঠিনেরে সঙ্গী করে জীবন বিলিয়ে দেওয়া শান্তির সারথিদের মরদেহ আজ স্পর্শ করবে তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে।
অন্যান্য
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সরকারের এক মাস পূর্তিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছে, তবে দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট নেই এবং জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানাই।’
এদিকে আজ সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সভার তথ্য জানানো হয়।
জাতীয়
জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে সভা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘পিএমও বাংলাদেশ – প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কিছু দিন পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সূত্রপাত নতুন প্রশাসনের সামনে এক বিশাল অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংকটের প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নবগঠিত সরকারের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে এ জরুরি সভা করেন।
জাতীয়
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন। এরপরই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক সচিব আব্দুন নাসের খান ও ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিন বিকেল ৪টা মন্ত্রিপরিষদের সভায় বসবেন প্রধানমন্ত্রী।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার। এবার বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পড়ায় বৈঠকটি এগিয়ে আনা হয়েছে।
জাতীয়
চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
দুই দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তার এ সফর।
মঙ্গল ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সম্মেলনে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতির কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে— আমাদের শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়।
অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’ এবং ‘সুরভী’র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠনের সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনো অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে, আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লাখ লাখ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসঙ্গে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, জ্ঞান বিনিময়, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের দেশগুলোকেই শক্তিশালী করি না, বরং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করি এবং বিশ্ব এর উত্তরাধিকারী হবে।
জাতীয়
সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন ২৬৪ কর্মকর্তা
সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৬৪ জন সহকারী সচিব। তাদের এ পদোন্নতি দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৬৪ জন কর্মকর্তাকে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১’ এর বিধি ৫(বি) অনুযায়ী সিনিয়র স্কেল (সিনিয়র সহকারী সচিব) পদে (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর ষষ্ঠ গ্রেড : টাকা ৩৫,৫০০-৬৭,০১০/-) পদোন্নতি প্রদান করা হলো।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠাবেন (e-mail-iapp@mopa.gov.bd) এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থলে স্ব স্ব পদে কর্মরত থাকবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।



