জাতীয়
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ইসি, পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নসির উদ্দিন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার পরের দিনই ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ১৩ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর ও পিরোজপুরের দুটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটছে বলে জানা যায়।
গত বুধবার দিবাগত রাতে ফেনী সদর উপজেলার শর্শাদিতে গ্রামীণ ব্যাংকের শর্শাদি বাজার শাখায় অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এতে ব্যাংকের তিনটি মোটরসাইকেল ও আসবাব পুড়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, হাদির ঘটনা থেকে শুরু করে যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন একাধিকবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও তাঁদের কার্যালয়ের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকেও এই শঙ্কার কথা জানিয়েছে ইসি। সম্প্রতি দুজন প্রার্থীও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। নির্বাচনী কাজে কোনো ধরনের বাধা যাতে সৃষ্টি না হয় সে জন্য কমিশন এই নিরাপত্তা চাচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা স্বীকার না করলেও বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা নেই। তবে যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, আমরা সবাইকে নিরাপত্তার জন্য বলেছি। এটা নিয়ে যে কমিশন সেভাবে শঙ্কিত বা আতঙ্কগ্রস্ত তা কিন্তু না। যেহেতু নির্বাচন আসছে, তাই আমরা একটা বাড়তি নিরাপত্তার কথা বলেছি, যাতে কোনো রকম ঘটনা না ঘটে। কোনো নাশকতা যদি কেউ করতে চায়, সে যেন সুযোগ না পায়।
নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০১৪ সালের বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও একতরফা নির্বাচনের আগে অনেক নির্বাচন অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বক্স ছিনতাই ও বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কারণে মোট ৫৯৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনমুখী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত থাকা দল আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা নেই। আওয়ামী লীগের সময় গৃহপালিত বিরোধীদল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিও এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সে ক্ষেত্রে চোরাগোপ্তা হামলা ছাড়া প্রকাশ্যে তেমন কিছু ঘটার আশঙ্কা নেই।
গত ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই এবং নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে জানান। তবে তিনি চোরাগুপ্তা হামলার আশঙ্কার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। ওই দিন রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চোরাগুপ্তা হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এগুলোকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে বা হামলাকারীদের যেন কঠোর হস্তে দমন করা হয় এবং ওই ধরনের ঘটনা ঘটলে অপরাধীরা যেন ধরা পড়ে সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসির নির্দেশ : সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সমূহের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কার্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এসংক্রান্ত একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সমূহের নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচনী মালামাল, যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে বিধায় নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই অফিসসমূহে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচনী মালামালের সুরক্ষাসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এ অবস্থায় রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অফিসসমূহের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়সমূহের নিরাপত্তা চাওয়ার আগেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয় এবং রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তিন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সব রিটার্নিং অফিসারে জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়েছে ইসি। গত ১৩ ডিসেম্বর পুলিশের বিভিন্ন বিভাগকে পাঠানো তিনটি চিঠিতে ইসি এই নিরাপত্তা চায়। সে সময় সিইসির প্রাপ্য পুলিশি এসকর্টের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন আরো একটি গাড়িসহ অতিরিক্ত এসকর্ট চাওয়া হয়। এ ছাড়া চার কমিশনার ও সিনিয়র সচিবের বাসভবন ও অফিসে যাতায়াতসহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা চাওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সব রিটার্নিং অফিসারের জন্য গানম্যান নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানায় ইসি।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ইসির দ্বারস্থ দুই সম্ভাব্য প্রার্থী : নির্বাচনে নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা। আর লিখিত আবেদন না করলেও মৌখিকভাবে নিরাপত্তা চেয়ে গেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে দলের প্রার্থী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। গত বুধবার তাঁরা আলাদাভাবে নির্বাচন কমিশনে এসে এই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানায়। আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রথমে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান। এরপর সিগমা সিইসি, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে দেখা করে লিখিত আবেদন জমা দেন।
সিইসিকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে কাজী রেহা কবির সিগমা বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পক্ষপাতমুক্ত, সুষ্ঠু ও সবার জন্য নির্বিঘ্ন করা অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অঙ্গীকার। কিন্তু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে অবিলম্বে জড়িত ও দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আবেদন করছি।’
লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর রেহা কবির সিগমা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কর্মী ও আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই ইসি ও প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি।’
আসাদুজ্জামান ফুয়াদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৌখিকভাবে নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়েছে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
ফুয়াদ ও সিগমার সাক্ষাতের বিষয় জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ হচ্ছে, পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না। আমরা সার্বিকভাবে সব প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।’
এ বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘প্রার্থীরা কেউ যদি অস্ত্র নিতে চায়, লাইসেন্স করতে পারবে। দেহরক্ষী চাইলেও তিনি নিতে পারবেন। সরকার তো সেই সুযোগ দিয়েছে। তার পরও আমরা সবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছি।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাদির ওপর হামলার পর এরই মধ্যে অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তাঁদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তবে আমরা সব অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। অনেকের নিরাপত্তাব্যবস্থার দেখভাল শুরু হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চলছে।
আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র জারি : গত বুধবার আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরে এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে সরকার কর্তৃক সামরিক বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি এই ক্ষমতা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানায় ইসি। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সম্ভাব্যতা অনুযায়ী কেন্দ্রসমূহে সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করা এবং মাঠে ব্যবহৃত ইন্টারনেট কানেক্টেড বডি ক্যামেরা ও একটি ‘লাইভ ফিড’ নির্বাচন কমিশন সমন্বয় সেলে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও পরিপত্রে জানানো হয়।
পরিপত্রে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ছাড়া সব বাহিনী ভোটের সময় পাঁচ দিন মোতায়েন থাকবে, যা আনসারদের জন্য ছয় দিন বরাদ্দ।
পরিপত্রে আরো বলা হয়, ভোটার, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে। নির্বাচনের সময় বাহিনী মোতায়েনের ধরন অনুযায়ী কেন্দ্রভিত্তিক স্থায়ী মোতায়েন, স্থায়ী-অস্থায়ী চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও আভিযানিক দল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যকর থাকবে। নির্বাচনের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুই দিন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, গুজব ও অপতথ্য রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি, আর নিষ্পত্তি ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি, নির্বাচনী প্রচার চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
এমকে
জাতীয়
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে ৩ দিনের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমন্বয় পরিষদ জানায়, আগামী ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন সারা দেশের সব সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি চলমান গণকর্মবিরতি কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে। নেতারা জানান, সরকার দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনের পরিসর আরও বাড়ানো হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত সাত বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এ ছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টার এক সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও সমাবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন ঠেকাতেই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এমন বক্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছে।
সমন্বয় পরিষদের নেতারা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এমএন
জাতীয়
স্ত্রীসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি গ্রেপ্তার
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে উত্তরা-৯ নম্বর সেক্টর এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুইজন হলেন- শফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর উত্তরা–৯ নম্বর সেক্টর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ জানান, শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় বিমান বাংলাদেশের এমডিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাফিকুর রহমানের বাসায় একটি শিশু গৃহকর্মীর কাজ করে। ওই গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে মারধর করে আসছিলেন তিনি। ওই শিশুর পরিবার থানায় মামলা করলে পুলিশ গতকাল রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এমএন
জাতীয়
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপির বিশেষ হটলাইন চালু
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ সহজে এবং দ্রুত পুলিশকে জানানো যাবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, হটলাইন নম্বরগুলোর মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয় দ্রুত পুলিশের কাছে জানানো যাবে। বিশেষ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে নগরবাসীকে এসব নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিএমপির নির্ধারিত হটলাইন নম্বরগুলো হলো:
01320037358
01320037359
01320037360
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সম্মানিত নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।
এমএন
জাতীয়
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শেরে বাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
তারা জানান, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিশন গঠন করে, যার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে পৌঁছেছে।
কিন্তু এখনো এটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এমএন
জাতীয়
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে । এতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা, বোয়িং বিমান কেনা, এবং জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়।
শুল্ক কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে। তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে— এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায় আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।
রমজানের প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায় আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে। আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এখানে যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।
গত ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে, আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।
এমএন



