জাতীয়
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিতে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার: ড. ইউনূস
সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নেত্রী, দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। এ বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি তার অবিচল অঙ্গীকার, দেশের উন্নয়নে তার অবদান এবং তার প্রতি জনগণের শ্রদ্ধাময় আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এরইমধ্যে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। দেশে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সব বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
নির্বাচনে একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখবেন
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাই এই নির্বাচন হোক সত্যিকার অর্থে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একটি বিষয় বারবার মনে করিয়ে দিতে চাই— নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব আমাদের সবার। আপনাদের মূল্যবান ভোটই আমাদের রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাই ভোটকে শুধুই কাগজে একটি সিল মারার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখবেন না; বরং এটি হবে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সরাসরি অবদান। দেশের মালিকানা আপনাদের হাতে, আর সেই মালিকানারই স্বাক্ষর আপনার ভোট।
এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান জানাচ্ছি— আপনারা একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখবেন, কখনো শত্রু হিসেবে দেখবেন না। নির্বাচনের মাঠে এমন একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, যারা ভোট বাক্স ডাকাতি করবে তারা দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণকারী। তারা নাগরিকদের দুশমন। তাদের থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা আমাদের সবার অবশ্য কর্তব্য। ভোট জনগণের ভবিষ্যৎ রচনার অক্ষর। ভোট বাক্সে ভোট জমা দিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ আর রচনা করা যাবে না। আপনার ভোট আপনি সযত্নে ভোট বাক্সে দিয়ে আসুন। কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করুন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিন। ভোটের ওপর নির্ভর করছে আপনার আমার সবার ভবিষ্যৎ। আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ। যোগ্য লোককে ভোট দিন। জাতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ভোট রক্ষা করা দেশ রক্ষা করার সমান দায়িত্ব। ভোট রক্ষা করুন। দেশকে রক্ষা করুন। ভোট দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার গাড়ির চাকা। এই চাকা কাউকে চুরি করতে দেবেন না।
তিনি আরো বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনকে আরও কার্যকর, নিরপেক্ষ ও নির্বাচনী পরিবেশের উপযোগী করতে সরকার মাঠ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনে বেশ কিছু রদবদল করেছে। এই পরিবর্তনগুলো কারও প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ প্রসূত নয়। এগুলো করা হয়েছে দক্ষতা, যোগ্যতা এবং পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— দেশের প্রতিটি ভোটার যেন ভোট দিতে পারেন নিরাপদ পরিবেশে, ভয়মুক্ত মনে এবং সর্বোচ্চ স্বাধীনতায়। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে আরও কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন— তা কমিশন অবশ্যই গ্রহণ করবে।
‘জুলাই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক দলিল। এই সনদে আমরা যে সংস্কারমালা প্রস্তাব করেছি— রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা—এসব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জনগণের সুস্পষ্ট মতামত। কারণ একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক নেতৃত্ব বা একটি প্রশাসনের মাধ্যমে টেকসই হয় না; জনগণকেই চূড়ান্ত সম্মতি দিতে হয়। এই কারণেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি—যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার দিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এই গণভোট হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। এখানে আপনাদের প্রতিটি ভোট আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে’, বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এবারের নির্বাচনটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, একই দিনে এবার দুটি ভোট। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট। আরেকটি গণভোট— যার প্রভাব হবে শতবর্ষব্যাপী। কাজেই অবশ্যই ভোট দিন। ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। এর মাধ্যমে আপনারা জানান— আপনারা কি জুলাই সনদের সংস্কার কাঠামোকে এগিয়ে নিতে চান কি না। আপনাদের ভোটই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে, প্রশাসন কোন কাঠামোয় পুনর্গঠিত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ কেমন রূপ পাবে।
‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা কী তৎপরতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছিলেন। ফ্যাসিবাদের মসনদ গুঁড়িয়ে দিতে তারা অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসীদের এই ভূমিকা শুধু জুলাইয়েই নয়, আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের এই প্রবাসী ভাইবোনেরা কখনোই ভোটাধিকার পাননি,’ যোগ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের ফলে প্রথমবারের মতো লাখ লাখ প্রবাসী এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে যাচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরাও আনন্দিত। একইসঙ্গে অনেক প্রবাসী নানা জটিলতায় এই উদ্যোগে শামিল হতে না পেরে ব্যথিতও। আপনাদের আবেগের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা রেখে বলছি— এবারের যে ধারা শুরু হলো, তা ভবিষ্যতে থামবে না। আগামীতে আপনারাও এই প্রক্রিয়ায় শামিল হতে পারবেন।
তিনি বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে আমাদের রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তুলে ধরতে চাই। একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা অত্যাবশ্যক। বহুদিন ধরে বিচার বিভাগ প্রশাসনের বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তার পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি। এটি জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারে বাধা সৃষ্টি করেছে, আর রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থাকেও দুর্বল করেছে।
ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড়ো পদক্ষেপ বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই— ইতোমধ্যে বিচার বিভাগকে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে পৃথক সচিবালয় গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এখন থেকে আর রাজনৈতিক কোনো চাপ বা প্রভাবের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা যাতে ব্যাহত না হয়, সে নিশ্চয়তাও আরও জোরদার হবে।
জাতীয়
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যারাই আসুক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। নির্বাচনে ক্ষমতায় যেই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে বিএনপির, কোনো অবস্থান থাকার কথা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু এটি ভারতের নির্বাচন, তাই এটি তাদের গণতন্ত্রের বিষয়। তবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সবসময়ই চায়, প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্রের বিজয় ঘটুক।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত সেই দেশের জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে। অন্য দেশে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে তার কোনো পরিবর্তন হবে না।
জাতীয়
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক ও বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হলেও সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয় বরং মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসর গ্রহণ—সবই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এসব প্রশাসনিক কাজে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এবং বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অবিচার না ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয়। তবে এসব চিহ্নিত অপরাধীরা যাতে সমাজে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে কাজ করছে।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে
বিগত আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সমুন্নত হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন,‘বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রয়েছে গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক হজ যাত্রী মক্কা ও মদিনায় গমন করেন। ধর্মীয় অভিন্নতার ভিত্তিতে পবিত্র হজ পালন দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।’
সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় তারা চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আমেরিকা ও ইরানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময় স্পিকার সৌদি রাষ্ট্রদূতকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ওআইসির কার্যকরী ভূমিকা রাখার প্রস্তাব করেন।
অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
ডিএসসিসিতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ মে প্রথমবারের মতো ডিএসসিসি এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নগরবাসী নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখলে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে ডিএসসিসির নেতৃত্বে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকরা একযোগে এই কর্মসূচি পালন করবে।
ডিএসসিসি এলাকার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, কোয়ার্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা), রাজউক ও রিহ্যাবের আওতাধীন এলাকা এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্লটগুলোতে স্ব-স্ব উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
এছাড়া, ডিএসসিসির মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, প্রয়োগ পদ্ধতি, তদারকি এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক সভায় উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বাণিজ্যিক প্রচারণার পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডিএমপি, ডিএমসি, বিজিবি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রাজউক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রিহ্যাব, শিক্ষা অধিদপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে যে বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের ইউনিফর্মে আংশিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পোশাকের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও কিছু অংশে নতুনত্ব আসছে। শার্টের রঙ আগের মতোই থাকবে, মেট্রোপলিটন এলাকায় সবুজ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে নীল। তবে প্যান্টে পরিবর্তন এনে খাকি রঙ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সদস্যদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের একটি অংশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ভাবছে।
এদিকে, প্রথম অধিবেশন নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, অধিবেশনটি ব্যর্থ হয়েছে এবং সংস্কার প্রস্তাব বা গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না হলে তারা আবার রাজপথে আন্দোলনে নামবেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘৭২-এর সংবিধানকে আঁকড়ে ধরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগ নতুন নয়, বরং পুরোনো। তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতারা তাদের মতামত দিতে পারেন, যেমন সরকারও তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল প্রাণবন্ত ও সক্রিয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অধিবেশনে সর্বাধিক আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। সরকার ও বিরোধী দলের উপস্থিতিতে মতবিনিময় হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করেছে এবং যৌথ কমিটি গঠন করেছে, যা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। যদিও মতবিরোধ ছিল, তবুও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
শেষে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও বিতর্ক স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধীদল তাদের বক্তব্য দিয়েছে, সরকারও তাদের মত প্রকাশ করেছে।




