রাজধানী
বাড্ডায় ফের যাত্রীবাহী বাসে আগুন
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় এএমজেড হাসপাতালের সামনে অছিম পরিবহনের চলন্ত একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন যাত্রী বেশে বাসে উঠে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে। এ সময় বাসে যাত্রীরা উঠানামা করছিল।
বারিধারা ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক মাজাহারুল ইসলাম জানান, আগুনের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন ৮টা ৫০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. নাসিরুল আমীন বলেন, ‘আগুনের ঘটনায় দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করবে পুলিশ।’
রাজধানী
ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, আমাদের কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতে মুসল্লিদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, নারী-পুরুষ সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ঢাকার আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে নগরবাসীর জন্য ঈদ জামাতের আয়োজন করা হচ্ছে।
ঈদের দিন সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এবার ঈদের দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা বৃষ্টি হতে পারে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা স্টিলের স্ট্রাকচার দিয়ে শেড তৈরি করেছি। বৃষ্টিতেও ঈদ জামাতে আগত মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা হবে না।
ঈদ জামাতে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং তাদের জন্য আলাদা প্রবেশপথও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঈদ জামাতের নিরাপত্তা প্রস্তুতি বিষয়ে প্রশাসক বলেন, আমরা দশ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা নিয়েছি। আরো মুসল্লি হলে তাৎক্ষণিকভাবে যেন নামাজের ব্যবস্থা করা যায়, সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে থাকবে এবং নামাজিদের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
প্রশাসক এ সময় নগরবাসীকে এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করতে আসার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনে ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী
ঈদের ছুটিতে চেনা ছন্দে ফিরেছে সদরঘাট
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আজ বুধবার সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় আর ব্যস্ততা।
গত কয়েক বছরের নিস্তব্ধতা ভেঙে সদরঘাট যেন আবার তার পুরোনো রূপ ফিরে পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই নৌ-বন্দরে ভোর থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে।
কেউ পরিবারের হাত ধরে, কেউ বা পিঠে বিশাল ব্যাগ নিয়ে ছুটছেন প্রিয় লঞ্চের পন্টুনে। সাধারণ সময়ে যাত্রী খরা থাকলেও ঈদের এই বিশেষ সময়ে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এবার বিআইডব্লিউটিএ বিশেষ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে কুলি সেবা এবং হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ২৮ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে যাত্রীদের পক্ষ থেকে কিছু অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পন্টুনে ওঠার সময় কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লঞ্চের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের এই ভিড়ের মধ্যে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কড়া নজরদারিতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর সাধারণ সময়ে যাত্রী চাপ কম থাকলেও ঈদের সময় নৌপথের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আজ সারাদিনে সদরঘাট থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি লঞ্চ ছাড়ছে।
ভাড়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। চাঁদপুর রুটে ডেক ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেছে। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর উদ্দেশে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলাচল করছে লঞ্চগুলো। স্বস্তির বিষয়, অন্যান্য সময়ের মতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রা করতে পেরে খুশি যাত্রীরা।
নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ঘাটজুড়ে তৎপর রয়েছে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সব মিলিয়ে কিছুটা ভিড় আর চাপ থাকলেও, নিরাপত্তা ও স্বস্তির মধ্যে দিয়েই নদীপথে ঈদযাত্রা শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ।
সদরঘাটের প্রতিটি লঞ্চের কেবিন কয়েকদিন আগেই বুক হয়ে গেছে, এখন মূলত ডেকই যাত্রীদের প্রধান ভরসা। বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিশেষ করে মালামাল বহনের জন্য নতুন ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের চোখেমুখে ছিল বাড়ি ফেরার আনন্দ আর স্বস্তি। কষ্ট হলেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারার প্রত্যাশায় সবটুকু ক্লান্তি ভুলে নদীপথের এই চিরাচরিত ঈদযাত্রায় শামিল হয়েছেন হাজারো মানুষ।
এমএন
রাজধানী
রাজধানীতে আজ কোথায় কী
রাজধানীতে প্রতিনিয়ত সড়কে বের হয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে স্থবির হয়ে পড়ে নানা সড়ক। তাই সকালে বের হওয়ার আগে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি তা জেনে নিন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিনের শুরুতেই দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচির তালিকা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে গরিব ও দুস্থদের মাঝে সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে ঈদ উপহার পৌঁছে দেবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি।
জামায়াত আমিরের কর্মসূচি
মঙ্গলবার ১৭ মার্চ বেলা ১১টায় অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের কর্মসূচি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করা হবে।
নগর ভবনে বেলা ১১টায় এটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এমএন
রাজধানী
ঢাকাস্থ ফুলবাড়ীয়ান ফোরামের নতুন কমিটি গঠন
রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত ফুলবাড়ীয়াবাসীদের সংগঠন ঢাকাস্থ ফুলবাড়ীয়ান ফোরাম-এর নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীর নাবিস্কো এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৬–২০২৭ সেশনের জন্য এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ ৬, ফুলবাড়ীয়া আসনের নবনির্বাচিত এমপি অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় বসবাসরত ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় সংসদীয় ধারায় হ্যাঁ–না ভোটের মাধ্যমে উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়। উপস্থিত জনতার পক্ষ থেকে কেউ কোন নাম প্রস্তাব করলে তার উপর হ্যাঁ-না ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে সর্বসম্মতিক্রমে এমপি অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলনকে ঢাকাস্থ ফুলবাড়ীয়া ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত করা হয়।
নবগঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন—
- সভাপতি: মো. সাঈদুর রহমান
- সহ-সভাপতি: শায়খুল সাকিব
- সেক্রেটারি: এইচ এম জোবায়ের
- সহকারী সেক্রেটারি: মাসুদ রানা
- সাংগঠনিক সম্পাদক: মেজর (অব.) মো. রাজিবুল হাসান
- কোষাধ্যক্ষ: মো. এনামুল হক
- দপ্তর সম্পাদক: আবু হাসানাত
- আইন সম্পাদক: অ্যাডভোকেট খাদেমুল ইসলাম
- প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক: কাজিম ফরহাদ
- সমাজসেবা সম্পাদক: মো. সুরুজ্জামান
- ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক: মো. রেজাউল করিম
জানা গেছে, নবগঠিত এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন বলেন, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নানা দিক থেকে সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। কর্মসংস্থানের কারণে উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীতে বসবাস করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁদের মাঝে সম্পর্ক বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করবে এই ঢাকাস্থ ফুলবাড়ীয়ান ফোরাম। এ সময় তিনি নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ময়মনসিংহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ব্যাংকার মনিরুজ্জামান মনির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সংগঠক মোতাসিম বিল্লাহ, বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাড. রেজাউল করিম প্রমুখ।
এমএন
রাজধানী
চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দ্রব্যমূল্য অর্ধেক কমে যাবে: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘‘চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দ্রব্যমূল্য অর্ধেক কমে যাবে”। পল্টন থানার উদ্যোগে রোববার (১৫ মার্চ) শান্তিনগর এলাকায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে ভর্তুকির মাধ্যমে হলেও মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে। তবে সেই ভর্তুকি ঋণ করে নয়, বরং সরকারের দলীয় তহবিল বা চাঁদার কমিশন থেকে দিলে জনগণ উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে সরকারঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি দায়ী। এসব বন্ধ করতে পারলে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে মানুষের দূর্ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্রতার হার বেড়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্টন থানা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব, পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমান শাহীন, এনামুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য আ.ফ.ম ইউসুফ, নজরুল ইসলাম মজুমদার,শামীম হাসনাইন, নুরুল আবসার প্রমুখসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “জুলাই সনদ শোষণের হাত থেকে মানুষের মুক্তির সনদ।” ফ্যাসিবাদমুক্ত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না তারা মূলত এদেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। শেখ হাসিনার তৈরি সংবিধান রক্ষায় যারা উঠেপড়ে লেগেছে তারা শেখ হাসিনার মতোই মানুষের উপর জুলুম করবে, দুর্নীতি করবে। এ সময় তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান ও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে জাতির সামনে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যেই দিন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে সেই দিন হাসিনার সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা হবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি আপনার সরকারকে জনগণের সরকার মনে করেন তবে বেগম জিয়ার আকাঙ্খায় উজ্জীবিত হয়ে জাতির প্রত্যাশা বাস্তবায়নে হাসিনার তৈরি সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যেকোনো কাজে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করবে। তবে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না হলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এমএন




