জাতীয়
ততটুকু সংস্কার হবে যতটুকু আমলাতন্ত্র চায়: ইফতেখারুজ্জামান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে যত সংস্কার চাই না কেন, ততটুকু সংস্কার হবে যতটুকু বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র চায়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ এবং দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২৫ প্রদান উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সবগুলো সংস্কার কমিশন থেকেই আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয় নাই। তাহলে শুধু রাজনৈতিক শক্তিকে দায় দিয়ে কী লাভ।
এদিন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি। সুপারিশ গুলো হলো-
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সকল সুপারিশ অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করতে হবে। কমিশনের সুপারিশ মেনে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করে স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সকল গণমাধ্যমকে জাতীয় বা বাংলাদেশ সম্প্রচার সংস্থা গঠন করে, পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।
সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও শ্রম আইন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী করতে হবে; নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি চাকরির সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী মাঝারি ও বৃহৎ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করে সবার জন্য শেয়ার ওপেন করে দিতে হবে। আর ছোট আকারের প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের শেয়ার প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। ভুয়া ও অপতথ্য মোকাবিলায় প্রতিটি গণমাধ্যমের নিউজরুমে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। প্রয়োজনে ফ্যাক্ট চেকার পদে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ একাধিক কর্মী নিয়োগ দিতে হবে।
প্রতিনিয়ত ভুয়া ও অপতথ্য, গুজব ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারী সকল গণমাধ্যমকে (অনলাইন পোর্টাল ও মেটার সকল প্ল্যাটফর্মে) প্রাথমিকভাবে সতর্কতা ও জরিমানাসহ লঘু দণ্ডের পরও অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে কিংবা মালিকপক্ষ অপ্রকাশিত থাকলে সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফটোকার্ড তৈরি ও প্রচারের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সংবলিত ফটোকার্ডগুলোতে কিউআর কোড সিস্টেম বা যে কোনো পরিচয়সূচক চিহ্ন রাখতে হবে, যেন সহজেই যাচাই করা যায়।
গণমাধ্যমকে নারী, আদিবাসী, সংখ্যালঘু বিষয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা যাবে না। সকল প্রকার ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা-আঘাত থেকে সকল গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ সুগম করতে হবে।
এমকে
জাতীয়
মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
নারীদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত’ ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় খুলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই যে প্রায় ২০ কোটি, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এ জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে, যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার কথা বললেও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
এমএন
জাতীয়
সারাদেশে মদ-জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান কবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সারাদেশে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পর থেকেই এ বিষয়ে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপও চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকায় ‘দ্য এস লাউঞ্জ’ নামের একটি সিসাবারে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সেখানে মাদকদ্রব্য ব্যবহারসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে জুয়া ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয়
ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা কমলো ৬ মাস
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে দিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর এ বিশেষ মর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন না; তাকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই চলতে হবে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য ভিভিআইপি হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিলো। তবে পরবর্তীতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন-এর আওতায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সে মেয়াদ কমিয়ে ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা ও প্রটোকল সুবিধা ভোগ করবেন। বর্তমানে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে এসএসএফ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তার উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি, দেশ-বিদেশে সফরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক আগে নিজেকেই ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন অধ্যাপক ইউনূস। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে ওই গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়-এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্নও উঠেছে।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো, দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ত্যাগ করেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী আগস্টের পর থেকে তার জন্য আর কোনও ভিভিআইপি প্রটোকল বা বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা বহাল থাকবে না—যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয়
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সর্বদা পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের জনগণ ও তৎকালীন সরকার বাংলাদেশকে অকুন্ঠ সমর্থন জুগিয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনিস্টার ডেমোক্রেসিকে অনুসরণ করে থাকে এবং ১৯৯১ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
স্পিকার আরও বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক, যেখানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমান সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। বিশেষ করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বর্তমানে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় হাইকমিশনার বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ব্রিটিশ সরকার যেকোনো ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতকে নিরুৎসাহিত করে এবং তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক অভিবাসন সংকট ও এর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই: চিফ হুইপ
জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং জনগণের ম্যান্ডেট পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। বর্তমান সরকারের সামনে এ ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্য চারজন হুইপও উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত হুবহু বাস্তবায়ন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কামার, কুমার, তাঁতী, স্বর্ণকারসহ সব পেশার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল দর্শন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি মানুষের কাজ না থাকে এবং কেউ না খেয়ে থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সাফল্য কোথায়?
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্নই প্রথম। এই চাহিদা পূরণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ অপরিহার্য। গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতা থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। অন্যথায় সমাজের সব স্তরের মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় দেশে দমন-পীড়নের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও অর্থনীতি ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। তবে গত দেড় দশকে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদ ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদসহ ১৫৩টি অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের আওতায় শপথ নিয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংশোধন জরুরি।
তিনি জানান, সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন, যাদের সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষ হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বিরোধী দলের অনেক যোগ্য সদস্যের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, মাত্র দুই মাস ১২ দিনের মধ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করাও একটি বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএন



