জাতীয়
দুর্নীতি আছে, দখল-চাঁদাবাজিও চলছে: টিআইবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে নাকি কমেছে, সে বিষয়ে তুলনামূলক তথ্য নেই। এটি নিয়ে টিআইবি কাজ করছে। কিন্তু এটা বলতে পারি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। রাজনৈতিক ও সরকারি স্পেসের ক্ষমতাকে অপব্যহার করে বিভিন্ন মহল দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। এটা উদ্বেগজনক।’
দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে নাকি কমেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
‘সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়নে টিআইবির সুপারিশ’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে আরও কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সে ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’ টিআইবি বর্তমান সরকারের পুরো মেয়াদের ওপর একটি বিশ্লেষণ তৈরির কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা এমন অবস্থায় আছি যে ৫৪ বছর, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের যে জঞ্জাল, সেটা কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশে সুশাসিত, গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজটা চট করে জাদুর কাঠি দিয়ে সম্ভব নয়। এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়, এটা মানতে হবে। তবে এই সুযোগটা তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ রাজনৈতিক দলগুলো কতটা নেবে, সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ; একইভাবে তাদের কার্যপদ্ধতির মধ্যে অর্থ, পেশি ও ধর্মের প্রভাবটা নির্বাচনের আগে ও পরে কতটুকু তাদের প্রভাবিত করবে, সেটার ওপর ফলাফল অনেকটা নির্ভর করবে।
ব্যবসা খাতের সংস্কার নিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা অনেকটা রাজনৈতিক দলের সংস্কারের মতো। এটা ভেতর থেকে আসতে হবে, তাদের নিজেদেরই করতে হবে। ব্যবসায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে চূড়ান্ত বিবেচনায় ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন। এটা না করা গেলে একশ্রেণির ব্যবসায়ী লাভবান হন, অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যেটা গত ১৫ বছরে দেখা গেছে। এর ফলে রাষ্ট্রকাঠামো দখল হয়েছে। কর্তৃত্ববাদ বিকাশের অন্যতম পিলার (স্তম্ভ) হিসেবে ব্যবসা খাতের একাংশ কাজ করেছে। সেই অবস্থার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটাই তারা চাইছেন।
আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে রাখা উচিত এমন ৫২টি প্রস্তাব সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে টিআইবি। এর মধ্যে প্রথম সাতটি প্রস্তাব পড়ে শোনান ইফতেখারুজ্জামান।
এগুলোর মধ্যে আছে জুলাই জাতীয় সনদ ও এর বাইরে থাকা সংস্কার কমিশনগুলোর বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা; জুলাই সনদসহ অন্যান্য সংস্কার কমিশনের ওপর ভিত্তি করে যেসব অধ্যাদেশ জারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ও কার্যকর ও অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলের সব হত্যা, অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অব্যাহত রাখা।
বাকি প্রস্তাবগুলো পড়ে শোনান টিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মো. জুলকারনাইন এবং গবেষণা ও নীতি পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান। এসব প্রস্তাবে অনিয়ম–দুর্নীতি প্রতিরোধ, দলের কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচারের চর্চা, সম–অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংক–আর্থিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও পরিবেশ–জলবায়ু খাতে সংস্কার, বেসরকারি খাতে সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য সাত দফা ‘পরিবেশ এজেন্ডা’ দিলেন রিজওয়ানা হাসান
স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা, দূষণ ও পরিবেশগত সংকট দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পুরোপুরি সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তবে বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ সমাধান প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য সাত দফার একটি সুসংহত ‘পরিবেশ এজেন্ডা’ তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা বলেন, “চীন যে সমস্যা ১০ বছরে শেষ করতে পারে না, তা বাংলাদেশের এই সরকারের কাছে দেড় বছরে প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমস্যার পাহাড় রাতারাতি সরানো সম্ভব নয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—এখন প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি কাঠামোগত সমাধানের পথ তৈরি করছে। এই সংস্কার কার্যক্রমকে টেকসই করতে এবং পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে ভালো কথার অভাব নেই, কিন্তু বড় ঘাটতি বাস্তবায়নের রোডম্যাপে। রাজনৈতিক সস্তা জনপ্রিয়তার বাইরে এসে দায়বদ্ধ আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—তা স্পষ্ট না হলে জনগণ কিছুই পায় না।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত চারটি নির্বাচনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে বারবার অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে তা আজও পূরণ হয়নি। এই বাস্তবতা থেকেই শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
আগামী সরকারের জন্য সাত দফা পরিবেশ এজেন্ডা
ভবিষ্যৎ সরকারের করণীয় হিসেবে উপদেষ্টা সাতটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেন—
১. বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ: ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি মান ইউরো-৪ থেকে ইউরো-৬ এ উন্নীত করে বায়ুমান উন্নয়ন।
২. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: পুলিশ সার্জেন্টদের সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দিয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করে হর্ন ব্যবহারের সংস্কৃতি বদলানো।
৩. বন পুনরুদ্ধার: দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক বন অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধ রাখা।
৪. বন্যপ্রাণী কল্যাণ: বন্যপ্রাণী ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ।
৫. শিল্প দূষণ রোধ: অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
৬. আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা: তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজসহ বড় প্রকল্পগুলোর ফিজিবিলিটি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা।
৭. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বিভাগীয় শহরগুলোতে উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে সার উৎপাদনের উদ্যোগ।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশে প্রথমবারের মতো যানবাহন স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘স্ক্র্যাপ পলিসি’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বায়ুদূষণ কমাতে সরকার ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
এছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) থেকে ২০ হাজার একর বনভূমি এবং কক্সবাজারে প্রশাসনের ট্রেনিং সেন্টারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৭০০ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চলছে।
বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে ৫ থেকে ৭ মিটার পলিথিন স্তরের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, পলিথিনমুক্ত বাজার চাইলে কেবল সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না—জনগণকেও আচরণ বদলাতে হবে।
ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি পরিবেশবান্ধব কাজ করা হয়, আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু পরিবেশের বিরুদ্ধে গেলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার পরিবেশের যে সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে, পরবর্তী সরকার সেটিকে মূল রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় পরিণত করবে।
এমএন
জাতীয়
দ্রুত পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর আহ্বান ইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারদের দ্রুত ভোট দিয়ে হলুদ খাম ডাকযোগে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে ইসি। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ভোটারদের ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের নিকট পৌঁছালেই ভোট গণনায় সম্পৃক্ত হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এতে বলা হয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ভোটারগন ব্যালট প্রাপ্তির পর যত দ্রুত সম্ভব ভোটদান সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে হলুদ খাম জমা দিন।
রিটার্নিং অফিসারের নিকট ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট পৌঁছালেই শুধুমাত্র ভোট গণনায় সম্পৃক্ত হবে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
এমএন
জাতীয়
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি: শিক্ষা উপদেষ্টা
শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হলে তাদের সঙ্গে সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য। সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই বৈষম্য কমানো সম্ভব।
শনিবার আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবরার বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা টোকেনিজম চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের অর্থে পরিচালিত হয় এবং সেই জনগণের বড় অংশ তরুণ সমাজ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সময় ছিল যখন তার প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কায় ছিল, কিন্তু তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্য শিক্ষার জায়গা নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের ওপর জোর দিতে হবে।
জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এই ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আসন্ন নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।
বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশে প্রতিনিধি সুজান ভাইজ।
এমকে
জাতীয়
চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি
কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডিবি প্রধান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলিসহ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বিষয়ে মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কাঁচাবাজারের বড় জায়গা। সেখানের দখল বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।
দলীয় লোকজনের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন নামে ৮-৯টি গ্রুপ চাঁদা তোলে। এই সিন্ডিকেটটি আমরা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা অচিরেই এটা নিয়ে অপারেশন করবো। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিনাস নামের একজনের নাম পাওয়া যাচ্ছে। যিনি দেশের বাইরে থাকে। তার নামেও চাঁদা তোলা হয়।
এই বিনাসের অর্থায়নে মোছাব্বির হত্যাকাণ্ড হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিলীপ ওরফে বিনাস এমন একটি নাম এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যেই আসামিগুলো ধরা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ওদের কথায়ও উঠে এসেছে, দাদা আছে, দাদা দেখবে। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে, আবার তারাও কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে যাচ্ছে। তারা দুইজনই গুলি করেছে।
বিনাস কে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিনাস আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী। তিনি দেশের বাইরে আছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে পারিনি।
হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা নিজেদের পরিচয়ে সব জায়গায় যেতে পারে। সামনে নির্বাচন। এই মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য অনেকে তৎপর আছে। এই মাসে আমরা সর্বাধিক সংখ্যক প্রায় ১৩টির মতো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছি। অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল নরসিংদী থেকে আরেকজন কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তারদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।
এমকে
জাতীয়
ফেব্রুয়ারি মাসে ৮ দিনের ছুটি পাবেন যেভাবে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস ফেব্রুয়ারির শুরুতেই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। পবিত্র শবেবরাত এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দফায় মোট ৮ দিনের ছুটির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে এই লম্বা ছুটি উপভোগ করতে প্রয়োজন হবে সামান্য একটু কৌশলী পরিকল্পনা।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে মুসলম্যানদের পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। সে উপলক্ষ্যে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।
এ অবস্থায় কেবল এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের ছুটি কাটানো যাবে। কেননা এর পরের দুদিন ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। সুতরাং মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দুদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ এখানে মিলছে চার দিনের ছুটি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।’
অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
এমকে



