রাজনীতি
একদল অপকর্ম করে চলে গেছে, আরেক দল দায়িত্ব নিয়েছে: জামায়াত আমির
গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে সিলেটে সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপিকে কৌশলে তুলাধুনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, একদল অপকর্ম করে চলে গেছে, আরেক দল বাংলাদেশে অপকর্মের দায়িত্ব নিয়েছে। একদল চাঁদাবাজি করে জনগণের ব্যানার পুড়িয়েছে, আরেকদল আবার তার চাইতে পেশিশক্তিতে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। একদল দখলদার বনতে গিয়ে জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছে, আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হয়ে পড়েছে। কেউ বাঁকাপথে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বলব- সেই সূর্য আর উঠবে না।
আজ শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের মানুষ মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ, বর্গীরা চলে যাওয়ার পর দেশের ভেতরে যারা ছিলো তারা জনগণের সম্পদ ছু’ মেরে চলে গেছে। দেশে দেশে বেগমপাড়া তৈরি করেছে। এভাবে অপকর্মের দায় নিয়ে ফ্যাসিস্টরা পালিয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিজমের কালো ছায়া বাংলাদেশ থেকে যায়নি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী আশা করেছিল, অতীতে অপকর্মের অপরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিবিদরা নতুন রাজনীতি শুরু করবেন। কিন্তু তারা পুরোনো ধারায় পড়ে আছে। তারা সংস্কারে রাজি না, তারা সনদ বাস্তবায়নে রাজি না। গণভোটেও রাজি ছিল না। তার পরে ধাক্কাইয়া রাজি হয়।
আগামী নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি বিএনপির এক নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, তারা নির্বাচন বলে চিৎকার করে জনগণকে বেহুঁশ করে ফেলেছিল। এখন ভিন্ন সুরে কেউ কেউ বলছেন। এসব ভালো নয়, বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে আগামীতে তাকে লাল র্কাড দেখাবে। এই লাল কার্ড থেকে যদি বাঁচতে গিয়ে নির্বাচনে প্রহসন করে তাদের সব ষড়যন্ত্র ভন্ডুল করে দেবে। কেউ যদি আবার চিন্তা করে বাকাপথে ক্যু করে ক্ষমতায় যাবে; তাদের বলবো- বন্ধু সেই সূয আর উঠবে না। নতুন সূর্য কোরআন হাতে নিয়ে উঠবে। আগামী দেশ হবে দেশপ্রেমিক জনতার।
ইসলামী অন্যদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের ঘর সেখানে নয়। ঘরে ফিরে আসুন। আপনারা আমাদের ভাই। দেশের মুক্তিপাগল মানুষ জানে আগামীতে তারা কোথায় ভোট দেবে। এখন কেউ রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না, অমুক দেশ, তমুক দেশকে ভয় পায় না। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক এই দেশ জনগণের সম্পত্তি।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহানগর জামায়াতের নায়বে আমির নুরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়বে আমির আব্দুল মজিত আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়বে আমির মুজিবুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মোসাদ্দেক বিল্লাহ জালানী, খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম জালালী, নেজামে ইসলামের আব্দুল মাজেদ আতহারীসহ বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়রা নেতারা।
চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে বলেন, যারা ৫৩ বছর আমাদের জিম্মি করে রেখেছিল তারাই আজ নিরাপদ নয়। আজ চাঁদাবাজদের পক্ষে জনগণ নেই। যারা যতই পরিকল্পনা করুক জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হবেই। আগামীতে ইসলামী শক্তির উত্থান ঘটবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যারা জুলাই যুদ্ধে রক্ত দিয়েছে তাদের রক্ষের উপর নতুন করে ফ্যাসিজম জন্ম দেওয়া যাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটে যাদের আপত্তি তারাই লুটপাটের পথ খোঁজছে। কিন্তু এ দেশে ইসলাম ও দেশপ্রেমিক জনতা তা কখনো হতে দেবে না।
সমাবেশে বিভাগের জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে যোগ দেন।
রাজনীতি
আগামী নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের স্বার্থে আগামী নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পলিসি সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
গত ১৭ বছরে দেশের জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। এসময় ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্নীতিবিরোধী, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংস্কারের পক্ষে অবস্থানের শর্তে যে কোনো রাজনৈতিক দলকে আগামীর অগ্রযাত্রায় সঙ্গী করবে জামায়াত।
একটি উন্নত বাংলাদেশের জন্য দেশের সকল অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ এবং সহযোগী হবার আহ্বান জানান ডা. শফিক। অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ। জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করতেই এই আয়োজন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামিটে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ে পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব আলোচনায় একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে।
দিনব্যাপী এই সামিটে বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ উপস্থাপন, প্যানেল আলোচনা এবং মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নীতিগত সুপারিশ প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এমকে
রাজনীতি
তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যান অফিসে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য খায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ড. মাহাদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি।
সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এমকে
রাজনীতি
নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমাবর বেলা ১১টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে বিষয়গুলোতে সমস্যা মনে হয়েছে, তা আমরা রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
দলীয় কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে যখন বাছাই হয়, তখন কিছু সমস্যা থাকে। এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে বিএনপি কাজ করে যাবে।
এর আগে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে তার সামাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
রাজনীতি
শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের পিতার নাম মনসুর রহমান। তিনি পেশায় ছিলেন একজন রসায়নবিদ।
বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান পিতার সঙ্গে তার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সব সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন। দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করেছেন।
অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন। জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তার গড়া সে রাজনৈতিক দল তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। আর বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত হন। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা এবং বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নেতৃত্বগুণে তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসিকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি যুদ্ধ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তিনি। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের বিশ্ব মানচিত্রে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে। জাতির মর্যাদাকেও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত করেছেন তার শাসনামলে।
জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তার পরিচিতি সর্বজনবিদিত। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা। তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কয়েকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল।
শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা–
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ আজ ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এদিন দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিনব্যাপী পালিত হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এ আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।
এমকে
রাজনীতি
২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমঝোতায় পাওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি তিনটি আসনে শিগগিরই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে দলটি জানিয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থীদের নাম ও ছবিসংবলিত পোস্টার পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ওই প্রার্থীদের পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছে দলটি।
চূড়ান্ত হওয়া এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা–১১ আসনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রংপুর–৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা–৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়–১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা–৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাওয়ারী ও নোয়াখালী–৬ আসনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচন করছেন।
ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
দিনাজপুর–৫ সংসদীয় আসনে মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী–২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ঢাকা–১৯ আসনে দিলশানা পারুল, ঢাকা–২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ, কুড়িগ্রাম–২ আসনে আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ–১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল–৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, ঢাকা–৯ আসনে জাবেদ রাসিন, গাজীপুর–২ আসনে আলী নাছের খান, মুন্সিগঞ্জ–২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, পিরোজপুর–৩ আসনে শামীম হামিদী এবং নাটোর–৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়বেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ২৭টি আসনে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। আরও তিনটি আসনের প্রার্থী দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয় জামায়াত–এনসিপিসহ ১০টি রাজনৈতিক দল। এই নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটি এই সমঝোতায় না এসে এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়, বাকি ৩২ আসনে তারা অন্যদের সমর্থন দেবে।
এই নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হিসেবে এনসিপি ৩০ আসনে নির্বাচন করছে, যদিও তাদের ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর এনসিপি তাদের আসন বাড়াতে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে। এনসিপি সূত্র বলছে, আসন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে জামায়াত এখনো ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করার কথা বলছে। এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা দেখতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
এমকে



