জাতীয়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাঁড়াশি অভিযান, ১১৮৬ ভুয়া শিক্ষক চিহ্নিত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাঁড়াশি অভিযানে ধরা খেলো ১১৮৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক। এদের মধ্যে চার শতাধিক শিক্ষকের সনদ জাল ও ভুয়া এবং তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিক্ষকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা হিসেবে তাদের নেওয়া ২৫৩ কোটি টাকা আদায় করতে সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। এ ছাড়া সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ৭৯৩ একর জমি উদ্ধারেও সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ডিআইএ সূত্র জানায়, দেড় দশক ধরে জাল সনদ ধরার ব্যাপারে কার্যকর কোনো অভিযান হয়নি। বরং বহু ক্ষেত্রে জাল সনদ ধরা হলেও ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাল সনদের সাড়ে ১২ হাজার আটকে থাকা ফাইল নতুন করে যাচাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ চিত্র, যেখানে ১২ জন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি চক্র শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ভুয়া সনদধারীদের ছাড় দিত। এখন এসব সনদ যাচাই করে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিআইএ অডিটের নামে কোনো কর্মকর্তা যেন অর্থ লেনদেন করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কতা জারি করেছে অধিদপ্তর।
নথি বলছে, ডিআইএ গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাল সনদ বিরোধী অভিযানে ১ হাজার ১৮৬ জনকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৭৭৯ জন, খুলনা বিভাগে ১৭৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন ও ঢাকা বিভাগে ৭০ জন। পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ আরও ১৩৪ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের তালিকা পাঠিয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা অধিদপ্তর আলাদা তদন্ত করে ১২০ জন শিক্ষকের জাল সনদ বাতিল করে তাদের ইনডেক্স কর্তন করেছে। ধরা পড়া জাল সনদের মধ্যে রয়েছে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন, জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রয়েল, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ, যেটাকে নেকটার সনদ বলা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন একাডেমিক সনদও রয়েছে। চিহ্নিত হওয়া জাল সনদের মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ রয়েছে ১৪৮টি ও শিক্ষক নিবন্ধন বা এনটিআরসিএ সনদ ১২০টি। বাকিগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সনদ।
কর্মকর্তা জানান, ডিআইএর প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংস্থাটি গত এক বছরে চার শতাধিক শিক্ষকের জাল ও ভুয়া সনদ চিহ্নিত করে তাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আরও তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ৭৯৩ একর জমি উদ্ধারে সুপারিশ, ভুয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট, আইটিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রায় ২৫৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করেছ সংস্থাটি।
জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এ দপ্তরের মূল কাজ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক, প্রশাসনিক ও নিয়োগের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কি না, তা অডিট করা। পাশাপাশি ওইসব প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক সুপারভিশন ঠিক আছে কি না, দেখে সুপারিশ করা। কিন্তু বিগত সময়ে এ কাজটি যথাযথভাবে হয়নি। আমি যোগদান করেই জাল সনদ ধরতে একটি সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছি। সেই অভিযানে চার শতাধিক ভুয়া সনদ, তিন শতাধিক অগ্রহণযোগ্য সনদ চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সামনে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, সুপারিশে এসব শিক্ষকের এমপিও বাবদ নেওয়া অর্থ (বেতন-ভাতা) ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এখন নিয়মানুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার আগে শিক্ষাগত সব সনদ যথাযথভাবে যাচাই করার কথা। কিন্তু জাল সনদ জানার পরও অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিষয়টি চেপে যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। ফলে সনদ জাল হওয়ার পরও তারা এমপিওভুক্ত হয়ে যান। পেতে থাকেন বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অর্থও। তবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে অনলাইনে সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার পর জাল সনদের হার কিছুটা কমেছে।
মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান ডিআইএর অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একজন শিক্ষক যদি জাল সনদে চাকরি নেন, তিনি শুধু সরকারের সঙ্গে প্রতারণা নয়, তার পুরো চাকরি জীবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। এসব শিক্ষককে ধরতে অধিদপ্তরের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আমরা তা-ও করতে প্রস্তুত আছি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) জহিরুল ইসলাম বলেন, জাল সনদধারীদের একটি তালিকা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে জমা হয়েছে শুনেছি। তালিকায় থাকা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি ও নিয়োগ বাতিল এবং অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে চাই আমরা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন কাজ করার সুযোগ না পায়।
ঘুষ নিয়ে জাল সনদ ছাড়, সাড়ে ১২ হাজার ফাইলে বাণিজ্য: সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিআইএতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের ফাইল আটকে রেখে এক ধরনের বাণিজ্যে হতো। কয়েকজন পরিদর্শক সিন্ডিকেট করে জাল সনদের নামে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেটে অন্যতম সদস্য ছিলেন ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা সাবেক পরিদর্শক ড. এনামুল হক ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মাসুম। সিন্ডিকেটে আরও ছিলেন পরিদর্শক কে এম শফিকুল ইসলাম, মনকিউল হাসানাত, দেলোয়ার হোসেন, শাহিনুর ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা, আশরাফুল রহমান খান, রিপন মিয়া, সরকার মোহাম্মদ শফিউল্লাহ দিদার, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ ওয়ায়েছ আলকারনী মুন্সী। তারা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ফাইল আটকে রেখেছিলেন, যার বেশিরভাগই ছিল ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের ফাইল। এসব ফাইল নতুন করে যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র।
এ বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, একটি দপ্তরে প্রায় ১২ হাজারের বেশি ফাইল অনিষ্পত্তি অবস্থায় ছিল। এখন সেই ফাইল যাচাই করতে গিয়ে দেখি বেশিরভাগ ফাইল জাল সনদ-সংক্রান্ত। এসব ফাইলে কী হয়েছিল তা বুঝে নেন।
ডিআইএর কড়া সতর্কতা, অভিযোগ জানালে পরিচয় গোপন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) পরিদর্শনের নামে যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে বলেছে। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অফিস আদেশ ছাড়া কোনো পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না এবং এই কাজের জন্য অর্থ লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
ডিআইএ বলেছে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা পরিচালনা করে। এই অডিট চলাকালীন যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি পরিদর্শন ও নিরীক্ষার নামে কোনো ধরনের টাকা দাবি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অধিদপ্তরকে মোবাইল বা ইমেইলে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়।
এমকে
জাতীয়
জানা গেল শবে বরাত কবে
দেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
সভায় জানানো হয়, সোমবার দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ২১ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শবে বরাত পালিত হবে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্পারসো থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামুল কবীর, উপ-ওয়াকফ প্রশাসক মো. আকবর হোসেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মিয়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও ইসলামিক শিক্ষা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ ফারুক ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আবদুল গাফফার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে আহ্বান জানিয়েছে: প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন; যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।
তিনি জানান, এই অর্জনকে স্থায়ী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে জুলাই সনদ। সনদ কার্যকর করার জন্য জনগণের সম্মতি অপরিহার্য, তাই আয়োজন করা হয়েছে গণভোট।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অর্থ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদলের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে।
তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন না।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান।
জাতীয়
বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার রাশিয়ার
বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩০ হাজার টন পটাশ সার হস্তান্তর করেছে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উরালকেম। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উরালকেম বাংলাদেশকে এই সার উপহার হিসেবে হস্তান্তর করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও সার সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট কৃষি খাতে অনুভূত হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই উদ্যোগ গঠনমূলক বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
কৃষি উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কাছে ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সারের মজুত রয়েছে মোট ১০.৩৫ লাখ টন, যা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মজুত।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিগত তিন বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধান উৎপাদন বেড়েছে ৬ শতাংশ, আলু উৎপাদন ১৪ শতাংশ, পেঁয়াজ উৎপাদন ২২ শতাংশ, সবজি উৎপাদন ৩.৭০ শতাংশ এবং সরিষা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি খোজিন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড থমাস, রাশিয়ার উরালকেম গ্লোবাল কোম্পানির হেড অব সেলস দিমিত্রি বোলদিরেভ ও বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. ওসমান ভূঁইয়া।
জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন; যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।
তিনি জানান, এই অর্জনকে স্থায়ী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে জুলাই সনদ। সনদ কার্যকর করার জন্য জনগণের সম্মতি অপরিহার্য, তাই আয়োজন করা হয়েছে গণভোট।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অর্থ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদলের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে।
তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন না।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান।
জাতীয়
সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয় : অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, তার অধিকাংশই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশের নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পুলিশের নথিতে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পোস্টে বলা হয়, প্রতিটি ঘটনাই উদ্বেগজনক হলেও তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক নয় বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল, পাশাপাশি অল্পসংখ্যক অন্যান্য অপরাধও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে প্রভাবিত করে এমন অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত—যার মধ্যে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং পূর্ববর্তী ব্যক্তিগত শত্রুতাজনিত ঘটনাও রয়েছে।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং এগুলো মোকাবিলার সম্মিলিত প্রচেষ্টার দ্বারা নির্ধারিত হয়। এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেলেও এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য- মুসলিম, হিন্দু ও অন্য সবার জন্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিদিন উন্নতির পথে রয়েছে।



