Connect with us

ধর্ম ও জীবন

শেষ হলো টঙ্গীর পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা

Published

on

সূচক

তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী পুরানাদের জোড় ইজতেমা আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ইজতেমা ময়দান। দোয়ায় অংশ নেন প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মুসল্লি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এদিন সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে দোয়া শুরু হয়ে ৯টা ১৩ মিনিটে শেষ হয়। ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে কম্পিত হতে থাকে সমগ্র টঙ্গী ময়দান। দোয়ার মুহূর্তে মাঠজুড়ে কান্নার রোল পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

মোনাজাত পরিচালনা করেন পাকিস্তানের মাওলানা আহমেদ বাটলা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

তিনি জানান, এবারের জোড়ে ২৭টি দেশ থেকে ৭৩২ জন বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ হলো- পাকিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, কানাডা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, তিউনিসিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নাইজার, আফগানিস্তান, জার্মানি, জাপান, চাঁদ, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।

ইজতেমা চলাকালে মোট ৬ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

এমকে

শেয়ার করুন:-

ধর্ম ও জীবন

রমজানের মাঝপথে আত্মজিজ্ঞাসা

Published

on

সূচক

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই রমজান মাসের অর্ধেক সময় আমরা ইতিমধ্যে অতিক্রম করে এসেছি। যেই মাস আমাদের সামনে উপনিত হয়েছিল ফিরে আসার আহ্বান নিয়ে, শুদ্ধ হওয়ার আহ্বান নিয়ে, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের আহ্বান নিয়ে। প্রথম রোজার দিনে আমাদের অন্তরে যে আবেগ, যে সংকল্প, যে অশ্রুসিক্ত আবেদন ছিল; মধ্য রমজানে দাঁড়িয়ে কি আমরা সেই একই উষ্ণতা অনুভব করছি? নাকি ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর প্রাত্যহিক অভ্যাসের চাপে সেই উষ্ণতা কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছে?

সময় সত্যিই দ্রুত বয়ে যায়। দিনগুলো, সাহরি ও ইফতারের বরকতময় সময়গুলো গড়িয়ে যাচ্ছে, তারাবির রাকাতগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আমাদের হৃদয়ের ভেতর কি কোনো পরিবর্তন ঘটছে? রোজা কি কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকছে, নাকি তা অন্তরকে নরম করছে, চোখকে সংযত করছে, জিহ্বাকে সত্য ও সৌজন্যের দিকে ফিরাচ্ছে? আমরা কি আগের চেয়ে একটু বেশি ধৈর্যশীল, একটু বেশি বিনয়ী, একটু বেশি দয়ালু হতে পেরেছি? কারণ রমজান তো আত্মার জাগরণের মাস।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এ মাসে আকাশের দরজা খোলা রয়েছে, রহমত নাজিল চ্ছে, গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ কি আমরা পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করছি?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

তাই রমজানের মাঝপথে এসে মোজাসাবা জরুরি। নিজেকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন যে, আমার নামাজে কি একাগ্রতা বেড়েছে, কোরআনের আয়াত কি হৃদয়কে বিগলিত করছে, অন্যায়ের প্রতি আমার অবস্থান কি দৃঢ় হয়েছে?

আসলে এই সময়টা এক নীরব মোড়। সামনে শেষ দশক, যেখানে রয়েছে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান আর ইতিকাফের নির্জনতা।

এর আগে যদি আমরা নিজের ভেতরে তাকাই, তাহলে বাকি সময়টুকু নতুন উদ্যমে সাজানো সম্ভব। তাই রমজানের মাঝপথে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো; আমরা কি এই মাসের প্রকৃত উদ্দেশ্যের দিকে এগোচ্ছি?

পবিত্র কোরআনে রোজার উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে: ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা আয়াত : ১৮৩)

এ আয়াতে রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন বলা হয়েছে। যার ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) লিখেছেন, রোজা মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এবং পাপ থেকে বিরত থাকার মানসিক শক্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, রোজা শয়তানের প্রভাব দুর্বল করে, কারণ তা মানুষের কামনা-বাসনাকে সংযত করে। (তাফসিরে ইবনে কাসির ২/১৮৩)
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, তাকওয়া হলো আল্লাহর ভয়কে অন্তরে ধারণ করে তাঁর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা। রোজা যেহেতু গোপন ইবাদত, তাই এতে রিয়া বা লোকদেখানো প্রবণতা কম থাকে; ফলে এটি সরাসরি তাকওয়া গঠনে ভূমিকা রাখে। (আল-জামি‘ লি আহকামিল কুরআন, ২/১৮৩)

এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের রোজা কি সত্যিই তাকওয়া তৈরি করছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)
এই হাদিস আমাদের সামনে আয়নার মতো সত্য তুলে ধরে।

রোজা শুধু খাদ্য ত্যাগের নাম নয়; এটি জিহ্বা, চোখ, কান ও অন্তরের সংযমের নাম। যদি রমজানের মাঝপথে এসে আমরা দেখি যে, মিথ্যা, গীবত, হিংসা, দুর্নীতি বা অন্যায় আচরণ আমাদের জীবন থেকে কমেনি, তবে বুঝতে হবে রোজার আত্মিক ফল আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: ‘কত রোজাদার আছে, যার রোজা থেকে প্রাপ্তি শুধু ক্ষুধা।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৯০)
এ হাদিস আমাদের ভাবিয়ে তোলে। রোজা যদি চরিত্র গঠন না করে, তাহলে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। তাই মাঝপথে এসে আত্মসমালোচনা অতীব জরুরি।

রমজান কোরআনের মাস। মহান আল্লাহ বলেন: ‘রমজান সেই মাস, যাতে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। (সুরা আল-বাকারা আয়াত : ১৮৫)
ইমাম শাফেয়ী রহ. রমজানে অধিক কোরআন তিলাওয়াতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ইমাম মালিক রহ. রমজান শুরু হলে হাদিস পাঠের আসর কমিয়ে কোরআন পাঠে মনোনিবেশ করতেন। (ইবন রজব, লাতায়িফুল মা‘আরিফ) এসব ঐতিহাসিক তথ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রমজান শুধু সামাজিক উৎসব নয়; এটি কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের সময়। মধ্য রমজানে আমারে হিসাব মিলানো দরকার আমরা কোরআনের সাথে কতোটুকু সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছি?

আত্মসমালোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো আমল ও চরিত্রের ধারাবাহিকতা। আল্লাহ বলেন: নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক সম্মানিত, যে অধিক তাকওয়াবান। (সুরা হুজুরাত আয়াত : ১৩)

ইমাম নববী রহ. তাকওয়ার ব্যাখ্যায় বলেন, এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয় এবং গোপনে-প্রকাশ্যে তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে। (শরহু সহিহ মুসলিম, ভূমিকা অংশে তাকওয়ার আলোচনা)

রমজানের মাঝপথে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা উচিত; আমার নামাজে কি একাগ্রতা বেড়েছে? কোরআনের সঙ্গে কি নিয়মিত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে? গরিব ও অভাবীদের প্রতি সহমর্মিতা কি গভীর হয়েছে? আমার রাগ, অহংকার ও ভাষার কটুতা কি কমেছে?

সুতরাং রমজানের মাঝপথে দাঁড়িয়ে আমাদের হিসাব শুধু অতীত কয়েক দিনের নয়; বরং বাকি দিনগুলোকে কীভাবে অর্থবহ করব, তারও পরিকল্পনার। রোজা যদি তাকওয়া, সংযম, কোরআনপ্রেম ও মানবিকতা বৃদ্ধি না করে, তবে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে। আর যদি সামান্য হলেও পরিবর্তন এসে থাকে, তবে সেটিকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে।

রমজান চলে যায়, কিন্তু তাকওয়ার প্রয়োজন সারা বছর। তাই এই মাঝপথে দাঁড়িয়ে সৎ সাহসে নিজের হৃদয়ের দিকে তাকানোই হতে পারে রমজানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আসুন, আমরা এই মাঝপথকে অবহেলা না করি। এখনও সময় আছে। যে গাফলতি হয়েছে, তা স্বীকার করে নেওয়াই তো তাওবার প্রথম ধাপ। আল্লাহর দরজা এখনও খোলা, রহমতের ধারা এখনও প্রবাহমান। আজ রাতে, এই মুহূর্তে আমরা যদি আন্তরিকভাবে বলি; হে আল্লাহ, আমাদের রোজাকে কবুল করুন, আমাদের ত্রুটি মাফ করুন, আমাদের অন্তরকে শুদ্ধ করুন। তবে নিশ্চয়ই তিনি নিরাশ করবেন না।

রমজান চলে যাবে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া ছাপ যেন আমাদের জীবনে থেকে যায়। তাই আসুন, আমরা শুধু ক্ষুধার কষ্ট নয়, গুনাহের কষ্টও অনুভব করি; শুধু ইফতারের আনন্দ নয়, ক্ষমা পাওয়ার আনন্দও খুঁজি। বাকি দিনগুলোকে এমনভাবে সাজাই, যেন ঈদের দিন আমরা শুধু নতুন পোশাকে নয়, নতুন হৃদয় নিয়েও দাঁড়াতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন।

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

বরকতের ছোঁয়া ও ইবাদতের মাঝে আত্মশুদ্ধির মহিমায় মাহে রমাদান

Published

on

সূচক

পবিত্র মাহে রমাদান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও আত্মশুদ্ধির এক মহাসুযোগ নিয়ে প্রতি বছর ফিরে আসে। সিয়াম সাধনার এ মাস কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য প্রশিক্ষণকাল।

রোজা মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করে, নফসকে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জীবনের লক্ষ্যকে করে সুস্পষ্ট। রমাদান আত্মশুদ্ধির মাস। বছরের নানা ব্যস্ততা ও দুনিয়াবি মোহে মানুষ অনেক সময় গাফেল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কিন্তু এ মাসে সিয়ামের মাধ্যমে সে নিজের ভুল-ত্রুটি, গুনাহ ও অন্যায় থেকে ফিরে আসার সুযোগ পায়। তওবা, ইস্তিগফার ও অধিক ইবাদতের মাধ্যমে অন্তর হয় পরিশুদ্ধ, হৃদয়ে জাগে নতুন আলোর সঞ্চার।মাহে রমাদানে রহমতের দরজা উন্মুক্ত থাকে। চারদিকে যেন নেমে আসে বরকতের ছোঁয়া। অল্প আমলেও মেলে বহুগুণ সওয়াব, সামান্য দানেও পাওয়া যায় অশেষ প্রতিদান।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ঘরে ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত, মসজিদে মসজিদে নামাজের সারি-সব মিলিয়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সময়ের মধ্যেও থাকে বিশেষ বরকত; কাজের ফাঁকে ফাঁকে মানুষ খুঁজে নেয় ইবাদতের সুযোগ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি ও কল্যাণের বার্তা।সেহরি শুধু রোজার প্রস্তুতি নয়। এটি বরকতের বিশেষ সময়।

রাতের শেষ প্রহরে ঘুম ভেঙে সেহরি খাওয়া এবং সেই সঙ্গে দোয়া, ইস্তিগফার ও তাহাজ্জুদ আদায় একজন মুমিনের জীবনে আনে আত্মিক প্রশান্তি। ভোরের নীরবতায় উচ্চারিত দোয়া হয়ে ওঠে আরও হৃদয়গ্রাহী, আরও গ্রহণযোগ্য।সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় অপবিত্র কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজার মূল বিধান।

তবে রোজার প্রকৃত শিক্ষা কেবল খাদ্য ত্যাগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরের সংযমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা, পরনিন্দা, গীবত ও অন্যায় থেকে দূরে থাকাই সিয়ামের প্রকৃত তাৎপর্য। এ সংযম মানুষকে ধৈর্যশীল ও আত্মনিয়ন্ত্রিত করে তোলে।

দিনভর সিয়ামের পর ইফতারের মুহূর্তে নেমে আসে বিশেষ রহমত। একটি খেজুর বা এক চুমুক পানিতেই মেলে অপার তৃপ্তি ও প্রশান্তি। এ সময়ের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তাই ইফতার কেবল আহার গ্রহণ নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, প্রার্থনা ও আত্মসমর্পণের এক অনন্য মুহূর্ত। রমাদান ইবাদতের বসন্তকাল।

এ মাসে মুমিনের হৃদয় ইবাদতের মধ্যে মশগুল থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া ও তওবায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে মন। দুনিয়াবি ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর স্মরণ হয়ে ওঠে জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ। বিশেষ করে সালাতুত তারাবীহ রমাদানের রাতগুলোকে করে তোলে আলোকিত ও সজীব।

শেষ প্রহরের তাহাজ্জুদে চোখের জল আর প্রার্থনার সুরে ভরে ওঠে মুমিনের হৃদয়। সব মিলিয়ে রমাদান হয়ে ওঠে আত্মিক প্রশান্তির এক সোনালি অধ্যায়।রমাদান আমাদের জীবনে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে। বদঅভ্যাস ত্যাগ, অসৎ পথ থেকে ফিরে আসা এবং সৎকর্মে নিজেকে সম্পৃক্ত করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়ার সময় এটি।

বরকতের এ ছোঁয়া ও ইবাদতের এ মশগুল পরিবেশ মানুষকে বদলে দেয়, অন্তরকে নরম করে এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের অনুভূতিতে ভরিয়ে তোলে জীবন। এক মাসের এই অনুশীলন যেন সারা বছরের জীবনচর্চায় প্রতিফলিত হয়-এটাই হওয়া উচিত প্রতিটি মুমিনের প্রত্যাশা। রমজানের আমেজে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও দানের মানসিকতা। ধনী-গরিব এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইবাদত করেন, ইফতার ভাগাভাগি করেন। যাকাত, ফিতরা ও সদকার মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়। ফলে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয় এবং মানবিকতার ভিত্তি মজবুত হয়। সব মিলিয়ে মাহে রমাদান হলো আত্মশুদ্ধি, রহমত, বরকত ও পরিবর্তনের মাস। এ মাস আমাদের শেখায় কিভাবে সংযম ও তাকওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে সুন্দর করা যায়।

পবিত্র এ মাসে আমাদের প্রত্যাশা-রমাদানের শিক্ষা যেন শুধু এক মাসে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং সারা জীবনের পথচলায় হয়ে উঠুক আলোর দিশারী।

এমএন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

নবীজির রমজান কেমন ছিল ?

Published

on

সূচক

রমজান মুমিনের জীবনে ইবাদতের বসন্তকাল। সিয়াম সাধনার এই মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রুটিন কেমন ছিল, তা জানার আগ্রহ প্রতিটি মুসলিমের। সাহরি থেকে ইফতার এবং রাতের দীর্ঘ, ইবাদতনবীজির রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আমাদের জন্য এক জীবন্ত আদর্শ।

নবীজির সাহরি
নবীজি (সা.) সাহরি গ্রহণকে বরকতময় কাজ হিসেবে গণ্য করতেন। বিশেষ করে সাহরিতে তিনি খেজুর পছন্দ করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, ‘উত্তম সাহরি খেজুর এবং উত্তম তরকারি সিরকা। মহান আল্লাহ সাহরি গ্রহণকারীদের প্রতি দয়া করুন।’ (কানজুল উম্মাল: ২৩৯৮৩)

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রমজানের দিন
সাহরির পর ফজর আদায় করে নবীজি (সা.) সাহাবিদের রমজান ও রোজাসংক্রান্ত মাসয়ালা শিক্ষা দিতেন। তিনি রোজার পবিত্রতা রক্ষায় সতর্ক থাকতেন। হজরত লাকিত বিন সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ভালোভাবে নাকে পানি পৌঁছাও, তবে রোজা অবস্থায় নয়। অর্থাৎ রোজা অবস্থায় হালকাভাবে পানি পৌঁছাও, অতিরঞ্জন করো না। (আবু দাউদ ২৩৬৩)

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

নবীজির ইফতার
ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথেই নবীজি (সা.) দেরি না করে ইফতার করতেন। আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করতেন। (তিরমিজি; রোজা অধ্যায় : ৬৩২)

নবীজির তাহাজ্জুদ
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। রমজানে তাহাজ্জুদের নামাজে আরও বেশি মগ্ন হয়ে যেতেন। রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদের জন্য তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে ও অন্য সব মাসের রাতে ১১ রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন। এ চার রাকাত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাকাত আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল, আপনি কি বিতর নামাজ আদায়ের আগে ঘুমিয়ে পড়েন? নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৫৬৯)

তারাবি নামাজ
মহান আল্লাহ রমজানের দিনের রোজাকে ফরজ করেছেন। আর তার হাবিব সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কিয়ামে রমজান’-এর ঘোষণার মাধ্যমে তারাবির মতো মূল্যবান এ হাদিয়া দান করেছেন। তারাবিতে কালামুল্লাহ-এর সঙ্গে বান্দার বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এর মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে কিয়ামে রমজান আদায় করবে তার বিগত গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি, হাদিস: ২০০৯)

নবীজির দান-সদকা
নবীজি (সা.) স্বভাবজাতভাবেই পরম দানশীল ছিলেন। কিন্তু রমজান এলে তার দানের হাত আরও প্রসারিত হতো। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। রমজান মাসে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কল্যাণবহ মুক্ত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। (বুখারি, হাদিস: ৩২২০)

নবীজির কোরআন তেলাওয়াত
রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই এ মাসে নবীজির কোরআন প্রীতি বেড়ে যেত বহুগুণ। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রমজান এলে প্রতি রাতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিবরাইল (আ.) আগমন করতেন। একে অপরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস: ৩৫৫৪)

নবীজির ইতেকাফ
তাকওয়া অর্জনের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতেকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, রমজানের শেষ দশকে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। (বুখারি, হাদিস: ২০৩৩)

নবীজির রমজান মানেই ছিল ত্যাগ, ধৈর্য এবং নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত। তাঁর সুন্নত অনুসরণ করে আমরা যদি রমজান কাটাতে পারি, তবেই আমাদের সিয়াম সাধনা সার্থক হবে এবং আমরা লাভ করতে পারব কাঙ্ক্ষিত রহমত ও মাগফিরাত।

এমএন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

রমজানের প্রথম জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

Published

on

সূচক

১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের প্রথম জুমা আজ। ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে।
আজকের দিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে সাজানো সব মুসলিমের কর্তব্য।

ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কোরো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন।
সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন।
যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায়

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা

জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তাঁর জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা

জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

জুমার দিন দোয়া কবুল হয় জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

৬. সুরা কাহাফ পাঠ

জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৭. গুনাহ মাফ হয়

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

৮. দরুদ পাঠ

জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

ধর্ম ও জীবন

দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর সতর্কতা

Published

on

সূচক

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৭

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَ لَا تَمۡشِ فِی الۡاَرۡضِ مَرَحًا ۚ اِنَّكَ لَنۡ تَخۡرِقَ الۡاَرۡضَ وَ لَنۡ تَبۡلُغَ الۡجِبَالَ طُوۡلًا ﴿۳۷﴾

সরল অনুবাদ

৩৭. আর জমিনে দম্ভভরে বিচরণ করো না; তুমি তো কখনই পদভরে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা বনি ইসরাঈলের এ আয়াতে বলা হচ্ছে যে, অহংকার ও দা‎ম্ভিকতার সাথে চলা আল্লাহর নিকট অতীব অপছন্দনীয়। এই অপরাধের কারণেই কারূনকে তার প্রাসাদ ও ধন-ভাণ্ডার সমেত জমিনে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। (সূরা কাসাস, আয়াত: ৮১) মহান আল্লাহ বিনয় ও নম্রতা পছন্দ করেন।

দম্ভ বা অহংকারের অর্থ হচ্ছে নিজেকে অন্যের চাইতে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ এবং অন্যকে নিজের তুলনায় হেয় ও ঘূণ্য মনে করা। হাদিসে এর জন্যে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্ তাআলা ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছেন যে, নম্রতা অবলম্বন কর। কেউ যেন অন্যের উপর গর্ব ও অহংকারের পথ অবলম্বন না করে এবং কেউ যেন কারও উপর যুলুম না করে।
’ (মুসলিম, হাদিস : ২৮৬৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, তোমাদের পূর্বেকার জাতিদের মধ্যে কোনো এক লোক দুখানি চাদর নিয়ে গর্বভরে চলছিল। এমতাবস্থায় জমিন তাকে নিয়ে ধসে গেল, সে এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত এর মধ্যে ঢুকতে থাকবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৮৯; মুসলিম, হাদিস : ২০৮৮)

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মাহে রমজান

১৪৪৭ হিজরী

🔕
রোজার নিয়ত (সেহরী)
নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক...
(হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করলাম...)
ইফতারের দোয়া
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
(হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করলাম।)
অপেক্ষা করুন...
00:00:00
সেহরী শেষ --:--
ইফতার --:--
পূর্ণ তালিকা দেখুন
Advertisement Banner

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার2 hours ago

সূচক ঊর্ধ্বমুখী, এক ঘণ্টায় বেড়েছে ৩৪৫টির শেয়ারদর

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন চলছে। এদিন প্রথম এক ঘণ্টায়...

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার22 hours ago

এম ক্যাশে ২৪৫ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ নিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

মোবাইল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটির মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ‘এম ক্যাশ’–এ কৌশলগত...

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার22 hours ago

ব্লক মার্কেটে ৩২ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রধান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ৩২...

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার22 hours ago

দরপতনের শীর্ষে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স...

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার22 hours ago

দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৮ কোম্পানির মধ্যে ৩৫১টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।...

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার23 hours ago

শেয়ারবাজারে লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। ঢাকা স্টক...

সূচক সূচক
পুঁজিবাজার23 hours ago

সূচকের উত্থানে লেনদেন কমেছে আরও

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন শেয়ার দর বেড়েছে ৩৫১...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সূচক
অর্থনীতি1 minute ago

রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার জ্বালানি: বিপিসির নির্দেশনা

সূচক
আন্তর্জাতিক53 minutes ago

ইরানি সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার খবর

সূচক
আইন-আদালত1 hour ago

প্রসিকিউটরদের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

সূচক
অর্থনীতি1 hour ago

ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ: বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

সূচক
আন্তর্জাতিক2 hours ago

ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে : ট্রাম্প

সূচক
আন্তর্জাতিক2 hours ago

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় পাকিস্তানের বড় পদক্ষেপ

সূচক
বিনোদন2 hours ago

কয়েদি হ্যাকারকে কেন দরকার সরকারের? উত্তর দেবে ক্যাকটাস

সূচক
জাতীয়2 hours ago

বাংলাদেশ কারও কথার অধীনে থাকবে না, নিজের ইচ্ছায় চলবে: লন্ডনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সূচক
পুঁজিবাজার2 hours ago

সূচক ঊর্ধ্বমুখী, এক ঘণ্টায় বেড়েছে ৩৪৫টির শেয়ারদর

সূচক
জাতীয়3 hours ago

নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সূচক
অর্থনীতি1 minute ago

রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার জ্বালানি: বিপিসির নির্দেশনা

সূচক
আন্তর্জাতিক53 minutes ago

ইরানি সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার খবর

সূচক
আইন-আদালত1 hour ago

প্রসিকিউটরদের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

সূচক
অর্থনীতি1 hour ago

ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ: বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

সূচক
আন্তর্জাতিক2 hours ago

ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে : ট্রাম্প

সূচক
আন্তর্জাতিক2 hours ago

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় পাকিস্তানের বড় পদক্ষেপ

সূচক
বিনোদন2 hours ago

কয়েদি হ্যাকারকে কেন দরকার সরকারের? উত্তর দেবে ক্যাকটাস

সূচক
জাতীয়2 hours ago

বাংলাদেশ কারও কথার অধীনে থাকবে না, নিজের ইচ্ছায় চলবে: লন্ডনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সূচক
পুঁজিবাজার2 hours ago

সূচক ঊর্ধ্বমুখী, এক ঘণ্টায় বেড়েছে ৩৪৫টির শেয়ারদর

সূচক
জাতীয়3 hours ago

নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সূচক
অর্থনীতি1 minute ago

রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার জ্বালানি: বিপিসির নির্দেশনা

সূচক
আন্তর্জাতিক53 minutes ago

ইরানি সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার খবর

সূচক
আইন-আদালত1 hour ago

প্রসিকিউটরদের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

সূচক
অর্থনীতি1 hour ago

ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ: বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

সূচক
আন্তর্জাতিক2 hours ago

ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে : ট্রাম্প

সূচক
আন্তর্জাতিক2 hours ago

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় পাকিস্তানের বড় পদক্ষেপ

সূচক
বিনোদন2 hours ago

কয়েদি হ্যাকারকে কেন দরকার সরকারের? উত্তর দেবে ক্যাকটাস

সূচক
জাতীয়2 hours ago

বাংলাদেশ কারও কথার অধীনে থাকবে না, নিজের ইচ্ছায় চলবে: লন্ডনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সূচক
পুঁজিবাজার2 hours ago

সূচক ঊর্ধ্বমুখী, এক ঘণ্টায় বেড়েছে ৩৪৫টির শেয়ারদর

সূচক
জাতীয়3 hours ago

নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী