অর্থনীতি
এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ বিকেলে
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে নাকি কমবে তা আজ জানা যাবে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় চলতি (ডিসেম্বর) মাসের জন্য এই দাম ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের নতুন দামও নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে, সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ডিসেম্বর (২০২৫) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কিত নির্দেশনা মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের নতুন দামও ঘোষণা করা হবে।
সবশেষ গত ২ নভেম্বর এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এ ছাড়া একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ১ টাকা ১৯ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এমকে
অর্থনীতি
২০২৬ সালে ৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এইচএসবিসির
বিগত কয়েক বছরের নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্বেও বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এইচএসবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী বছরে তা ৫.৫ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০৪০ সালের মধ্যে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ হওয়ার যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা অর্জনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে দেশের শক্তিশালী বেসরকারি খাত।
সোমবার (২মার্চ) এইচএসবিসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড দি ওয়ার্ল্ড: ইকোনমিক প্রস্পেক্টস্ ফর ২০২৬ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জুমের মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের চিফ এশিয়া ইকোনমিস্ট ও কো-হেড ফ্রেডরিক নিউম্যান।
অনুষ্ঠানটিতে বৈশ্বিক এবং এশিয়ার বাজারগুলোর সর্বশেষ খবর তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জিগনেশ রূপারেল এইচএসবিসি গ্রুপের সর্বশেষ ফলাফল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির সক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দি ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি কাউসার আলম এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো: মাহবুব উর রহমান।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও, স্টেকহোল্ডার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগ ও রপ্তানির পূর্বাভাসে ফ্রেডরিক নিউম্যান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪.১ শতাংশ হতে পারে। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আস্থা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি প্রশমনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোগব্যয়কে ত্বরান্বিত করবে। তবে বিনিয়োগের গতি অনেকাংশে নির্ভর করবে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয় তার ওপর।
এলডিসি উত্তরণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গে নিউম্যান বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “নতুন সরকারের সামনে এখন সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট ম্যান্ডেট রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে হবে।’
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন অনুষ্ঠানে আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট ও সেভেন রিংস সিমেন্টের সিএফও কাউসার আলম (এফসিএমএ) বলেন, ‘অনুকূল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং শক্তিশালী বেসরকারি খাতের ওপর ভিত্তি করে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রাখে।’
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখন সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এইচএসবিসির ভূমিকা হলো স্থানীয় আকাঙ্খাকে বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিএফও জিগনেশ রূপারেল ব্যাংকটির বৈশ্বিক সক্ষমতা ও বার্ষিক ফলাফল তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি
ব্যাংক এমডিদের রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে কাজ করার নির্দেশ গভর্নরের
দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার ও গতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
২০২৪ সালের শুরুতে দেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা কম ছিল, কিন্তু বছরের শেষের দিকে তা বৃদ্ধি পায়। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রায় দুই শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগ কমে যায় এবং কর্মদক্ষ মানুষও কর্মহীনতার তালিকায় যুক্ত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে নতুন সরকারের ১ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং রফতানিতে গতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এবিবি সভাপতি এবং কয়েকটি ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে এই সাক্ষাতে গভর্নর ব্যাংকারদের রাজনৈতিক চাপমুক্তভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া পাঁচটি ব্যাংক মার্জার ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হলো।
গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএন
অর্থনীতি
আবারও দাম বেড়ে স্বর্ণ-রুপা বিক্রি হচ্ছে নতুন দরে, কোনটির ভরি কত?
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। সব রেকর্ড ভেঙে এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। এবার ভরিতে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ২৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল ১ মার্চ থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ১৭৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
এমএন
অর্থনীতি
আইডিআরএর চেয়ারম্যান আসলাম আলমের পদত্যাগ
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সোমবার (২ মার্চ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এমএন
অর্থনীতি
কেয়া কসমেটিকসের ৮৫৫২ কোটি টাকা উধাও, এফআরসির কাঠগড়ায় চার ব্যাংক
কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৫৫২ কোটি টাকা) রপ্তানি আয় কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্টে (এফসি) জমা না হওয়ার ঘটনা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তার রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কেয়া কসমেটিকসকে পরবর্তী নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দেওয়া হয় অভিযুক্ত চার ব্যাংক-সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসারকে (সিএফও)।
সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এই ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে ‘২০ বছরেও রপ্তানি আয়ের অর্থ মেলেনি এফসি অ্যাকাউন্টে, কেয়া গ্রুপের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্ট আমলে নিয়েই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয় এফআরসি।
এফআরসি মূলত সরকারি, আধাসরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি, নিরীক্ষা ও আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করে।
জানা যায়, যুগান্তরের রিপোর্টের সূত্র ধরে অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিকসকে তলব করে এফআরসি। সেখানে প্রকৃত ঘটনার অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের জবাব গ্রহণ করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে উল্লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে এফআরসি নির্দেশনা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে ধীরগতিতে পথ চলছে। বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।
কেয়া কসমেটিকসের বিষয়ে এফআরসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত করেছে কি না জানতে চাইলে এফআরসির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া যুগান্তরকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি আমাকে জানানো হয়নি। তবে অগ্রগতি এফআরসিকে নয়, কেয়া কসমেটিকসকে অবহিত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি বলেন, কেয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আমরা বলে দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিতে হবে।
এফআরসির নির্বাহী পরিচালক (আর্থিক প্রতিবেদন পরিবীক্ষণ বিভাগ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন, সেগুলো কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেই রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই যথোপযুক্ত একটি সমাধান বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
জানতে চাইলে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান বলেন, আমার ৬৬ কোটি ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা না হওয়ার বিষয়ে এফআরসি যে নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছে, তা জানতে পেরেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটুকু তদন্ত করছে, আদৌ তদন্ত হচ্ছে কি না-এ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। আমাকেও ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, ব্যাংক যদি কোনো অর্থ পাওনা থাকে, তা সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী আমার বৈদেশিক মুদ্রার আয় এফসি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। সেটি না করায় বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো অস্তিত্ব আমার হিসাবে নেই।
এদিকে এফআরসিতে কেয়া গ্রুপের অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ডলার তছরুপের অভিযোগ করার কারণে কেয়া কসমেটিকসের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলোয় যথেষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি বন্ধক আছে। এর ফলে কোম্পানি প্রতিমাসে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় বঞ্চিত হচ্ছে। ১৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী, এক হাজার (বাক ও শ্রবণ) প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডার তাদের বিনিয়োগে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের অর্থনীতি ও কোম্পানির স্বার্থে অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার।
সূত্রমতে, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্প্রতি অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি এবং কেয়া গ্রুপকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছে এফআরসি। সেখানে সভাপতিত্ব করেন এফআরসির চেয়ারম্যান। বৈঠকে কেয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চারটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার (এফইপিডি-এএমডিএএনআইএনআইটিআই ১১৭/২০১৭/১২) অমান্য করে আমাদের রপ্তানির ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার এফসি হিসাবে জমা করেনি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং রপ্তানিকারকের সঙ্গে ডলারের গরমিল থেকেই যাবে, যা আমার কোম্পানি, দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেখানে সাইথইস্ট ব্যাংক প্রসঙ্গে বলা হয়, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেয়া কসমেটিকসের এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করলেও ৪০৪.৮১ মিলিয়ন ডলার জমা করেনি। কিন্তু সেটি লোকাল মার্জিনাল অ্যাকাউন্টে জমা করে। অপরদিকে এফসি হিসাবে জমাকৃত ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪০৩.০৪ মিলিয়ন ডলার ব্যাংক পুনরায় ডেবিট করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত সাউথইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র সহসভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, কেয়া কসমেটিকসকে যে পরিমাণ টাকা ঋণ দেওয়া হয়, ঠিক সেই পরিমাণ টাকা ডেবিট করা হয়েছে। এখানে ঋণের সুদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ ডেবিট করা হয়নি।
এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা জানতে চান, রপ্তানি আয় থেকে কি ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। তবে দীর্ঘসময় ধরে বিল অনিষ্পন্ন থাকায় এমনটি হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি হয় না বললেই চলে।
এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আপনাদের প্রদত্ত ঋণ যোগ করলে আমরা কেয়া কসমেটিকসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে পারি। পরবর্তী সময়ে জমা অর্থ থেকে রপ্তানি আয়ের অর্থ বাদ যাবে বা ব্যাংক ডেবিট করবে। এ বিষয়ে কি কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ব্যাংক করছে কি না। এর জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি হয়নি।
বৈঠকে আরও বলা হয়, ২০০৭-২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংকে ২০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় আসে কেয়া কসমেটিকসের। কিন্তু ২০১ মিলিয়ন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি।
পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা সারিফুন নাহার জবাবে বলেন, কেয়া কসমেটিকসের সংশ্লিষ্ট দৈনিক লেনদেন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা চলাকালীন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যে কোনো প্রকার অসংগতি বা হিসাবনিকাশের অমিল পরিলক্ষিত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে, সে অর্থ আদায়ও হয়েছে। কিন্তু কেয়া কসমেটিকস পেয়েছে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অবশিষ্ট ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, রপ্তানি করেছে ৩০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রিয়ালাইজড হয় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি। জবাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কেয়া কসমেটিকসের আমাদের সব ব্যাংকেরই একই অবস্থা। ইতোমধ্যে অন্য ৩টি ব্যাংক থেকে যা শুনলেন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনা বিভাগের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আমার ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের (এফআইসিএসডি) সংশ্লিষ্টতা একান্ত আবশ্যক।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চিফ অ্যাকাউন্ট অফিসার কামরুল আনাম খান বলেন, এ বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মতামত দেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর
এমএন




