রাজনীতি
অবশেষে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি এখন ‘ টক অব দ্য কান্ট্রি ’। এ অবস্থায় তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই দেশে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সূত্রটি জানায়, গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর নিজের নিরাপত্তা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি তারেক রহমান। তবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি । স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরবেন । এর কারণ, তারেককে কেন্দ্র করেই তাঁর স্ত্রী – কন্যা যুক্তরাজ্যে আছেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরার সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। সরকারিভাবে তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ।
তবে আওয়ামী লীগের সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও বিশেষ নিরাপত্তা পেতেন। তবে গণ – অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় প্রণীত আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতির পিতার পরিবার – সদস্যগণের নিরাপত্তা ( রহিতকরণ ) অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি । এখন এই সরকারের সময় বিশেষ কোনো পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে । এ কারণে সরকারও বিশেষ কোনো পরিবারের সদস্যদের সরকারিভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে চাইছে না।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে , দল থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । তিনি দেশে ফেরার আগে এই নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে । এই বাহিনীই তারেক রহমানকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে রাখবে। তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও এরই মধ্যে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধিদল। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনারও উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।
দেশে ফিরে তারেক রহমান কোথায় উঠবেন এবং কোথায় অফিস করবেন তাও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। দলীয় সূত্র বলছে, গুলশান – ২ – এর “ ফিরোজা ” ভবনের পাশের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন তারেক রহমান। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার খালেদা জিয়াকে এই বাড়ি বরাদ্দ দেয় । বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাড়িটির নামজারি শেষ করে কাগজপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের হাতে হস্তান্তর করেছে। পরে বাড়িটির সংস্কার করে সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে । বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্সকে বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন । ‘ গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটময় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।
মায়ের এমন দুঃসময়েও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সমানে। দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি নানা মহলের নানা লোকেও তারেক রহমানকে অভয় দিয়ে যাচ্ছেন। এই আলোচনার মধ্যে গত শনিবার মায়ের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমান বলেন, এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে । কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
তারেক রহমানের এই স্ট্যাটাসের ব্যাখ্যায় তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারেক রহমান দেশ , দল ও দেশের মানুষের কথা বুঝিয়েছেন । বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন , তিনি ভোটে অংশ নেবেন । এখনো তিনি সেই অবস্থানেই আছেন । তফসিল ঘোষণার পর দেশে ফিরে তিনি নিজের নির্বাচনী আসনে গিয়ে সমাবেশ করবেন । ওই সমাবেশে দল ও নিজের জন্য ভোট চাইবেন তিনি । তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে এক দিনে তাঁকে ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব বলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো . তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের আলোচনা সভায় তিনি বলেন , তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক বাধা নেই । তিনি দেশে ফিরতে চাইলে তাঁকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে , এমনকি এক দিনের ব্যবধানে ট্রাভেল পাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব ।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের তরফে কোনো বিধিনিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম । দলীয় সূত্র বলছে , তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বিএনপি। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর দেশে ফেরার দিন – তারিখ ঘোষণা করা হবে । সেনা – সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ জরুরি অবস্থার সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় । ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি । ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান । টানা ১৭ বছর লন্ডন থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
রাজনীতি
নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, তালিকায় যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৮ প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে। এছাড়াও এনসিপিসহ অন্যান্য দল থেকে ৫ জনকে তালিকায় রাখা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মনোনয়ন তালিকায় যারা আছেন-
১. কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা,
২. সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম
৩. আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নি
৪. ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও মহিলা বিভাগের সদস্য মারদিয়া মমতাজ
৫. মহিলা বিভাগের সদস্য নাজমুন নাহার নীলু,
৬. সিলেটের নেত্রী মাহফুজা সিদ্দিকা
৭. বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ
৮. খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি সামসুন নাহার
৯. এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন
১০. নারীশক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু
১১. জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান
১২. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিম
১৩. জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম
রাজনীতি
আ.লীগের সবচেয়ে বড় দুই অপরাধ কী, জানালেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
‘আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু নেতা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। যে টাকা দেয়, তাকে পদ-পদবি দেন। এতে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গেল। একজন মন্ত্রী হিসেবে কিংবা পরে এমপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগও সীমিত হয়ে গেল।’—এমন অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা ভাষার টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন আব্দুল মোমেন। এ সময় তিনি তৎকালীন সরকারের শেষ সময়ের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে এসব কথা বলেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল আপনার চোখে কী, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলটা হলো, কিছু নেতা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। যে টাকা দেয়, তাকে পদ-পদবি দেন। আর জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গেল। আমার সরকার সরকারি কর্মচারীর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হলো। ওরা যা বলে তা-ই করে। একজন মন্ত্রী হিসেবে কিংবা পরবর্তীতে এমপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগও আমাদের সীমিত হয়ে গেল।’
কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসাররা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন, একটা না একটা বাহানা দিয়ে তিনারা সহজে (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেন না। আর আমরা যারা রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে কোনো জায়গায় বড় বক্তৃতা দেন, আমরা দূরে চেয়ারে বসে থাকি, আর উনি সারমন (উপদেশমূলক বাণী) দেন, আমরা এক পাশে থেকে শুনি। তারপর যখন উনি বক্তৃতা শেষ করেন, তখন আমাদের রাজনীতিবিদরা ওনার সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে অগ্রসর হলে সেই এসএসএফের লোক ২৫ ফুট দূরে, দূর দূর করে সরায়ে দেয়। ফলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কিছু বলা যে, আমরা কিছু ফিল করি, এই চাঁদাবাজি, এই করাপশন, এগুলো পাবলিক কী মনে করতেছে, সেটা বলার সুযোগ আমাদের কমে গেল।’
রাজনীতি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।
রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে।
মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান পাপন।
এর আগে গেল শুক্র ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা দেন প্রায় ৯০০ জন।
রাজনীতি
অপরাধীরা ছাড়া ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দেওয়া যাবে : নাহিদ
অতীতে ছাত্রলীগ করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া যাবে, তবে অপরাধে জড়িতদের জন্য দলটির দরজা বন্ধ— এমনটাই জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অপরাধীরা কখনোই এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন না।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগ— যে সংগঠনই করুক না কেন, তা এনসিপির কাছে মুখ্য নয়। বরং কেউ যখন এনসিপিতে যোগ দেবেন, তখন থেকেই তিনি দলের আদর্শ ধারণ করে একজন সংগঠক ও নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্বশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী, তাদের নিয়েই দল সামনে এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আগামীর রাজনীতি বিনির্মাণই এনসিপির লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আজ যারা দলে যোগ দিচ্ছেন, তারা এতদিনও একই আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাই একত্রিত হচ্ছেন। তিনি সারাদেশের তরুণসহ সব বয়সী মানুষকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনীতি
সংসদে মন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যা নেই: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা যখন সংসদে কথা বলেন, তখন তাদের কথায় দেশে কোনো সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু আমরা যখন সমাজের কাছে যাই, তখন দেখি সমস্যার পাহাড় জমে আছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, দেশে সবচেয়ে প্রাধান্য পাওয়ার কথা দুটি খাত হলো শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাত। কিন্তু আমাদের দেশে এই দুই খাতই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। আমরা সংসদে প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম, দেশে পর্যাপ্ত আইসিইউ আছে কিনা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আছে। অথচ আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছি, বাংলাদেশের বেশিরভাগ হাসপাতালে আইসিইউ-এর অস্তিত্বই নেই।
আইসিইউ মেইনটেইন করতে হলে আগে আইসিইউ রিসোর্স পারসনকে প্রশিক্ষিত করতে হবে, যাদের ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট বলা হয়। সেই ব্যবস্থাটাই বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বদা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আমরা সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারাও মানুষের জন্য কাজ করুন। এই হাসপাতালটিতে সারা দেশ থেকে শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা নেই।
আগে সরকার এ হাসপাতালের জন্য ৩০ কোটি টাকা বাজেট প্রদান করতো, কিন্তু গত বছর থেকে তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। যুগের সঙ্গে ও চাহিদা অনুযায়ী বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, কিন্তু তা কেন কমানো হয়েছে? আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই, আপনারা এ শিশু হাসপাতালটির দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে ৬৪ জন হামের রোগী ভর্তি আছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম সন্দেহে ১০ জন শিশু মারা গেছে এখানে।



