রাজনীতি
দল পরিচালনায় যারা অক্ষম, তারা দেশ চালাতে পারবে না: ড. হেলাল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, যারা দল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; তারা কখনো দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-৮ আসনের উদ্যোগে মতিঝিলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ অভিযান পূর্বক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা-ফুটপাত শেষ করে এবার মানুষের বাসা-বাড়িতে, ফ্ল্যাটে-ফ্ল্যাটে গিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এমনকি তারা নিজ দলের সাবেক মহাসচিবের পরিবারের কাছ থেকেও গভীর রাতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী তাদের দলীয় নেতাকর্মী সারাদেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, লুটপাট, দখল, খুন, ধর্ষণের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীতে রয়েছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত নেতৃত্ব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ৫ বছরে নয় এক বছরেই দেশকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে। ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। অন্যরা ক্ষমতায় বসতে পারলে দেশকে দেউলিয়া করবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যারাই ক্ষমতায় বসেছে তারাই চেয়েছে নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করে ইসলামের বিধান মুছে দিতে। জামায়াতে ইসলামীসহ এদেশের আলেম-ওলামা সমাজে ইসলামের আদর্শিক সৌন্দর্য পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা আলেমদের প্রতিহত করেছে। জামায়াতে ইসলামী এদেশের প্রতিটি ঘরে-ঘরে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানোর মহান দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে একটি দলের নেতাকর্মীরা মতিঝিল, শাহজাহানপুর, গুলিস্তান সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কোনো সভা-সমাবেশে যেতে পারবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করে নির্বাচন দিলে সেটি হবে জাতির সাথে তামাশা। জাতি তামাশার নির্বাচন মেনে নেবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অনতিবিলম্বে প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে এবং সর্বস্তরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার জনসাধারণের উদ্দেশ্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের হৃৎপিন্ড হচ্ছে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকা। এখানেই রয়েছে পিজি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল, সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বহু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অতীতে জনসাধারণকে শোষন করা হয়েছে। আগামী জনগণকে শোষনমুক্ত করতে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের বিকল্প নেই। অতীতে যারা বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে তাদের দ্বারা বৈষম্যহীন দেশ গড়া সম্ভব হবে না। বৈষম্যহীন দেশ গড়তে নতুন নেতৃত্বে নির্বাচতি করতে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আগামীতে ঢাকা-৮ আসনের জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে তিনি জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকাকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ, মাদক মুক্ত করে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলবেন জানিয়ে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমীর মাওলানা মোতাছিম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালক শামছুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মতিঝিল উত্তর থানা আমীর মো. শামছুল বারি, রমনা থানা আমীর মো. আতিকুর রহমান, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু সহ ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে, নেতৃবৃন্দ মতিঝিল-আরামবাগ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় নেতৃবৃন্দ স্থানীদের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর লিফলেট বিতরণ করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।
রাজনীতি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে সরকার: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার এখন সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে জনসভায় দেশবাসীকে জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলেও সরকার এখন সেই রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিষয়টি আদালতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সুযোগ থাকবে না বলেই সরকার তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে ছাত্র-জনতা তা প্রতিহত করবে।
সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন করা হবে। কিন্তু সরকার গঠনের এক মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম এবং সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব। সভায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ব্যবসায়ীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড আয়োজিত আরেকটি ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ড. হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, রমজান মাস ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করার মাস। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। ব্যক্তি ও নেতৃত্বের মধ্যে আল্লাহভীতি থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি বন্ধ করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমীর মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ। এছাড়া মতিঝিল দক্ষিণ থানা ও আরামবাগ ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে: ড. হেলাল উদ্দিন
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে মানুষের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রই নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, মানুষের তৈরি আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশের নাগরিক বৈষম্যের শিকার। মানুষের তৈরি আইনে কেবলমাত্র ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীরা উপকৃত হয়, সাধারণ জনগণ উপকৃত হয়নি, হবে না।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল উত্তর থানা শাখার উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষের তৈরি আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশের নাগরিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব আইনে কেবল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাই বেশি সুবিধা পান, সাধারণ জনগণ উপকৃত হয় না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে সমাজের ছিন্নমূল, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করবে এবং কাউকে কারও কাছে হাত পাততে হবে না। কিন্তু মানুষের তৈরি আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ায় সমাজে ধনী-গরিবের বিভাজন এবং বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বৈষম্যের শিকল ভেঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি উপস্থিত সকলকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু ক্ষমতায় বসে সেই জুলাইকে অস্বীকার করছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোটে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই অস্বীকার করলে ছাত্র-জনতা ছেড়ে দেবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসবে। জনগণ রাজপথে নেমে আসলে পালানোর পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল উত্তর থানা আমীর এস এম শামসুল বারী’র সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মাওলানা রবিউল ইসলামরে পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মতিঝিল উত্তর থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে যে বৈষম্য, বিচারহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র পল্টন থানার উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নৈতিক অবজ্ঞার কারণেই জনগণের আমানত খেয়ানত করা হচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয়ের একটি দৃষ্টান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সারাদেশে মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিলেও ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীদের। তিনি অভিযোগ করেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করা হয়েছে এটা নৈতিকতার অভাব এবং আদর্শ বিসর্জনের দৃষ্টান্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক একজন নারী উপদেষ্টা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংযের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তাঁরা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও আমরা তাদেরকে মেইনস্ট্রিম হতে দিই নাই। ঐ সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রমাণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশ এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ডিপ স্টেট যৌথভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিজেদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। শুধু ক্ষমতায় বসায়নি বরং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ তৈরি করে দিয়েছে। কারণ এই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদলের মতামত উপেক্ষা করে নিজের মন-মতো আইন তৈরি করতে পারবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বদর যুদ্ধের শিক্ষা হলো—সংখ্যা বা অস্ত্র নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসই বিজয়ের মূল শক্তি। তিনি বলেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম যোদ্ধা বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে আবু জাহেল-এর নেতৃত্বে কুরাইশদের সৈন্য ছিল সহস্রাধিক। তবুও মুসলমানরা বদর যুদ্ধে ঈমানী শক্তির বলে বিজয় অর্জন করেন।
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদর যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিতে তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হলেও চূড়ান্ত বিজয় এখনো অর্জিত হয়নি। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, বদরের শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা না করা। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩১৩ সাহাবি যেমন ঈমান ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করে বিজয় অর্জন করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সময়েও অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেল প্রমূখ।
ঢাকা মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম-এর পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক এবং থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এমএন
রাজনীতি
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আমিনুল হক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ-এর বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমিনুল হক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন-এর কাছে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। তবে ভোটে হারলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর (টেকনোক্র্যাট) দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল হক।
এর আগে ১৫ এর অধিক প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হইবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
এমএন
রাজনীতি
বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার নিলেন নাতনি জাইমা রহমান
নারী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’র মরণোত্তর পুরস্কার পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রায়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
নারী দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
এদিকে, আট বিভাগ থেকে ৩৯ নারীর মধ্যে ৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এদের মধ্যে খুলনার ববিতা খাতুন, চট্টগ্রামের শমলা বেগম, রংপুরের নুরবানু কবীর, ময়মনসিংহের নূরুন নাহার আক্তার, ঢাকার আফরোজা ইয়াসমিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
যেসব ক্যাটাগরিতে পুরস্কার:
- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী।
- শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী।
- সফল জননী নারী।
- নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী।
- সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী।
ঢাকা বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: আরিফা বেগম, মারুফা আক্তার, নাছরিন আক্তার, মুক্তা আক্তার, মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।
রাজশাহী বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: লতা-খাতুন, রিজু তামান্না, মোসা. রাশেদা বেগম, রাজিয়া খাতুন, সুমাইয়া ইসলাম।
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: আসমা আক্তার কনা, বেগম তাজকেরা চৌধুরী, বিলকিছ বেগম, শমলা বেগম।
সিলেট বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: কুলসুমা বেগম, মোছাম্মৎ আমিনা বেগম, মোছা. রহিমা বেগম, কাঞ্চন বেগম, রিফাত আরা রিফা।
খুলনা বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: তারানা তাবাচ্ছুম, মোছা. ববিতা খাতুন, লুৎফুন নেছা বেগম, শরিফা ইয়াসমিন, মোছা. রাজিয়া খাতুন।
রংপুর বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: ফরিদা পারভীন, রিক্তা বানু, মোসা. রাশেদা বেগম, মোছা. পারভীন আক্তার, খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া।
বরিশাল বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন, নাহীদ রুমানা মিতু, দেলোয়ারা বেগম, সালমা আক্তার, রিতা ব্রহ্ম।
ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: নুরুন নাহার বেগম, উম্মে রাফিবা জাহান, হাসনা হেনা বারী, নাসরীন বেগম, তাহমিদা।
এমএন




