আইন-আদালত
শেখ হাসিনার মামলার রায়ের তারিখ জানা যাবে ১৩ নভেম্বর
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ ঘোষণা করেন।
পরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তাজুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৩ নভেম্বর আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য ধার্য করা হয়েছে। সেদিন আদালত জানাবেন সংক্ষিপ্ত কত দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হবে।
এদিন মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডনের পর সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এ মামলায় পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এবং উপস্থিত রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে জবাব দেওয়া হবে, যদিও কিছু অংশ ইতোমধ্যেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চিফ প্রসিকিউটর এবং অ্যাটর্নি জেনারেল সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হবে।
ওই দিন বিকেল সোয়া ৩টার পর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। টানা তিনদিনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে নিজের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার যুক্তিতর্ক চলে।
এদিকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ ঘোষণা করেন।
এদিন মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডনের পর সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর টানা পঞ্চম দিনে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। পরে সেদিনই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরবর্তীতে ২০ অক্টোবর শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন তাকে নিরপরাধ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন।
এই মামলায় প্রসিকিউশন ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও সাক্ষ্য দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে মামলার মূল দুই আসামি পলাতক থাকায় তারা কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনের সুযোগ পাননি।
গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। এ ছাড়া সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
আইন-আদালত
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। শহীদ আবু সাঈদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ আসামি পলাতক।
অন্য ৬ আসামি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ কারাগারে।
সেসময় আবু সাইদকে হত্যার ভিডিও দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।
পরে পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং আবু সাঈদ আন্দোলনের এক আইকনিক চরিত্রে পরিণত হন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
এমকে
আইন-আদালত
হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী
চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে, প্রার্থিতা ফিরে পেতে চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
এদিকে, গত ২২ জানুয়ারি ঋণ পুনঃতফসিল করায় চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার আদালত।
গত ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত।
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মলয় কুমার রায়।
তার আগে, হাইকোর্ট চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদেশ দেন।
একইদিন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) বিএনপির সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
এমএন
আইন-আদালত
৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই, প্রশ্ন আবেদ পুত্রের
রিমান্ড আদেশ হওয়ার পর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম বলেছেন, ‘পঁয়ত্রিশ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?’
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে প্রিজনভ্যানে তোলার পর তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
গত মঙ্গলবার সিয়ামকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় দুদক। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার সিয়ামের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ঠিক করে। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সোয়া ১২ টার দিকে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শুরু হয়।
সিয়ামের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “সিয়ামের বিরুদ্ধে দুদকের ২৭(১) ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আবার একই ধারায় মামলা। কতবার আসামি করবেন একই অপরাধে।
“এক মাস আগে দুদক অভিযোগপত্র দিয়ে বলেছে, তার ৩৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেছে। মামলাটাও তো একই। রিমান্ডের যৌক্তিকতা নেই। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
দুদকের পক্ষে কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন খাত থেকে তার নামে প্রচুর টাকা এসেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে তাকে কারাগারে নিতে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়।
তখন সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিয়াম বলেন, “৩৫ লাখ টাকা সম্পত্তি বাপ আমারে দিছে। একটা গাড়ি, একটা জায়গা দিছে। ৮ লাখ টাকার জায়গা আর ২৫ লাখ টাকার গাড়ি। আমি কি কামাইছি? বাপে আমারে দিছে।
“এটার জন্য আমি কীভাবে দুদকের মামলার অন্তর্ভুক্ত হলাম। আমার বাবার রিমান্ড চলতেছে। দেখা করতে গেছিলাম, ধরে নিয়ে আসছে। দুদক থেকে চার্জশিট দিক। কয় টাকার দুর্নীতি করছে বিচার করুক, আমার সমস্যা নাই তো।”
তিনি বলেন, “আমার বাবা যদি কোনো অন্যায় করে, সেটার বিচার হবে- আমার সমস্যা নাই তো। সে আমাকে জায়গা দিছে, এটার জন্য কি আমি জেল খাটব? আর ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?”
পরে তাকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।
সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমএন
আইন-আদালত
স্ত্রী-সন্তান হারানো সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের হাইকোর্টে জামিন
সদ্য স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মানবিক বিবেচনায় এই জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি বলেন, আদালত মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামকে জামিন দিয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বের করে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় তখন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেক সংবাদকর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ।
পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন। প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এমকে
আইন-আদালত
চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্যানেল। কিন্তু, রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, আদালতে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও সীমিত সাজা দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা অসন্তুষ্ট। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। সাজা সীমিত হওয়া ন্যায় বিচারের সঙ্গে সঙ্গত না।
তিনি আরও বলেন, সুজন গুলি করার সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কিন্তু তিনি যেহেতু কনস্টেবল ছিলেন, ঊর্ধ্বতনের আদেশ পালনে বাধ্য ছিলেন তাই আদালত তাকে সীমিত সাজা দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই সাজা বার্তা দেয় যে, কোনো বেআইনি নির্দেশ মানতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধ্য নন। মানলে তিনি আদালতের এজলাসে ছাড় পাবেন না।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ওই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ছাড়াও সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তবে, রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর, কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এমকে



