Connect with us

অন্যান্য

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬১ শতাংশ

Published

on

পাঁচ ব্যাংক

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বিনিয়োগে ধীরগতির প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে নিট এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে বিদেশি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে ক্রমেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং দেশের বাজারে তাদের আস্থা বাড়ছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে কার্যরত মুনাফাবান বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের আয়ের একটি বড় অংশ পুনরায় বিনিয়োগ করছে। পুনঃবিনিয়োগের পরিমাণও গত বছরের তুলনায় ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু মুনাফা নিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখে নতুন করে বিনিয়োগ করছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্বজুড়ে নতুন মূলধনের (গ্রিনফিল্ড এফডিআই) বিনিয়োগ কমলেও বাংলাদেশে এ খাতে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মূল কোম্পানিগুলো তাদের বাংলাদেশভিত্তিক স্থানীয় ইউনিটগুলোকে আরও বেশি অর্থায়ন করছে। এর ফলে ইন্টার-কম্পানি ঋণের হার এক বছরে বেড়েছে ২২৯ শতাংশ।

শুধু ছয় মাস নয়, পুরো অর্থবছরের চিত্রও আশাব্যঞ্জক। জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ অর্থবছরে নিট এফডিআই প্রবাহ আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ১৯ শতাংশেরও বেশি।

এদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশের পাঁচটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা—বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বিসিক—এর মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোম্পানির মোট ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ। এর মধ্যে ৬৫ কোটি ডলারের বেশি এসেছে সরাসরি বিদেশি কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৪৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে। ২০২৩ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ হয় ৯২৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার, তবে ২০২৪ সালে কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৬৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে। আর ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই ধারা বজায় থাকা অত্যন্ত ইতিবাচক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।

শেয়ার করুন:-

অন্যান্য

বাংলাদেশিদের গড় বুদ্ধি বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরে

Published

on

পাঁচ ব্যাংক

রসিকতার ছলে অনেকেই বলে থাকেন বাংলাদেশিদের আইকিউ কম বা দেশের মানুষের বুদ্ধি কম। তবে বাস্তবে বাংলাদেশিদের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ কত, কীভাবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়—সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই।

ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট বা আইকিউ বলতে মূলত বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার ফলাফলকে বোঝায়। বাংলায় এর সহজ অর্থ ‘বুদ্ধিমাত্রা’। আইকিউ পরিমাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি থাকলেও এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক সূত্র নেই। সাধারণত মানুষের বিচক্ষণতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে আইকিউ নির্ধারণ করা হয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের গড় আইকিউ নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। ১৯৯টি দেশের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে ব্রিটিশ মনোবিদ রিচার্ড লিন-এর পরিচালিত কিছু সুপরিচিত ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবশেষ ২০২২ সালে প্রকাশিত এই তালিকায় দেশভিত্তিক গড় আইকিউয়ের পাশাপাশি ইন্টেলিজেন্স ক্যাপিটাল ইনডেক্স (আইসিআই) এবং প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (পিআইএসএ) স্কোরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রকাশের পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তালিকায় দেখা যায়, ১০৬.৪৮ আইকিউ স্কোর নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জাপান। মাত্র ০.০১ পয়েন্ট ব্যবধানে ১০৬.৪৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাইওয়ান। আর ১০৫.৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর।

শীর্ষ ছয়টি দেশের মধ্যেই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। ১০৫.৩৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে হংকং, ১০৪.১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে চীন, এবং ১০২.৩৫ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

সপ্তম স্থান থেকে তালিকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি শুরু হয়। ১০১.৬ স্কোর নিয়ে বেলারুশ সপ্তম এবং ১০১.২ স্কোর নিয়ে ফিনল্যান্ড অষ্টম স্থানে রয়েছে। ক্ষুদ্র ইউরোপীয় রাষ্ট্র লিচেনস্টাইন ১০১.০৭ স্কোর নিয়ে নবম এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ জার্মানি ১০০.৭৪ স্কোর নিয়ে দশম স্থানে অবস্থান করছে।

তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে প্রথম ছয়টিই এশীয় দেশ এবং বাকি চারটি ইউরোপীয় দেশ। লক্ষণীয় বিষয় হলো—এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কেউই প্রথম দশে স্থান পায়নি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত পিছিয়ে। ১৯৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। বাংলাদেশের গড় আইকিউ স্কোর ৭৪.৩৩। একই তালিকায় ভারত রয়েছে ১৪৩তম স্থানে, তাদের গড় আইকিউ ৭৬.৭৪। আর ৮০ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান আছে ১২০তম অবস্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ আফগানিস্তানও গড় আইকিউয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ৮২ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান ১০৩তম।

তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। দেশটির গড় আইকিউ স্কোর মাত্র ৪২.৯৯, যা তালিকায় সবচেয়ে কম। অন্যদিকে তালিকার শীর্ষে থাকা জাপানের স্কোর ১০৬.৪৮।

ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা এশীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিয়ানমার ৫২তম (স্কোর ৯১.১৮), ইরাক ৬১তম (স্কোর ৮৯.২৮), থাইল্যান্ড ৬৪তম (স্কোর ৮৮.৮৭), ভুটান ৬৮তম (স্কোর ৮৭.৯৪), শ্রীলঙ্কা ৭১তম (স্কোর ৮৮.৬২), মালয়েশিয়া ৭৩তম (স্কোর ৮৭.৫৮) এবং আফগানিস্তান ১০৩তম (স্কোর ৮২.১২)।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২৯তম স্থানে (স্কোর ৯৭.৪৩), রাশিয়া ৩৫তম (স্কোর ৯৬.২৯) এবং ইউক্রেন ৫৭তম স্থানে রয়েছে, যার গড় আইকিউ স্কোর ৯০.০৭।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে আইকিউ স্কোর ৮৫ থেকে ১১৫ হলে তাকে গড় বা স্বাভাবিক বুদ্ধিমাত্রা হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১৩০ হলে সেই ব্যক্তি সাধারণের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হন। আর যদি আইকিউ স্কোর ১৬০ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তাকে এক কথায় ‘জিনিয়াস’ বলা হয়।

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

নজরুলের সেকাল-হাদির একাল, জাতির পরকাল

Published

on

পাঁচ ব্যাংক

ঢাকার কেন্দ্রেই কাজী নজরুল ইসলামের কবর। বিদ্রোহী কবি, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতাকেও অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁর কবরের পাশেই আজ শুয়ে আছেন ওসমান হাদি। ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক এক নাগরিক কণ্ঠ, যিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে সত্য বলা এখনো বিপজ্জনক।

এই দুটি কবর পাশাপাশি থাকা কেবল ভৌগোলিক ঘটনা নয়। এটি আমাদের সময়ের এক গভীর নৈতিক প্রতীক। যেন নজরুলের অগ্নিবাণী ইতিহাস পেরিয়ে এসে ওসমান হাদির নীরব সমাধির মাধ্যমে আজও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

নজরুলের কবরের পাশে এক নীরব প্রশ্ন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আজকের বাংলাদেশ এক গভীর নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর শিরায় শিরায় ঢুকে পড়েছে। দলীয় রাজনীতি ন্যায়ের বোধকে গ্রাস করেছে। মতভিন্নতা শত্রুতায় রূপ নিয়েছে। অন্যের প্রতি সম্মান যেন ক্রমেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে ভয়ংকর ক্ষতি অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকও নয়। সবচেয়ে ভয়ংকর ক্ষতি হলো নৈতিক আত্মসমালোচনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।

এমন সময়ে কুরআনের একটি ছোট কিন্তু গভীর দোয়া আমাদের সামনে আয়নার মতো দাঁড়ায়। রব্বানা’গফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিল মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব।

এই দোয়ায় প্রথমেই বলা হয় হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে ক্ষমা করো, আমার পিতামাতাকে ক্ষমা করো, এবং সমস্ত মুমিনদের সেই দিনে ক্ষমা করো যখন হিসাব নেওয়া হবে।

অন্যকে, দোষারোপ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করার এই সাহসটুকুই আজ আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত। আমরা সবাই যেন অন্যের ভুল গুনতে ব্যস্ত, কিন্তু নিজের দায় স্বীকার করতে অনীহা।

রবীন্দ্রনাথ বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে নিজের চোখে ধুলো দেয়, সে অন্যের চোখে আলো দেখতে পায় না।

রাষ্ট্র যখন নিজের চোখে ধুলো দেয়, তখন অন্যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

এরপর আসে বাবা মায়ের কথা। নৈতিক উত্তরাধিকার, কৃতজ্ঞতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। বাবা মায়ের প্রতি সম্মান মানে কেবল পারিবারিক কর্তব্য নয়। এর অর্থ শিক্ষক, প্রবীণ, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সর্বোপরি মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান। আজকের বাংলাদেশে এই সম্মানের ভাঙন স্পষ্ট। আর যেখানে সম্মান থাকে না, সেখানে সহিংসতা ঢুকতে বেশি সময় লাগে না।

নজরুলের সময়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা নিষেধ ছিল। ব্রিটিশ শাসনের চোখে বিদ্রোহ ছিল অপরাধ। কবিতা ছিল ভয়। কলম ছিল হুমকি। নজরুল জেল খেটেছেন, তাঁর লেখা বন্ধ করা হয়েছে, তাঁর কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে। তবু তিনি চুপ করেননি। কারণ তিনি জানতেন চুপ থাকাই সবচেয়ে বড় অপরাধ।

ওসমান হাদির সময়েও সেই নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেছে। শাসনের রং বদলেছে, ভাষা বদলেছে, কিন্তু ভয় দেখানোর চরিত্র বদলায়নি। এখন আর কবিকে জেলে নেওয়া হয় না। এখন সত্য বলা নাগরিককে একা করে দেওয়া হয়। ভয় দেখানো হয়। একসময় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ওসমান হাদির নির্মম হত্যা এই ভাঙনেরই ফল। তিনি কোনো দলের মুখপাত্র ছিলেন না। ছিলেন না ক্ষমতার অংশ। তিনি ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে সবার জন্য কথা বলা এক অবিচল কণ্ঠ। তাঁকে হত্যা করা মানে কেবল একজন মানুষকে হত্যা করা নয়। এটি ছিল সত্য বলার সাহসকে হত্যা করা।

আরও বেদনাদায়ক সত্য হলো আজ পর্যন্ত তাঁর হত্যাকারীরা এবং হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীরা আইনের মুখোমুখি হয়নি। এই বিচারহীনতা কেবল রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নয়। এটি আমাদের সমষ্টিগত নীরবতার ফল।

এখানেই নজরুলের সেই অমোঘ উচ্চারণ নতুন করে ধ্বনিত হয়। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

এই পংক্তির তাৎপর্য আজ আরও গভীর। কারণ ন্যায়ের পক্ষে নিহত ওসমান হাদি চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন নজরুলের কবরের পাশেই। যেন বিদ্রোহী কবির উত্তরাধিকার নীরবে এক নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

হাদির হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া এক নীরব নাটকের পরিণতি। যেখানে সত্য বলা ধীরে ধীরে অপরাধে পরিণত হয়। আর অন্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই নিরাপদ জীবন হিসেবে শেখানো হয়।

আজ সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো হাদি নেই, কিন্তু তাঁর হত্যার বিচার নেই। এই বিচারহীনতাই বলে দেয় অন্যায় থেমে নেই। অন্যায় তার নিজের গতিতে চলছে। অন্যায়ের মৃত্যু নেই। মৃত্যু আছে কেবল প্রতিবাদের।

এই কারণেই নজরুল ঘুমিয়ে আছেন শান্ত হয়ে। তিনি জানতেন তাঁর বিদ্রোহ শেষ কথা নয়। তার পাশে আজ ঘুমিয়ে আছেন হাদি। কবি নন, রাজনীতিক নন, একজন সাধারণ মানুষ, যিনি অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি।

এই পাশাপাশি শুয়ে থাকা আমাদের জন্য কোনো গৌরব নয়। এটি আমাদের ব্যর্থতার স্মারক। আমরা প্রতিবাদীদের কবর দিতে শিখেছি, কিন্তু তাদের দাবিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি।

এই প্রশ্নের উত্তর কেবল স্মরণে থাকলে চলবে না। কারণ স্মরণ জাতিকে বদলায় না, বদলায় দায়িত্ববোধ। জাতির মাইন্ডসেট বদলাতে হলে প্রথমেই ভাঙতে হবে বিচারহীনতার নিশ্চিন্ত সংস্কৃতি। মানুষ তখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, যখন সে জানে অন্যায় করলে রেহাই নেই।

রাষ্ট্রের পরিকাঠামো নতুন করে গড়ার অর্থ নতুন ভবন বা নতুন নাম নয়। এর অর্থ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকের জীবন রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমতাবানের চেয়েও কম মূল্যবান হবে না। যেখানে হত্যা মানে শুধু একটি ফাইল নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য একটি অস্বস্তিকর ব্যর্থতা।

জবাবদিহিতা তখনই বাস্তব হয়, যখন ক্ষমতা জানে প্রশ্ন আসবেই। তদন্ত থামানো যাবে না, বিচার ঝুলিয়ে রাখা যাবে না, আর নীরবতাকে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আইন যদি দুর্বল হয়, তবে তা ইচ্ছাকৃত দুর্বলতা। সেই দুর্বলতা দূর না করলে অন্যায় থামে না, শুধু পদ্ধতি বদলায়।

ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা যত কথাই বলি, তা নৈতিক উচ্চারণের বাইরে যায় না। বিচারই হলো সেই জায়গা, যেখানে রাষ্ট্র প্রমাণ করে সে কোন পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। ন্যায়ের পক্ষে, না সুবিধার পক্ষে।

নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, যখন কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল। হাদি কথা বলেছিলেন, যখন কথা বলা বিপজ্জনক ছিল। দুজনই প্রমাণ করেছেন সময় বদলায়, কিন্তু অন্যায় বদলায় না যদি তাকে থামানো না হয়।

নজরুল ঘুমিয়ে আছেন শান্ত। তার পাশে হাদিও ঘুমিয়ে আছেন। এখন আর প্রশ্ন নয়, এখন পরীক্ষা। এই জাতি কি শুধু তাদের কবরকে সম্মান করবে। নাকি তাদের অসমাপ্ত দায়িত্বটুকু নিজের কাঁধে নেবে।

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

‘আমার পে’ গেটওয়ে ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন-অর্থপাচার

Published

on

পাঁচ ব্যাংক

অবৈধ অনলাইন জুয়ার লেনদেন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা ও সতর্কতা জারি করার পরেও তা বন্ধ হচ্ছে না। দেশি পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ব্যবহার করে অবৈধ পর্ন ও জুয়ার অ্যাপ গুলোতে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম একদিন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘আমার পে’। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির গেটওয়ে ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, জুয়া ও বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপসের মাধ্যেমে অনলাইনে অবৈধ লেনদেন হয়। এজন্য ব্যবহার করা হয় দেশি গেটওয়ে। সম্প্রতি অনলাইন ডেটিং অ্যাপস ও পর্নোগ্রাফির অবৈধ লেনদেন করা হয় ‘আমার পে’ গেটওয়ের মাধ্যেমে। অবৈধ অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফির লেনদেন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশ থাকা শর্তেও এ গেটওয়ে ব্যবহার করে লেনদেন ও পাচার হচ্ছে দেশের অর্থ। তবে পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানটির দাবি এসব অ্যাপস তাদের মাধ্যমে শুধুই লেনদেন করে এর বেশি কি জানে না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এবিষয়ে জানতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে অর্থসংবাদ থেকে ‘আমার পে’র এমডি এ.এম. ইশতিয়াক সারোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

জানা গেছে, ডেটিং অ্যাপসের নামে অবৈধ পর্নোগ্রাফি অনুসন্ধানে নামে একটি মিডিয়া টিম। অনুসন্ধানে উঠে আসে ডেটিং অ্যাপসের নামে পর্নোগ্রাফি ও অবৈধ লেনেদেন। এসব অ্যাপসের লেনদেন হয়ে থাকে দেশি পেমেন্ট গেটওয়ে সফট টেক ইনোভেশন ‘আমার পে’র মাধ্যমে। এ গেটওয়ে ব্যবহার করে অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত এসব অ্যাপেস সহজেই লেনদেন সম্পন্ন করছে। যা বেআইনি ও অবৈধ।

তবে সফট টেক ইনোভেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ.এম. ইশতিয়াক সারোয়ার ডেটিং অ্যাপসের কথা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, লেনদেন তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে হলেও ডেটিং অ্যাপসের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো মার্চেন্ট এমনটা করতে পারে।

পর্নোগ্রাফি ও জুয়ার মতো অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত অ্যাপসকে কেনো তার পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোনো মার্চেন্ট যদি এমন সার্ভিস দিয়ে থাকে তাহলে সেখানে আমার কিছু করার নেই। আমার কোন মার্চেন্ট এমন কাজে জড়িত সেটা আমি জানি না, এটা দেখে বলতে পারবো।

এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা। মতামত তাদের, দেশি এসব পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে এই চক্র শনাক্ত ও অর্থপাচার বন্ধ করা সম্ভব।

এসএম

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

সড়ক ছাড়লেন জুলাই ঐক্যের কর্মীরা

Published

on

পাঁচ ব্যাংক

মার্চ টু ইন্ডিয়ান দূতাবাস কর্মসূচির অংশ হিসেবে মধ্যবাড্ডার সড়কে অবস্থান নেওয়া চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করা ঐক্যবদ্ধ মোর্চা ‘জুলাই ঐক্যে’র নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে সড়ক ছেড়ে দিলে এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে মধ্যবাড্ডা সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বন্ধ থাকা যান চলাচল আবার শুরু হয়। এর আগে কর্মসূচির কারণে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

প্রসঙ্গত, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রামপুরা ব্রিজ এলাকা থেকে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ‘জুলাই ঐক্যে’র নেতাকর্মীরা। তবে পথে হোসেন মার্কেটের বিপরীত পাশে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়লে তারা আর সামনে অগ্রসর হতে পারেননি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এ সময় কোনও আন্দোলনকারীরা সড়কে বসে পড়েন এবং সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। ব্যারিকেডের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্যে জুলাই ঐক্যের নেতারা সীমান্তে হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রোধ এবং ভারত থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশে ফেরানোর দাবি জানান।

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

অন্যান্য

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা দিয়েছে: জিইডি

Published

on

পাঁচ ব্যাংক

২০২৫ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে (জিইডি) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও বর্তমানে প্রধান সূচকগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

জিইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কম থাকবে বলে বড় উন্নয়ন সহযোগীরা ধারণা করছে।

বিশ্বব্যাংক ৩.৩ শতাংশ থেকে ৪.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে ৩.৯ শতাংশ। তবে ২০২৬ অর্থবছরে অর্থনীতি গতি সঞ্চার করবে এবং প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশ থেকে ৫.৩ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বহিঃখাতের উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতার কথা বলা হয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি স্থিতিশীলতা এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পুনরুদ্ধার অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রপ্তানি আয়ও শক্তিশালী রয়েছে, যা তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি মেনে চলা এবং বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম অবস্থায় স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই বিভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনবিআর কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে জুন মাসে রাজস্ব সংগ্রহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং রাজস্ব আদায় পুনরায় শুরু হয়।

জিইডি জোর দিয়ে বলেছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাত স্থিতিশীল করা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। যদিও অনেক পূর্বাভাস পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে প্রবৃদ্ধি কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নে রূপান্তরিত হবে তা কার্যকর নীতি, শক্তিশালী আর্থিক খাতের শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদনটিতে দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমকে প্রবৃদ্ধির বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি কার্যকারিতা এবং উৎপাদন খাতের আউটপুট-বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প-প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে ও ২০২৬ অর্থবছরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশকে সীমিত রিজার্ভ, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, ক্রেতাদের পরিবর্তিত পছন্দ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো-বিশেষত পোশাক ও এসএমই খাতে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উদীয়মান দুর্বলতাগুলো- বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের অস্থিরতা, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ, সুশাসন সংকট এবং বৈদেশিক ঝুঁকি সমাধান করতে ব্যর্থ হলে প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে, জীবনমান খারাপ হতে পারে, দারিদ্র্য বাড়তে পারে এবং বৈষম্য দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, সময়োপযোগী ও সমন্বিত নীতি সংস্কার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং স্পষ্ট নীতিগত বার্তা প্রদান নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ পুনরায় গতি ফিরে পাবে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

জিইডি উপসংহারে বলেছে, কাঠামোগত সংস্কার ও উদ্ভাবন-নির্ভর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা সমর্থিত একটি সুপরিকল্পিত জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশল ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পরিচালিত করবে, যা স্থিতিস্থাপকতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াবে।

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার10 hours ago

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই বছরের মধ্যে টাকা পাবেন: গভর্নর

অবলুপ্ত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা আগামী দুই বছরের মধ্যে টাকা ফিরে পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান...

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার12 hours ago

বিএসইসি জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৯ সাংবাদিক

পুঁজিবাজারভিত্তিক সাংবাদিকতায় উল্লেখযোগ্য অবদান ও পেশাদারত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন ৯ জন সাংবাদিক। এদের মধ্যে তিনটি...

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার14 hours ago

ব্লক মার্কেটে ২৭ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ২৪ টি কোম্পানির ২৭ কোটি ৭২ লাখ ৮৩ হাজার টাকার...

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার14 hours ago

শেয়ার হস্তান্তর করবেন লাভেলো আইসক্রিমের উদ্যোক্তা পরিচালক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসির এক উদ্যোক্তা পরিচালক শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)...

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার14 hours ago

বিডিকম অনলাইনের লভ্যাংশ বিতরণ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বিডিকম অনলাইন লিমিটেড গত ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরে জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে। ঢাকা স্টক...

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার15 hours ago

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিআইসিএম ও ব্র্যাক ইপিএলের মধ্যে চুক্তি

আর্থিক শিক্ষা, বাজার গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল...

পাঁচ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংক
পুঁজিবাজার15 hours ago

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বোচ্চ দরপতন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ডিএসই...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি7 hours ago

এখন থেকে আমাদের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো দলের না: নাহিদ ইসলাম

পাঁচ ব্যাংক
আন্তর্জাতিক7 hours ago

ইরান থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনবে ভারত

পাঁচ ব্যাংক
জাতীয়7 hours ago

প্রার্থিতা ফিরে পেলো আরও ৬০ জন

পাঁচ ব্যাংক
অর্থনীতি7 hours ago

১৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি8 hours ago

২৫৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের ৮ দলের প্রার্থী ঘোষণা

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি8 hours ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান

পাঁচ ব্যাংক
রাজধানী9 hours ago

বিপিএল ম্যাচের সঙ্গে মেট্রোরেলের বাড়তি ট্রিপও বাতিল

পাঁচ ব্যাংক
জাতীয়9 hours ago

পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো কমিশন

পাঁচ ব্যাংক
খেলাধুলা9 hours ago

শর্ত পূরণ হলে শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি10 hours ago

নুরের আসনে হাসান মামুনকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের শপথ

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি7 hours ago

এখন থেকে আমাদের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো দলের না: নাহিদ ইসলাম

পাঁচ ব্যাংক
আন্তর্জাতিক7 hours ago

ইরান থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনবে ভারত

পাঁচ ব্যাংক
জাতীয়7 hours ago

প্রার্থিতা ফিরে পেলো আরও ৬০ জন

পাঁচ ব্যাংক
অর্থনীতি7 hours ago

১৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি8 hours ago

২৫৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের ৮ দলের প্রার্থী ঘোষণা

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি8 hours ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান

পাঁচ ব্যাংক
রাজধানী9 hours ago

বিপিএল ম্যাচের সঙ্গে মেট্রোরেলের বাড়তি ট্রিপও বাতিল

পাঁচ ব্যাংক
জাতীয়9 hours ago

পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো কমিশন

পাঁচ ব্যাংক
খেলাধুলা9 hours ago

শর্ত পূরণ হলে শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি10 hours ago

নুরের আসনে হাসান মামুনকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের শপথ

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি7 hours ago

এখন থেকে আমাদের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো দলের না: নাহিদ ইসলাম

পাঁচ ব্যাংক
আন্তর্জাতিক7 hours ago

ইরান থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনবে ভারত

পাঁচ ব্যাংক
জাতীয়7 hours ago

প্রার্থিতা ফিরে পেলো আরও ৬০ জন

পাঁচ ব্যাংক
অর্থনীতি7 hours ago

১৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি8 hours ago

২৫৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের ৮ দলের প্রার্থী ঘোষণা

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি8 hours ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান

পাঁচ ব্যাংক
রাজধানী9 hours ago

বিপিএল ম্যাচের সঙ্গে মেট্রোরেলের বাড়তি ট্রিপও বাতিল

পাঁচ ব্যাংক
জাতীয়9 hours ago

পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো কমিশন

পাঁচ ব্যাংক
খেলাধুলা9 hours ago

শর্ত পূরণ হলে শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা

পাঁচ ব্যাংক
রাজনীতি10 hours ago

নুরের আসনে হাসান মামুনকে বিজয়ী করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের শপথ