জাতীয়
ইতালি-চীন-পাকিস্তান-তুরস্ক থেকে যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
দেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে গভীর মনোযোগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই মধ্যে চীনের কাছ থেকে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খবর, ইতালির কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ইউরোফাইটার টাইফুন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের তৈরি টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টারও যোগ হতে যাচ্ছে দেশের বিমানবাহিনীর বহরে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইতালি থেকে ১০টি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউরোফাইটার টাইফুন এবং তুরস্ক থেকে ছয়টি টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এ উদ্যোগের নীতিগত অনুমোদন ও দুই দেশের সরকারের সম্মতিতে চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতালি ও তুরস্কের পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে অন্তর্বর্তী সরকার।
আর এ পরিকল্পনায় একজন এয়ার ভাইস মার্শালকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ১২ সদস্যের একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিমান সদরের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এসব সংস্থাকে চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ইতালি ও তুরস্কের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে এই যৌথ কমিটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ কমিটি খসড়া চুক্তিপত্র পর্যালোচনা, দর-কষাকষি, চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ, অর্থপরিশোধ পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণ করবে। চুক্তিতে থাকবে যুদ্ধবিমান সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি শর্তাবলি। ক্রয় প্রক্রিয়া জিটুজি (সরকার-টু-গভর্নমেন্ট) পদ্ধতিতেই যাচাই-বাছাই করে করা হবে।
এর আগে, চীনের কাছ থেকে ২০টি জে-১০সি ক্রয়ের ব্যাপারে আলোচনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অত্যাধুনিক এ যুদ্ধবিমানগুলো কেনার জন্য প্রায় ২২০ কোটি ডলারের এক প্রস্তাব রাখে সরকার। তাছাড়া, পাকিস্তানের কাছ থেকে ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জন্য আরও প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাক-ভারত ও চীন-ভারত সীমান্তে চলমান উত্তেজনা, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও মায়ানমারের সংকট বিবেচনায় দেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন জরুরি। সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার।
ইউরোফাইটার টাইফুনের বিশেষত্ব:
বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ইউরোফাইটার টাইফুন। ফ্রান্সের তৈরি রাফালের সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে এর। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সম্মিলিত উদ্যোগে এটি তৈরি করেছে একটি কনসোর্টিয়াম। আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ভাঙন, স্থল আক্রমণ, বৈদ্যুতিক যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রে টাইফুন দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে। ন্যাটো মানসম্পন্ন টাইফুনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ও নমনীয় মডুলার কাঠামো। এর দুটি ইউরোজেট ইজে২০০ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। রিফুয়েলিং ছাড়া একটানা দুই হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এই টাইফুন।
ডেল্টা-ডানা ও কানার্ড নকশা যুদ্ধবিমানটিকে দেয় অতুলনীয় গতিশীলতা। এক আসনের হলেও রয়েছে দুই আসনের সংস্করণ। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিটার, ডানার প্রস্থ ১১ মিটার, খালি অবস্থায় ওজন ১১ টন এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন ২৩.৫ টন। এ ছাড়া প্রযুক্তি, রাডার ও সেন্সর সুবিধা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা, স্টেলথ প্রযুক্তি থাকায় শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না এবং উচ্চতাপ সহনশীল হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ের সক্ষমতা আছে এই বিমানের।
জাতীয়
পে-স্কেল নিয়ে ফের বৈঠক আজ, চূড়ান্ত হতে পারে যেসব বিষয়
সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করতে ফের আজ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নবম জাতীয় পে-কমিশন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরাতন ভবনের সভাকক্ষে পে-স্কেল নিয়ে পূর্ণ কমিশনের এই বৈঠক শুরুর কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি গ্রেড সংখ্যা, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে আজকের বৈঠকে। কমিশনের সদস্যরা একমত হলে এসব বিষয়ে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পে-কমিশনের প্রতিবেদনে বাজারে চলমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ব্যয় ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণে মূল রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে আগের বৈঠকে নবম পে স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে পে স্কেল নিয়ে পূর্ণ কমিশনের সভায় এ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয় বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
পূর্ণ কমিশনের সভায় উপস্থিত এক সদস্য বলেন, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছিল— ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। কমিশনের সভাপতি সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশনের দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করা। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
এমকে
জাতীয়
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র
আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী জন্য সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই তালিকায় আরও রয়েছে পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, কুয়েত, সোমালিয়া, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ব্রাজিলসহ অনেক দেশ।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ জানায়, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে এবং পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল চলবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার অফিসারদের এই নির্দেশ দিয়েছে বলে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, তারা ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে ভিসা আবেদনকারীদের সমালোচনার ভিত্তিতে বাতিল করতে পারবেন। ‘পাবলিক চার্জ’ আইনানুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন সরকার থেকে ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক সুবিধা নিতে পারে বলে মনে করা হয়, তবে তার ভিসা বাতিল করা যাবে। নতুন নির্দেশনায় বিবেচনা করা হবে বয়স, স্বাস্থ্য, ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক অবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, এমন নানা বিষয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে দেখব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সাহায্যের ওপর নির্ভর হতে পারেন কিনা। যারা হবেন বলে মনে হবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।’
২০০২ সালের বিধি অনুযায়ী কনস্যুলাররা পাবলিক চার্জের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিকে বিস্তৃত করেছিল, পরে বাইডেন প্রশাসন সেই পরিবর্তন কিছুটা বাতিল করেছিল। এবার পুনর্মূল্যায়নের জন্য ৭৫ দেশের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করা হলো।
স্থগিতাদেশ পাওয়া দেশগুলো, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।
এমকে
জাতীয়
নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ১৯ জানুয়ারি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এই উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং কমিটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সভাপতিত্বে এই সভা আগামী ১৯ জানুয়ারি দুপুর দুইটায় শুরু হবে।
সভায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে যা রয়েছে– আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনা; সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অভিযান পরিচালনা বিষয়ক আলোচনা; সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা; চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীদের কর্মকান্ড রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; জুলাই হত্যাকাণ্ডের শহীদদের মামলার রেকর্ড, তদন্ত ও অগ্রগতি বিষয়ক আলোচনা; দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী উস্কানিমূলক সাইবার প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা।
সভার আলোচ্যসূচি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়– শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন পরবর্তী সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও প্রতিরোধ, নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা। গার্মেন্টস কারখানা, ঔষধ শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তৎপরতা বিষয়ে আলোচনা; অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত আলোচনা; সীমান্ত ও পার্বত্যাঞ্চল পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা করা হবে।
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটের ভাঁজে ‘ধানের শীষ’, যা বললো ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব জানান, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ক্রমধারা বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
ব্যালটের ভাঁজে ধানের শীষ প্রতীক ঢাকা পড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ইট ইজ এ মিস, আমি (এখনই বিস্তারিত) বলতে পারব না। কারণ ছাপানোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে যতটুকু জানা আছে, সরকারিভাবে যে গেজেট পাবলিশ করা হয়েছে, সে গেজেটের ধারাবাহিকতা বা অর্ডার অনুযায়ী ব্যালট সাজানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালটের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে, যা ভাঁজ করলে সহজে নজরে আসে না। দলটির পক্ষ থেকে এখনো পাঠানো হয়নি এমন ব্যালটগুলো সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যালট পুনরায় ছাপা হবে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটি নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। কমিশন সভায় আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাহরাইনে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
একই ঠিকানায় অনেক পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাহরাইনের বিষয়টি আপনারা জানেন, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পোস্টাল ব্যালট পাঠাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশের পোস্টাল সিস্টেম ভিন্ন হওয়ায় বাহরাইনের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৬০টি ব্যালট একটি জায়গায় একটি বক্সে রেখে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেলিভারি পয়েন্ট হিসেবে বিষয়টি অনেকটা ছাত্রজীবনের মতো, হোস্টেলে যেমন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চিঠিপত্র রেখে দেয়া হতো এবং সেখান থেকে সবাই নিজের নিজের চিঠি নিয়ে নিত, ঠিক সেভাবেই একটি বক্সে ১৬০টি ব্যালট রাখা হয়। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওই বক্স খুলে চার-পাঁচজন মিলে ভাগ করে নেন, যে যার পাশের ঘরে থাকে, সে তারটা নিয়ে যায় বা পৌঁছে দেয়।
ইসি সচিব আরও বলেন, ভিডিওটি করা হয়েছে, যেটা করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তবে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, প্রবাসী ভোটাররা ভোটের একটি ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দ ধরে রাখতেই কেউ এটি পোস্ট করেছেন। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, এখানে কোনো খাম খোলা হয়নি। এমন কোনো প্রমাণ নেই।
আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাহরাইন পোস্টকে জানানো হয়েছে।
জাতীয়
বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অভিযোগ তদন্তাধীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাহরাইনের একটি বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট বিতরণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গেছে বাহরাইনের এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখেছি এবং এ ব্যাপারে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। দেখা যাক আসলে ফলাফল কী দাঁড়ায়।’ প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোট দিতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় কর্মযজ্ঞে কিছু সমস্যা হতেই পারে।
মো. তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, তা তো না। কেউ এটাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে– এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন অপব্যবহার না হয়। যখনই কিছু জানা যাবে, তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি। তবে কাজ কতটুকু এগিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
বিদেশে থাকা মিশনগুলোর দায়িত্ব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ব্যালট পেপার মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট দিয়ে ডাকযোগে (বাই-পোস্ট) পাঠাবেন। এ ক্ষেত্রে মিশনের ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। কাজেই, আমাকে এটা এই পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখতে হবে।



