জাতীয়
ইতালি-চীন-পাকিস্তান-তুরস্ক থেকে যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
দেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে গভীর মনোযোগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই মধ্যে চীনের কাছ থেকে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খবর, ইতালির কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ইউরোফাইটার টাইফুন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের তৈরি টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টারও যোগ হতে যাচ্ছে দেশের বিমানবাহিনীর বহরে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইতালি থেকে ১০টি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউরোফাইটার টাইফুন এবং তুরস্ক থেকে ছয়টি টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এ উদ্যোগের নীতিগত অনুমোদন ও দুই দেশের সরকারের সম্মতিতে চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতালি ও তুরস্কের পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে অন্তর্বর্তী সরকার।
আর এ পরিকল্পনায় একজন এয়ার ভাইস মার্শালকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ১২ সদস্যের একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিমান সদরের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এসব সংস্থাকে চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ইতালি ও তুরস্কের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে এই যৌথ কমিটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ কমিটি খসড়া চুক্তিপত্র পর্যালোচনা, দর-কষাকষি, চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ, অর্থপরিশোধ পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণ করবে। চুক্তিতে থাকবে যুদ্ধবিমান সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি শর্তাবলি। ক্রয় প্রক্রিয়া জিটুজি (সরকার-টু-গভর্নমেন্ট) পদ্ধতিতেই যাচাই-বাছাই করে করা হবে।
এর আগে, চীনের কাছ থেকে ২০টি জে-১০সি ক্রয়ের ব্যাপারে আলোচনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অত্যাধুনিক এ যুদ্ধবিমানগুলো কেনার জন্য প্রায় ২২০ কোটি ডলারের এক প্রস্তাব রাখে সরকার। তাছাড়া, পাকিস্তানের কাছ থেকে ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জন্য আরও প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাক-ভারত ও চীন-ভারত সীমান্তে চলমান উত্তেজনা, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও মায়ানমারের সংকট বিবেচনায় দেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন জরুরি। সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার।
ইউরোফাইটার টাইফুনের বিশেষত্ব:
বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ইউরোফাইটার টাইফুন। ফ্রান্সের তৈরি রাফালের সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে এর। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সম্মিলিত উদ্যোগে এটি তৈরি করেছে একটি কনসোর্টিয়াম। আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ভাঙন, স্থল আক্রমণ, বৈদ্যুতিক যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রে টাইফুন দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে। ন্যাটো মানসম্পন্ন টাইফুনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ও নমনীয় মডুলার কাঠামো। এর দুটি ইউরোজেট ইজে২০০ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। রিফুয়েলিং ছাড়া একটানা দুই হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এই টাইফুন।
ডেল্টা-ডানা ও কানার্ড নকশা যুদ্ধবিমানটিকে দেয় অতুলনীয় গতিশীলতা। এক আসনের হলেও রয়েছে দুই আসনের সংস্করণ। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিটার, ডানার প্রস্থ ১১ মিটার, খালি অবস্থায় ওজন ১১ টন এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন ২৩.৫ টন। এ ছাড়া প্রযুক্তি, রাডার ও সেন্সর সুবিধা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা, স্টেলথ প্রযুক্তি থাকায় শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না এবং উচ্চতাপ সহনশীল হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ের সক্ষমতা আছে এই বিমানের।
জাতীয়
সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যেসব সদস্য অন্যায়ভাবে বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, বঞ্চিত অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের প্রতিও সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় তিনি এ কথা বলেন।
এদিন তদন্ত কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
এসময় ড. ইউনূস তদন্ত কমিশনের উদ্দেশে বলেন, যখন আপনাদের এ কাজটি করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলাম তখন মনে হয়েছিল সামান্য কিছু অনিয়ম হয়তো হয়েছে। কিন্তু আপনারা যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে এনেছেন তা রীতিমতো ভয়াবহ। এটি কল্পনার একেবারে বাইরে।
পূর্ণ পেশাদারত্ব ও নির্মোহ থেকে সত্য বের করে আনায় কমিটির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তদন্ত কমিটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ, কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মুহম্মদ শামস-উল-হুদা, মেজর জেনারেল (অব.) শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ শফিউল আজম ও এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ শাফকাত আলী উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি মোট ৭৩৩টি অভিযোগ পায়, যার মধ্যে ৪০৫টি গৃহীত হয়। কমিটির সুপারিশ করা আবেদনের সংখ্যা ১১৪টি, কার্যপরিধির আওতাবহির্ভূত আবেদন ২৪টি এবং আবেদনকারীর ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ভঙ্গের, সাজা মওকুফের ও নৈতিক স্খলনজনিত ৯৯টি বিষয় রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ জানান, আবেদনপত্র পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি গত ১৯ আগস্ট প্রথম সভা আহ্বান করে। বঞ্চিত অফিসারদের সেন্ট্রাল অফিসার্স রেকর্ড অফিস, আইএসপিআর এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তিনি আরও জানান, স্ব স্ব বাহিনীর গঠিত বোর্ড যাদের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করেছে তাদের বিরুদ্ধে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো নৈতিক স্খলনজনিত শাস্তি কিংবা অভিযোগ ডোসিয়ারে লিপিবদ্ধ ছিল না।
তিনি বলেন, কমিটি ভুক্তভোগী অফিসারদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের অধিনায়ক ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের বঞ্চনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।
কমিটির অনুসন্ধানে জানা যায়, আবেদনকারীদের মধ্যে ছয়জন অফিসারকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অপবাদ দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিভিন্ন মেয়াদে (১ বছর হতে ৮ বছর পর্যন্ত) গুম করে রাখা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমনকি একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়; পরবর্তীকালে ওই অফিসারের স্ত্রীকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক বছরের শিশুসহ বিনা বিচারে দুই দফায় দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে রাখা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, কিছু সংখ্যক অফিসার ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হত্যাযজ্ঞের নারকীয় ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় সোচ্চার ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে একটি ভুয়া ঘটনা (ব্যারিস্টার তাপস হত্যাচেষ্টা মামলা) সাজিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, পাঁচজন অফিসার ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআইতে কর্মরত থাকাকালীন তাদের মিথ্যা অভিযোগে কিংবা বিনা অভিযোগে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, কিছু অফিসার বিডিআর হত্যাযজ্ঞের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দরবারে প্রশ্ন করার জন্য সেনাসদর কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। একপর্যায়ে ওই দরবারে ব্যাপক হৈচৈ ও হট্টগোল হওয়ায় পাঁচজন অফিসারকে অযথা দায়ী করা হয় এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
চারজন কনিষ্ঠ অফিসার (লেফটেন্যান্ট পদবির) ধর্মীয় আচার-আচরণ নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার কারণে তাদের কোনো একটি দলের অনুসারী হিসেবে অথবা জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে অন্যায়ভাবে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলেও বেরিয়ে আসে তদন্তে।
তদন্ত দেখা যায়, বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও ২৮ জন গুম, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও জেরা, লোক দেখানো প্রহসনের তদন্ত, আইন-বহির্ভূত কার্যকলাপে নানাবিধ বঞ্চনা, নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বর্ণনাতীত পারিবারিক ও সামাজিক লাঞ্ছনা এবং প্রভৃতি আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীতে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার ১১৪ জন কর্মকর্তা সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। তাদের (যার জন্য যা প্রযোজ্য) স্বাভাবিক অবসর প্রদান, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন ও ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি দিতে কমিটি সুপারিশ করে। এর মধ্যে চারজনকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
নৌবাহিনীতে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার ১৯ জন কর্মকর্তাকে (যার জন্য যা প্রযোজ্য) স্বাভাবিক অবসর প্রদান, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি দিতে সুপারিশ করে কমিটি।
বিমানবাহিনীতে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার ১২ জন কর্মকর্তাকে (যার জন্য যা প্রযোজ্য) স্বাভাবিক অবসর প্রদান, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি দিতে কমিটি সুপারিশ করে।
আবেদনকারীদের মধ্যে ১২৫ জন সেনা, ৫১ জন নৌ এবং ২৫ জন বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।
জাতীয়
আজ আর চলবে না মেট্রোরেল
ঢাকার সচিবালয় এলাকায় মেট্রোরেলের ছাদে দুজন উঠে পড়ায় রাত ৮টার পর থেকে বন্ধ আছে পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক। মেট্রো লাইনের বিভিন্ন জায়গায় আটকা পড়েছে একাধিক ট্রেন। এ কারণে আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে আর যাত্রী পরিবহন করবে না মেট্রোরেল।
রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশনে মেট্রোরেলের দুটা কারের মধ্যবর্তী স্থানে এক কিশোর উঠে পড়ায় মেট্রোরেল চলাচল রাত ৮টা ৫ মিনিট থেকে বন্ধ করা হয়। আজকের অবশিষ্ট সময়ের জন্য ট্রেন আর চলাচল করবে না।
যাত্রীদের অসুবিধার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
জাতীয়
মেট্রো রেলের ছাদে দুই যাত্রী, চলাচল বন্ধ
বিদ্যুৎচালিত দ্রুতগতির গণপরিবহন মেট্রো ট্রেনের ছাদে যাত্রী উঠে পড়ায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ আছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাত আটটা চল্লিশ মিনিটের দিকে বিষয়টি জানিয়েছেন এমআরটি লাইন-৬ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ শরিফী।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশন এ মেট্রো ট্রেনের ছাদের উপর দুই জন ব্যক্তি উঠে পড়ায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ আছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তবে কয়টা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে সেটি এই মুহূর্তে তিনি জানাতে পারেননি।
জাতীয়
দুর্যোগের প্রাথমিক পূর্বাভাস জীবনরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: উপদেষ্টা
দুর্যোগের প্রাথমিক পূর্বাভাস জীবনরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক। তিনি বলেন, দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যয় করার চেয়ে দুর্যোগ সহিষ্ণুতা গড়ে তুলতে আগাম বিনিয়োগ করাই অধিক কার্যকর, টেকসই এবং জনকল্যাণমূলক। এ কারণেই সকলের জন্য প্রাথমিক পূর্বাভাস আর্লি ওয়ার্নিং ফর অল রোডম্যাপ জনস্বার্থ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।
আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবন মিলনায়তনে সকলের জন্য প্রাথমিক পূর্বাভাস জাতীয় রোডম্যাপ প্রচার কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ দুর্যোগের সাথে নিত্য বসবাস করে এবং অকুতোভয়ে দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। প্রতিটি মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, তাই জনগণের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করাই সরকারের লক্ষ্য। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এক রাতের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তখন কোন আধুনিক পূর্বাভাস এবং প্রযুক্তিগত সতর্কবার্তা ছিল না। আজকে প্রযুক্তিগত অগ্ৰগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে পূর্বের ভয়াবহ দুর্যোগের স্মৃতি আমাদের গভীর ভাবে নাড়া দেয়।
উপদেষ্টা বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ১৯৭০ কিংবা ১৯৯১ সালের দুর্যোগের পরও দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমরা যথেষ্ট অগ্ৰগতি অর্জন করতে পারিনি। জাতীয়ভাবে গবেষণার প্রতি আমাদের মনোনিবেশ আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে সৌভাগ্যের বিষয় যে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ওয়েদার মডেল, ডপলার রাডার, ফ্ল্যাশ-ফ্লাড মডেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পূর্বাভাস, মোবাইল ভিত্তিক সতর্কবার্তা সবকিছু এখন আমাদের হাতে রয়েছে। বর্তমানে উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল, নগর এলাকা, নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা সব ক্ষেত্রেই দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য তৈরি করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির মো. আশরাফ আলম।
জাতীয়
একদিনে তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস দেয়া সম্ভব: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে একদিনেই ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, তার দেশে ফেরায় কোনো ধরনের বাধা নেই।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক সেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলে তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে বিদেশে যেতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।
এর আগে শনিবার (২৯ নভেম্বর) তারেক রহমান জানান, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
এদিন সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরা নিয়ে বলেন, সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে, কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।



