ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
নতুন প্রধান শিক্ষক পেলো ১১১ প্রাথমিক বিদ্যালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে ১১১ জনকে নিয়োগ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়–২ শাখা। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. ফাহিম ইকবাল জাগীরদার।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু পদস্বল্পতার কারণে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের একটি স্মারকের ভিত্তিতে এ নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) হিসেবে দ্বিতীয় শ্রেণির নন–ক্যাডার পদে বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড–১২ (১১,৩০০–২৭,৩০০ টাকা) স্কেলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথমে দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ অযোগ্য বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। আর শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনক হলে বিধি অনুযায়ী স্থায়ী করা হবে।
এ ছাড়া, নিয়োগপ্রাপ্তদের মেধা তালিকা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।
চাকরি সরকারের প্রচলিত বিধি–বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রণীত নতুন নীতিমালাও প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়। নিয়োগের পর কোনো ভ্রমণ বা দৈনিক ভাতা প্রদান করা হবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণবিহীন প্রার্থীদের চার বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) সম্পন্ন করতে হবে। কেউ মিথ্যা বা ভুয়া সনদপত্র দিলে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে নিয়োগ আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে যোগদানপত্র জমা দেবেন। অফিসার প্রত্যয়নপত্র প্রদানের পর প্রার্থীরা বিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। ওই তারিখই চাকরিতে যোগদানের দিন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া, নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বেতন–ভাতা সরকারি কোড ১২৪০২০৯০০০০০০ ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ’ খাত থেকে প্রদান করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়নের জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন শিক্ষকরা, হবে না বার্ষিক পরীক্ষাও
চার দফা দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তাদের প্রবেশ পদ সহকারী শিক্ষক পদটি বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করাসহ চার দাবিতে কর্মবিরতির অংশ হিসেবে তারা চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও বন্ধ রাখবেন। ২৪ নভেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে তারা এ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষকদের চার দাবি হলো—সহকারী শিক্ষক পদকে নবম গ্রেডের বিসিএস (মাধ্যমিক) পদসোপানে অন্তর্ভুক্ত করে স্বতন্ত্র ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ গঠনের গেজেট প্রকাশ; ২০০১-২০১২ ব্যাচের সব শিক্ষকের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ প্রদান; সিনিয়র শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার পদের শূন্যপদে পদোন্নতি ও পদায়ন; বিএড-এমএড পেশাগত ডিগ্রি অর্জনের জন্য ২-৩টি অগ্রিম বর্ধিত বেতন মঞ্জুরির আদেশ প্রদান।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, বহু কম গ্রেডের পদও নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু ন্যায্যতা থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষক পদটির গ্রেড পরিবর্তনে কোনো অগ্রগতি নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) শিক্ষকরা জানান, গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি পূরণ না হলে ১ ডিসেম্বর (সোমবার) থেকে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এ যাবেন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
১১ ডিসেম্বর স্কুলে ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি
দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ ডিসেম্বর।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে। এরপর ১১ ডিসেম্বর লটারি অনুষ্ঠিত হবে। লটারিতে নির্বাচিতরাই ভর্তির সুযোগ পাবে।
মাউশির তথ্যমতে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চার হাজার ৪৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এবার সরকারি স্কুলের সংখ্যা ৬৮৮টি এবং বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা তিন হাজার ৩৬০টি।
সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট শূন্য আসন ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে শূন্য আসন এক লাখ ২১ হাজার ৩০টি এবং বেসরকারি স্কুলে আসন ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি।
গত ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি স্কুলের এক লাখ ২১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিল দুই লাখ ৬০ হাজার ২৪৪ জন। তারা পছন্দক্রম দিয়েছিল তিন লাখ ৭৫ হাজার ৭২৮টি।
অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলে ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিল ৯৮ হাজার ৭৬২ শিক্ষার্থী। তারা পছন্দক্রম দিয়েছিল এক লাখ ৮০ হাজার ৮৬২টি। এরপর আর আবেদন জমা পড়ার নতুন তথ্য জানায়নি মাউশি।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ইবি শিক্ষার্থীদের
কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো সংহতি জানিয়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
পরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসে কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ উভয় জেলার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি না আসলে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা। এতে দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। বিকাল ৪টার দিকে দুই জেলার কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত রাখেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ ভোগান্তি পোহাচ্ছি। সাধারণ মানুষও ভোগান্তির শিকার। আমরা ইতিপূর্বে আন্দোলন করলেও শুধু আশ্বাসই পেয়ে গেছি। আমাদের কাছ থেকে তারা সাতদিনের সময় নিলেও আজ দেড় মাস পার হয়ে গেছে৷ কোনো কাজ শুরু হয়নি। তাই আজ দুই জেলার জেলা প্রশাসক আসবেন এখানে৷ আমাদের সাথে কথা বলবেন। তারপর আমরা এখান থেকে নড়বো।
এদিকে সড়ক অবরোধ করায় ভোগান্তিতে পড়েন দূরদূরান্তের যাত্রীরা। তারা জানান, সড়কের অবস্থা আসলেই বেহাল। তবে রাস্তা আটকে দিলে দূরের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই বিষয়টিও বিবেচনায় আনা উচিত।
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ পর্যন্ত মহাসড়কের বড় অংশ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করছেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা দাবি জানালেও সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরে বিকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার সড়ক উপবিভাগ প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকনুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার আহসানুল কবির, নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, শৈলকূপা উপজেলার এসিল্যান্ড এস এম সিরাজুল সালেহীন সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন।
তারা আশ্বস্ত করে বলেন, আগামীকাল (১ ডিসেম্বর) থেকে দুই মালবাহী ট্রাক নিয়ে কাজ শুরু করে দিব। কুষ্টিয়াতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা সড়কের যে অংশগুলা সমস্যা সেখানে নতুন করে পিচ এবং ইট দিয়ে সংস্কার করে দিব। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. খাইরুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ওবায়দুল ইসলাম। এসময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুফ আলী ও অন্যান্য নেতাকর্মীসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর ইবি শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে রাস্তা ব্লকেড কর্মসূচি দিয়েছিল। সেসময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সাতদিনের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরুর আশ্বাস দিলে কমর্সূচী প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা৷ তবে তারপর প্রায় দেড়মাস পার হয়ে গেলেও সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখায় আবারও এ সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
উচ্চশিক্ষায় পুঁজিবাজার সম্পর্কে জ্ঞান ছড়াতে বিএএসএম-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি
উচ্চশিক্ষায় পুঁজিবাজারভিত্তিক বাস্তব জ্ঞান সম্প্রসারণে বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের (বিএএসএম) উদ্যোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিএএসএমের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যার মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নন-ফাইনান্সিয়াল রিসোর্স শেয়ারিং এবং বিএএসএমের অনলাইন-অফলাইন লাইব্রেরি অ্যাক্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিএএসএম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (বিএএসএম)-এর মহাপরিচালক জনাব কামরুল আনাম খান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, পিএইচডি (ইউনিভার্সিটি অফ নোটিংহাম, ইউকে)। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রফেসর ডক্টর মো. আবুদ দারদা, ডীন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ এবং ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের সভাপতি এস এম মুজাহিদুল ইসলাম (সহ স্বাক্ষরকারী)।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক উচ্চশিক্ষায় পুঁজিবাজারভিত্তিক বাস্তব জ্ঞান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য এটি একটি নতুন সুযোগ, যেখানে রিসোর্স শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন আরও সহজ হবে।”
অন্যদিকে, বিএএসএমের মহাপরিচালক কামরুল আনাম খান বলেন, বর্তমান আর্থিক পরিবেশে জেনে বুঝে বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্ম যেন তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে ,এই স্বাক্ষর সেই পথকে আরও সুদৃঢ় করবে। সচেতন বিনিয়োগ শিক্ষা ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল আর্থিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
মেডিকেলেও ছাত্র সংসদ চায় শিবির, সাড়া নেই প্রশাসনের
স্বায়ত্তশাসিত চারটির পর এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সারাদেশের কলেজগুলোতেও এই সংসদ সচল করার দাবি জানিয়ে আসছেন ছাত্র সংগঠন ও চার সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। তবে অতীতে মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও বর্তমানে এ নিয়ে কোনো সাড়াশব্দ নেই কারো পক্ষেই। অবশ্য কিছুটা প্রস্তুতি এগি নিয়েছে ছাত্রশিবির।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। তবে এরপরেও মেডিকেল কলেজগুলোতে নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ছিল। বিশেষ করে ঢাকার ২টিসহ পুরনো ৯টি মেডিকেল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঐতিহ্য ফুরিয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি।
সুস্পষ্ট তথ্য না থাকলেও ছাত্র সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বশেষ ২০০৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ এবং ২০০৬ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ঢাকার তুলনামূলক নতুন মুগদা ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নির্বাচনের পরিবেশ কখনও তৈরি হয়নি। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সর্বশেষ ২০১১ সালের দিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে তুলনামূলক সাম্প্রতিককালে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এই মেডিকেলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়, যদিও প্রায় এক দশক ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসছিল তৎকালীন সরকারি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বশেষ ২০১১-২০১২ সালের দিকে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র শিবির ও স্বতন্ত্র একজন চমেকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১২-২০১৩ সেশনে ছাত্র শিবির নির্বাচনে প্যানেল জমা দিলেও ছাত্রলীগের হুমকির মুখে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে ২০১৯-২০ সেশন পর্যন্ত একক প্যানেল দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চমেকসুতে গঠন করে সংগঠনটি।
ছাত্র সংগঠন ও মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের আধিপত্যের সময়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে নিপীড়নের নির্মমতায় শিক্ষার্থীরা এখনও এক ধরনের ট্রমায় রয়েছেন। ফলে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধে বেশ সরব তারা। কিন্তু রাজনীতি নিষিদ্ধে যতটা সোচ্চার, নিজেদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম ছাত্র সংসদের দাবিতে তেমন একটা উচ্চকণ্ঠ দেখা যায় না তাদের। বেশ কিছু মেডিকেলে ছাত্র রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোও এ ব্যাপারে কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
উদাসীন কলেজ প্রশাসন
ছাত্র সংগঠনগুলোর নীরবতায় উদাসীন দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর প্রশাসন। ঢাকা, স্যার সলিমুল্লাহ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি দেড় বছরেও। এমনকি মেডিকেলগুলোতে ব্যাচভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের ঐতিহ্য থাকলেও কোনো কোনো মেডিকেল কলেজে এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম বলেন, এই মুহূর্তে ছাত্র সংসদ নিয়ে কোন আলোচনা নেই। কোনো পক্ষেই কেউ আমাদেরকে এ নিয়ে প্রস্তাব দেয়নি। ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম বলেন, এরকম চিন্তাভাবনা এখনো আসেনি। সংসদ নির্বাচনও খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। এই অবস্থায় হয়তো আর কোন কার্যক্রম হচ্ছে না।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে ছাত্র সংসদের কোন পরিকল্পনা নাই। আর এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল। বিগত একাডেমিক কাউন্সিলগুলোতে এরকম কোনো এজেন্ডা কেউ প্রস্তাব করেনি।
উদাসীন অন্যরা, প্রস্তুতিতে এগিয়ে ছাত্রশিবির
অপরাপর ছাত্র সংগঠনের তুলনায় ছাত্রশিবির মেডিকেল সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে খসড়া গঠনতন্ত্র প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করেছে সংগঠনটি। ছাত্রশিবিরের ঢাকার স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত শাখা ‘মেডিকেল জোন’ এর সভাপতি ডা. যায়েদ আহমাদ বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের সংসদ থেকেও জাতীয় নেতৃত্ব উঠে এসেছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ঢাকা মেডিকেলের দু’বারের নির্বাচিত জিএস ছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের থেকে ছাত্র সংসদ বাবদ ফি নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছাত্র সংসদগুলো বন্ধ রয়েছে। এমনকি এ নিয়ে আমরা সুস্পষ্টভাবে কোনো গঠনতন্ত্রও পাইনি। সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে আমরা একটা গঠনতন্ত্র প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেডিকেলগুলোতে গিয়ে গিয়ে কলেজ প্রশাসনকে এই প্রস্তাবনা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এই প্রস্তাবনায় ক্যাম্পাস কিভাবে চলবে তার রূপরেখা থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব উদ্দীন রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজেই ছাত্র সংসদ চাই আমরা। তবে এখন পর্যন্ত বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়েছে। আর কয়েকটিতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলমান। এসবে হলে পরবর্তীতে আমরা মেডিকেলের ছাত্র সংসদে জোর দিতে পারব।



