জাতীয়
হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়লো
হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রোববার (১২ অক্টোবর) হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় শেষ হয়।
২০২৬ সালের হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশ্যে সময় বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ বিবেচনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। এ সময়ের মধ্যে হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধন করে তাদের হজ গমন নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর বাংলাদেশের হজের কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।
সৌদি আরবের রোডম্যাপ অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল রোববার। এ সময়ের মধ্যে ৬০ হাজারের মতো হজযাত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন।
এখনও অনেক হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষমান আছেন বলে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়। তারা নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবি জানান।
সময় শেষ হওয়ার পরও এখনো কত সংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষমান আছেন- এ বিষয়ে তথ্য জানানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। এজেন্সিগুলো মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তথ্য পাঠায়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী এখনো অপেক্ষমান আছেন বলে এজেন্সিগুলো জানিয়েছে।
নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সোমবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সৌদি সরকারের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে হয়তো তারা আমাদের কাছে জানতে চাইবেন, কতজন কতজন নিবন্ধিত হয়েছেন কতজনের ভাউচার হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা আশাবাদী, সময় একটু বাড়তে পারে তারা যদি অ্যালাউ করেন। আমরা তাদের সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করবো।
সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে গত ২৭ জুলাই থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সরকারি এবং ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। উভয় ক্ষেত্রে তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রীদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
জাতীয়
সেন্টমার্টিনে রাতে থাকার সুযোগ, মানতে হবে যেসব শর্ত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। থাকছে রাতে থাকার সুযোগও। তবে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন না। মানতে হবে ১২ নির্দেশনা। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল সাতটায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরের দিন বিকেল ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বাসসকে বলেন, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি পেয়েছে।
শাহিদুল আলম আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে। তার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, রাতে থাকার সুযোগ না থাকায় নভেম্বর মাসে কোনো পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে আগ্রহ দেখাননি। এ কারণে জাহাজ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে টানা দুই মাস রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে। পর্যটকেরাও দ্বীপ ভ্রমণে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাই ১ ডিসেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যাপারে গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসহ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যে-কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জাতীয়
খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়।
গতকাল শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান তিনি। এ সময় বলেন, দূরত্ব বজায় রেখে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের চিনতে পেরেছেন এবং আমাদের সালামের উত্তর দিয়েছেন।
নানা রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে গত ২৩ নভেম্বর ফের হাসপাতালে ভর্তি হন।
মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সিসিইউতে তার চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয়
৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ভূমিকম্প নিয়ে বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেমিনারটি আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।
বাংলাদেশ টেকটোনিক প্লেটের ৩ ফল্টে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে বড় ধরনের ভূমিকম্পেও ক্ষতি ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মতামত দিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
সেমিনারে দেশি-বিদেশি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি ভূমিকম্প-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
সেমিনারে উল্লেখ করা হয়, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পনের হার আরও বেড়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০-১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি—যা বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সতর্কসংকেত।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাপানের দুই ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো এবং হেসাইয়ে সুগিয়ামা। তারা জাপানের ভূমিকম্প-পরবর্তী অভিজ্ঞতা, নিরাপদ অবকাঠামো নকশা এবং আধুনিক টেকসই নির্মাণমান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল অডিট, কাজের মান কঠোরভাবে তদারকি, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত ড্রিল, সচেতনতা কার্যক্রম এবং পরিবারভিত্তিক জরুরি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা জানান, ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয়—এই তিন সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে দেশটি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, বিল্ডিং কোড উপেক্ষা এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় অনুভূত একাধিক ভূমিকম্প দেশের ঝুঁকি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং দুর্বল ভবন কাঠামোর কারণে বড় কোনো ভূমিকম্প ঘটলে বিপর্যয় ভয়াবহ হতে পারে। তাই সচেতনতা, প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—এ তিনটি স্তম্ভ শক্তিশালী হলেই আমরা ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারব।
সেমিনারে বক্তব্য দেন খ্যাতিমান প্রকৌশলী প্রফেসর ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন (বুয়েট), রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান (বুয়েট), বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান, বিএমইডির পরিচালক মমিনুল ইসলাম, স্থপতি আরিফুল ইসলাম, স্থপতি রফিক আজম ও ভিস্তারার এমডি মুস্তফা খালিদ পলাশ।
জাতীয়
শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশ পরিচালনা করবে: ফরিদা আখতার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তারাই একদিন দেশ পরিচালনা করবে। মানিকগঞ্জের এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যেখানে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নর্থ প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল (এনপিআই) ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এনপিআইইউবি)-এর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মানিকগঞ্জে ভাষা সৈনিক রফিক থেকে শুরু করে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অমর্ত্য সেন পর্যন্ত বহু গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। তিনি মানিকগঞ্জকে ‘সূফি–দরবেশদের জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, এনপিআই ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘তোমরা নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছো। দেশের জন্য নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে তোমাদের।’ তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালুর ফলে কর্মজীবীরা বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সাভার সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কো-অর্ডিনেটর ড. ভ্যালেরি অ্যান টেইলর, থিম স্পিকার শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, গেস্ট অব অনার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনেয়ার হোসেন, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি ড. মো. সবুর খান ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. শামসুর রহমান সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মীর মাহফুজুল হক।
সমাবর্তনে এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ৪৬৭ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া, চারজনকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, একজনকে বিওটি চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল, সাতজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, ছয়জনকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং দুইজনকে একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি সদস্য, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটির সদস্যসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এছাড়াও, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বন্দি থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারা দেশে ফিরবেন।
এমকে



