জাতীয়
ধর্ম অবমাননায় সমান শাস্তিসহ ৪ দাবি হিন্দু যুব মহাজোটের
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সব ক্ষেত্রে সমতা ও ন্যায্যতার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট। একই সঙ্গে দেশে বিদ্যমান সব ধর্মের অবমাননা রোধে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন ও সব ধর্মের অবমাননার বিচারের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাসহ চার দাবি জানিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট আয়োজিত বাংলাদেশের বিদ্যমান সব ধর্মের অবমাননা রোধে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন ও সব ধর্মের অবমাননার বিচারের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমাগতভাবে ধর্ম অবমাননার বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। আগে সাধারণত ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু ধর্ম অবমাননা ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা যেতো। বর্তমানে সংখ্যায় কম হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থ বা মহাপুরুষদের প্রতিও অবমাননাকর মন্তব্য করাটাও আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগোষ্ঠী হিসেবে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায় বিদ্যমান সব ধর্মের অবমাননার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বর্তমানে সবাই অনুভব করতে সক্ষম হয়েছি যে, ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত করলে সেটা হৃদয়ে কতোটা কষ্টকর অনুভূতি তৈরি করে। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা দাবি করছি যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান সব ধর্মের অবমাননা রোধে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন ও সব ধর্মের অবমাননার বিচারের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হোক।
প্রদীপ কান্তি দে আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আমরা বিগত দুই দশক ধরে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অসংখ্য আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা সবসময় দাবি করেছি যেন প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে কোনো ঘটনারই দৃশ্যমান বিচার হয়নি। এখন সময় এসেছে ধর্মীয় অবমাননা প্রতিরোধে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন ও সেটার বাস্তবায়ন করা। এ আইনের সুফল যেন বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠী পায় সেটার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই যার যার ধর্ম তার কাছে সর্বোচ্চ আবেগের বিষয়। রাষ্ট্র তার নাগরিক হিসেবে সবার বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে বাধ্য।
‘তাই ধর্ম অবমাননা প্রতিরোধে আইনে সুস্পষ্টভাবে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডায় হামলা; প্রতিমা ভাঙচুর; সব ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব ধর্মের ধর্মীয় মহাপুরুষ/পয়গম্বরদের অযৌক্তিক কটুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দোষীর শাস্তি নির্দিষ্ট করে পেনাল কোডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে যেন ফাঁসানো না হয়। বিচার যেন ত্রুটি ও প্রভাবমুক্ত হয়। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলছি প্রতিটি ধর্মের অবমাননা ঘটনা ঘটলে আইনের প্রয়োগ যেন সমান হয়।’
‘কারণ পূর্বের বাস্তবতায় আমরা দেখেছি যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে অপরাধীকে ধরার ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে অপরাধীকে ধরতে ঠিক ততোটা উৎসাহী থাকে না। প্রতিমা ভাঙচুর করা হলে সেটার ক্ষেত্রে প্রথাগতভাবে বলা হয় অপরাধীকে ধরতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন অতিক্রান্ত হলেই সবাই এ অপরাধের কথা ভুলে যায়। আর যেসব ক্ষেত্রে প্রতিমা ভাঙচুর করার সময় হাতেনাতে অপরাধীদের ধরা হয়, তাদের অধিকাংশকেই মানসিক রোগী বলে ছেড়ে দেওয়ার রেওয়াজ তৈরি হয়েছে।’
‘অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এদের প্রায় সবাই মানসিকভাবে সুস্থ এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে এরা সচেতনভাবে প্রতিমা ভাঙচুর করে। তাই প্রতিমা ভাঙচুরের ব্যাপারে আইনে সুস্পষ্টভাবে শাস্তির ব্যবস্থা উল্লেখ করতে হবে এবং সেটার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
ধর্মীয় কোনো সভা থেকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম/উপাস্য নিয়ে কুৎসা/কটুক্তি করা হলে আইনগতভাবে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে জানিয়ে ধর্মীয় এ নেতা বলেন, কোনো ধর্মের ধর্মীয় বক্তা অন্য ধর্মকে কটুক্তি করতে পারবে না। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে আন্তঃধর্মীয় সুস্থ আলোচনার পথ যেন রুদ্ধ না হয়। সব ধর্মের ক্ষেত্রেই যেন সবাই সমানভাবে সুবিচার পেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকে গুজব রটিয়ে রামুতে সাম্প্রদায়িক হামলার মাধ্যমেই মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রথম বড়সড় সাম্প্রদায়িক হামলার সূচনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক হামলা, যশোরের অভয়নগর মালোপাড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলা, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলা, কুমিল্লার হোমনায় সাম্প্রদায়িক হামলা, ভোলার বোরহানউদ্দিনে সাম্প্রদায়িক হামলা, হবিগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাসহ আরও অসংখ্য আলোচিত ঘটনা সবারই জানা। সব ক্ষেত্রেই একই প্যাটার্নে এ হামলা হয়েছে। প্রথমে ফেসবুকে কোনো হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে কথিত ধর্ম অবমাননার গুজব তৈরি করা হয়েছে। এরপর মব তৈরি করে সংগঠিতভাবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, বাড়িঘর লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
‘দেখা যাচ্ছে অনলাইনের একটি কটুক্তির সূত্রে অফলাইনে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ধর্ম অবমাননা করা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন কোনো সরকারই হিন্দুদের ওপর এই সাম্প্রদায়িক হামলার চূড়ান্ত কোনো বিচারের আগ্রহ দেখায়নি। ঘটনার পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, অভিযুক্ত হিন্দু ব্যক্তি নির্দোষ। তার মানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্লট রচনার জন্যই এই ধর্ম অবমাননার কাহিনী সাজানো হয়। কিন্তু প্রকৃত ধর্ম অবমাননাকারী রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা সেই ধর্ম অবমাননাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, তা সে ব্যক্তি যেই ধর্মেরই হোক না কেন।’
‘সেই সঙ্গে ধর্ম অবমাননার নাম করে মব তৈরি করে নির্দোষ জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব ব্যক্তিকেও শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। ব্যক্তির দায়ে সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এক্ষেত্রে আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, হামলাকারীদের সম্পত্তি রাষ্ট্র কর্তৃক ক্রোক করে সেই অর্থ দিয়ে হামলার শিকার নির্দোষ ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে মব তৈরি করে সাম্প্রদায়িক হামলার ক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাবে।’
বিগত ২০২১ সালের দুর্গাপূজার রক্তাক্ত শারদের স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বল করছে জানিয়ে প্রদীপ কান্তি দে বলেন, কুমিল্লার এক মণ্ডপে কোরান শরিফ পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য পূজামণ্ডপে হামলা ও দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে জানা যায় মো. ইকবাল নামে এক ব্যক্তি মণ্ডপে কোরান রেখে এসেছিল, যার ফলশ্রুতিতে সেদিনের দুর্গাপূজায় নিরীহ হিন্দুদের ওপর তাণ্ডব নেমে এসেছিল। যারা ধর্মীয় সংঘর্ষ তৈরির জন্য এরকমভাবে উসকানি দেয় আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আইন করার দাবি জানাচ্ছি। সম্প্রতি মো. অপূর্ব রাদ (ধর্মান্তরিত হওয়ার পূর্বের নাম অপূর্ব পাল) ফেসবুকে কোরান শরিফ অবমাননা করেছে। এ ঘটনা সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আহত করেছে।
তিনি বলেন, আমরা এই ধর্মগ্রন্থ অবমাননার প্রতিবাদ করছি। কোনো ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কেউ এভাবে অবমাননা করার অধিকার রাখে না। আমরাও চাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যেমনটা কুমিল্লার ইকবালের মতো সব ধর্মীয় অবমাননাকারী উসকানিদাতাদের হওয়া উচিত। মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুরকারী আর কোরআন অবমাননাকারী সবাই সমান দোষে দোষী। অপরাধী যেকোনো ধর্মেরই হতে পারে, তাই অপরাধীর ধর্ম না দেখে সবার জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করা জরুরি।
ইসলামিক ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নেতৃস্থানীয় আলেম ওলামাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রদীপ কান্তি দে বলেন, আমাদের প্রিয় দেশটিতে সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চাই। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বী হওয়ায় আপনাদের ভূমিকা ও সামর্থ্য স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চেয়ে বেশি থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা একে অন্যের হাত ধরে রাখতে চাই। অস্বীকার করার উপায় নেই, বিগত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার সময় হামলাকারী উগ্র ধর্মীয় মব নিয়ন্ত্রণে আপনাদের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, সব ধর্মের ধর্মীয় নেতৃস্থানীয়দের প্রভাব নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর ওপর থাকে। নিয়মিত বিরতিতে সব ধর্মীয় নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এক্ষেত্রে আমাদের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-
১. সব ধর্মের অবমাননার জন্য সমান আইন ও শাস্তির বিধান করতে হবে।
২. ধর্ম অবমাননার অজুহাতে কোনো গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক হামলা চালালে তাদের জন্য শাস্তির বিধান করতে হবে।
৩. বিগত সময়ে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে যেসব সংখ্যালঘু এলাকায় হামলা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির বিধান করা হোক।
৪. অতীতে কথিত ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত সবাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ নাহা, সাবেক সভাপতি সজীব বৈদ্য, ঢাকা মহানগর হিন্দু যুব মহাজোটসহ ছাত্র ও যুব মহাজোটের নেতারা।
জাতীয়
প্রথম অধিবেশনেই উঠতে পারে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি বেশ পুরোনো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি একটি দৈনিকে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার কেন্দ্র করে আবারও এ আলোচনাটি সামনে এসেছে। তার বক্তব্যকে ‘অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয়’ বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ বলে অবহিত করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, জামায়াতের মিত্র দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রকাশ্যেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করার প্রস্তাব উঠতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট এই উদ্যোগ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জোটের নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ দেওয়া এই রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণহত্যায় নীরব থেকে’ এবং সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ‘শপথ ভঙ্গ করে’ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৫২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসিত করা যায়। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসনের প্রস্তাব স্পিকারের কাছে প্রদান করতে হয়। নোটিশ প্রদানের চৌদ্দ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংসদে এ প্রস্তাব আলোচিত হতে হয়। তারপর সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে ওই তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা সম্ভব। তবে দেশে কোনো রাষ্ট্রপতির অভিশংসিত হওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশে এর আগে সবসময় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে এসেছে। ২০০১ সালের নভেম্বরে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ২০০২ সালে অপসারণের উদ্যোগ নেয় তখনকার সরকার। সংসদে সেই প্রস্তুতির মধ্যে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই আর থাকতে পারেন না। তার অধীনে থাকাও এই মুহূর্তে দেশের জন্য নিরাপদ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দাবি জানালেও সাংবিধানিক দোহায় দিয়ে অভিশংসিত করা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেই বাধা আর থাকল না। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রথম অধিবেশনেই এ প্রস্তাব জানানো হবে। তবে যেহেতু সরকারি দল বিএনপি, এ প্রস্তাবে তারা সম্মতি না দিলে এটি কার্যকর হবে না। বিএনপি জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গত বুধবার শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের দায়িত্ব। এই রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন। কাজেই আমরা মনে করি ফ্যাসিস্ট সময়ের চিহ্ন যে রাষ্ট্রপতি, তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন এবং তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেটাতেও আসলে শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এ রাষ্ট্রপতি আর এ দায়িত্বে এই পদে থাকার যোগ্য নন।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘সংসদের যে প্রথম অধিবেশন হবে, তার প্রথম কাজটি হবে এ ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন সংসদের সরকারি দল, বিরোধী দল মিলে কাজটি করবে বলে আমরা মনে করি। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বঙ্গভবনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেয়। বঙ্গভবনের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ, নাটকীয়তা। পরে বিষয়টি নানা কারণে আর এগোয়নি। আওয়ামী লীগের পতন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি বলে কিন্তু এই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হননি; কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। সে সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূন্যতা ইত্যাদি অনেক কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, নতুন সংসদ হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, এখন এই রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের বিষয়।’
এই দাবির পেছনে যুক্তি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘জুলাই গণহত্যা যখন হয়েছিল, সেই সময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি। সেই সময় তিনি নীরব ও নিশ্চুপ ছিলেন। তার নীরব ভূমিকার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। কাজেই এ গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত। এবং তার বিরুদ্ধে কিন্তু অনেক আগে থেকেই আর্থিক অনৈতিকতারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা সম্মান, শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্যের যে ব্যক্তিত্ব বুঝি, তার কোনোটাই আসলে তার নেই। নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাকে সরানোর। তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—আমরা মনে করি নতুন সরকারের এটা অন্যতম দায়িত্ব।’
একই দাবি জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। জাতীয় যুবশক্তির ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে যদি আপনারা অপবিত্র হতে না দিতে চান, আপনারা যদি এই সংসদ অধিবেশন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন হিসেবে শুরু না করতে চান, তাহলে অবশ্যই প্রথম অধিবেশনেই সেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে, যিনি গণহত্যার সময় নিশ্চুপ ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।’
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘এ নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের প্রস্তাব দেওয়ার পক্ষেই আছি আমরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ইস্যুতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত শুক্রবার সিলেটে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের জন্য যা কল্যাণকর এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আমরা সে সিদ্ধান্তই নেব।’
এদিকে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। গতকাল সোমবার এ চিঠি পাঠান তিনি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা সংসদে ভাষণ প্রদানের অনুমতি না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অথবা প্রধানমন্ত্রী যেন তার সুবিধামতো ব্যবস্থা নেন—এই মর্মে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন।’
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বাহরাইনের রাজার শোক প্রকাশ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি সোমবার (২ মার্চ) রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে টেলিফোন করে রাজার পক্ষ থেকে এ শোক জানান।
টেলিফোনালাপে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের নিক্ষিপ্ত মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে তিনি বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এসময় বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তার সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় বাহরাইন সরকারের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মিসাইল হামলায় নিহত মো. তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ বাড়ির সাইদুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার বিকেলে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
এমএন
জাতীয়
হাসিনার আমলের মতো সাবেক উপদেষ্টা আদিলুরকে বিমানবন্দরে হয়রানি
ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলের মতো কাগজপত্র পরীক্ষার নামে বিমানবন্দরে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য বিদায়ি উপদেষ্টা, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
নেপালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর্ন্তজাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার বিমানবন্দর ইমগ্রেশনে গেলে সেখানে দায়িত্বরত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ সুপার তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন। তার কাছে নানা ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন।
সদ্য বিদায়ি উপদেষ্টা পরিচয় পাওয়ার পরও অযাচিতভাবে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বররত কর্মকর্তা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন। তিনি নেপালে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাওয়ার উদ্দেশ্যের কথা জানালেও তাকে বসিয়ে রাখা হয়।
পরে ওই কর্মকর্তা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোযোগ করেন। সদ্য বিদায়য়ি একজন উপদেষ্টাকে এভাবে হয়রানির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রসুল অবশ্য বলছেন, ঘটনা সে রকম কিছু নয়। তিনি আমার দেশকে বলেন, আদিলুর রহমান খান ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ শেষ করে নেপালে যাওয়ার জন্য বোর্ডিং পাস পেয়েছেন।
এমএন
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ন কবির-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (০২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেন যে, এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সুদৃঢ় হয়েছে, যার ভিত্তি শক্তিশালী হয় জিয়াউর রহমান-এর সময় থেকে। সময়ের পরিক্রমায় এই সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতায় রূপ নিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা আরও গভীর হয়েছে।
আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও জনসম্পদ উন্নয়নসহ বহুমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমএন
জাতীয়
জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেওয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। শুধুমাত্র সংসদ সদস্যরাই জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা রাজনীতির মাঠে নানা কথা হচ্ছে, সেটি রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে বলা যেতে পারে। কিন্তু অসাংবিধানিক কিছু জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অনুসারে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ করতে হয়, সেটি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে। সংশোধনী এনে সেটি সংবিধানে ধারণ করার পরেই, কোন প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ হতে পারে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কারা পড়াবেন, কীভাবে হতে পারে সে বিষয় চূড়ান্ত হতে পারে।
এমএন




