আন্তর্জাতিক
ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা নীতি শিথিল হবে না: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল নিয়ে ভারতে গিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার এ দুই দিনের সফরের মূল লক্ষ্য হলো সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। বুধবার (৮ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। তবে সফরের আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয়দের জন্য ভিসা নীতি শিথিল করার কোনো পরিকল্পনা তার সরকারের নেই।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ‘বড় সুযোগ’ রয়েছে। কিন্তু তিনি নিশ্চিত করেন, ভারতীয় কর্মী বা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে কোনো ভিসা সুবিধা খোলার পরিকল্পনা নেই।
উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ভারতের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তিতে ভিসার কোনো ভূমিকা নেই। ভিসা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার সরকারের আলোচনার মূল বিষয় হলো ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ, চাকরি এবং যুক্তরাজ্যের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি, ভিসা নিয়ে নয়।
কয়েক বছর ধরে আলোচনার পর গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো লাখ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। এর ফলে যুক্তরাজ্যের গাড়ি ও হুইস্কি অপেক্ষাকৃত সস্তায় ভারতে রপ্তানি করা সম্ভব হবে এবং ভারতীয় পোশাক ও গয়না সস্তায় যুক্তরাজ্যে আমদানি করা যাবে।
এছাড়াও, চুক্তির একটি বিশেষ অংশ হিসেবে যেসব ভারতীয়রা স্বল্পমেয়াদি ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে কাজ করবেন, তারা সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) ব্যয়ে তিন বছরের জন্য ছাড় পাবেন।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার দেশটিতে সামগ্রিক অভিবাসন কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে দলীয় সম্মেলনেও বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি কঠোর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ভারতে এসেও স্টারমার সেই অবস্থানেই অটল থাকলেন।
উল্লেখ্য এই সফরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একশ’রও বেশি উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক
খামেনির সবশেষ অবস্থান কীভাবে শনাক্ত করল সিআইএ-ইসরাইল
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইসরাইলকে খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। সেই খবরের ভিত্তিতেই যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে তেহরানের একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের তথ্য পায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। বৈঠকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও উপস্থিত থাকবেন এমন তথ্য পায় সংস্থাটি।
এর পরই হামলার সময় বদলে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যা তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা মনে করে এ কৌশলেই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে দ্রুত সময়ে হত্যা করা সম্ভব হবে।
অভিযান শুরু হয় ইসরাইল সময় ভোর ৬টার দিকে। ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন শুরু করে একের পর এক যুদ্ধবিমান। বিমানগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেহরানের কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।
এসময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা। পাশের আরেকটি ভবনেই ছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য মতে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান হয়েছিল। সিআইএ কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা এমনকি অভ্যাসেও নজরে রেখেছিল।
খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে খুবই নির্ভুল তথ্য দেয় সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া তথ্যের সঙ্গে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করে ইসরাইল।
এ হামলার দেখিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গেল বছরের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যও কি জড়িয়ে পড়ল?
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছে। ইরান যাতে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে স্টারমার স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় যুক্তরাজ্য অংশ নেয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়া ওই হামলার সঙ্গেও ব্রিটেন জড়িত ছিল না। ভবিষ্যতেও সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না।
তিনি বলেন, ব্রিটেন মনে করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে আলোচনার মাধ্যমে, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করবে।
তবে ইরান ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের অবস্থান করা বিমানবন্দর ও হোটেলেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
তিনি জানান, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো যুক্তরাজ্যের কাছে আরও সহায়তা চেয়েছে। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে অংশ নিয়ে ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে।
স্টারমারের মতে, হুমকি পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ঘাঁটি ও উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করাই একমাত্র উপায়। আন্তর্জাতিক আইন মেনে যৌথ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ গ্রহণ করা হয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনি হত্যা ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’: জাতিসংঘে ইরানের চিঠি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
চিঠিতে খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই ঘটনা একটি ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক আদর্শ এবং জাতিগুলোর মধ্যে সভ্য আচরণের পরিপন্থী।
ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর যথাযথ বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ কেবল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়; বরং এটি একটি বিপজ্জনক ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খুলে দেওয়ার শামিল। এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সমতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার মূলে আঘাত হেনেছে।
আরাঘচি বলেন, ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সনদে দেওয়া নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, উল্লিখিত এই নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সরকারকে পুরোপুরি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অবিলম্বে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সূত্র : আলজাজিরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানে অভিযান চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সফল করতে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ডেইলি মেইল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি শুরু থেকেই একটি চার সপ্তাহের প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়েছে। আমরা হিসেব করে দেখেছি যে এটি চার সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় নেবে।’
অভিযানের ব্যাপ্তি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আক্রমণ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ইরান একটি বড় দেশ। তাই এটি সম্পন্ন করতে চার সপ্তাহ—বা তার কম সময় লাগবে।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি এখনও ইরানিদের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তবে সেই আলোচনা ‘শিগগিরই’ হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না। তারা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি— ‘তোমাদের গত সপ্তাহে কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।’
আরও মার্কিন প্রাণহানির আশঙ্কা ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চলছে এবং আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুদৃঢ়।’
তবে সেই লক্ষ্যগুলো আসলে কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কর্তৃক তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর ট্রাম্প বলেন, পুরো জাতি আজ শোকাহত। তিনি বলেন, ‘একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে তারা দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের এই মহান আত্মত্যাগের মিশন আমরা সফল করবই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত এই লড়াই শেষ হওয়ার আগে হয়তো আরও প্রাণহানি ঘটবে। পরিস্থিতিটাই এমন। তবে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।’
ইরানের সামরিক কমান্ডসহ শত শত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক হামলায় ইরানের শত শত লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং দেশটির নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, এই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) স্থাপনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পুরো সামরিক কমান্ড এখন নিশ্চিহ্ন। তাদের সামরিক বাহিনীর অনেকেই এখন আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছে।’
জনগণের উদযাপনের দাবি
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর খবরে ইরানের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করেছে। তিনি বলেন, ‘পুরো ইরান জুড়ে মানুষের উল্লাসের শব্দ শোনা গেছে।’ তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক অভিযান
রোববার প্রকাশিত ৬ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এই অভিযানের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ৪৬ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছে, যা বিশ্বের দেখা অন্যতম বৃহত্তম, জটিল এবং বিধ্বংসী সামরিক অভিযান।’ তিনি পুরো ইরান জুড়ে একযোগে চালানো সিরিজ হামলার বিবরণ দেন।
কেন এই হামলা, ট্রাম্পের যুক্তি
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, কারণটি ‘খুবই সহজ’। ‘তারা তাদের পারমাণবিক গবেষণা বন্ধ করতে রাজি ছিল না। তারা এটি বলতেও রাজি ছিল না যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।’
বিরোধী বক্তব্য ও বাস্তবতা
ট্রাম্পের এই দাবি গত সপ্তাহে জেনেভায় আলোচনার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দেওয়া বক্তব্যের বিপরীত। আরাগচি বলেছিলেন, ‘ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার আমরা ছাড়ব না।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অভিযানের ফলাফল কী হতে পারে— এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকগুলো ভালো ফলাফল আসতে পারে। প্রধানটি হলো তাদের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা (Decapitation) এবং এই খুনি ও গুণ্ডাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া।’ তবে ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে তবে হামলা বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে তিনি ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। তিনি শুধু বলেছেন, ‘আমি জানি না। যদি তারা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে তবে আমরা ভেবে দেখব, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা তা পারেনি।’
সূত্র : সিএনএন/আল-জাজিরা
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: রুশ প্রেসিডেন্ট
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মৃত্যুকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, এটি মানবিক নৈতিকতার আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
রোববার (১ মার্চ) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় এই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির এই মৃত্যুকে একটি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা মানবিক নৈতিকতার সমস্ত আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
• খামেনিকে হত্যা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় খামেনি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে এভাবে হত্যা করা… বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকার ও কর্তব্য।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তার বৈধ দায়িত্ব এবং অধিকার বলে মনে করে।
সূত্র: এএফপি
এমএন




