কর্পোরেট সংবাদ
এস আলমের অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
ব্যাংক খাতের অর্থ লুটকারী এস আলম কর্তৃক অবৈধভাবে নিয়োগকৃত অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংক থেকে অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারস ফোরাম।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। একই সাথে সারাদেশে ইসলামী ব্যংকের প্রতিটি শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম অবিলম্বে ইসলামী ব্যংক থেকে এস আলমের মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণের আহ্বান জানান। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অবৈধ এসব কর্মকর্তাদের অপসারণ করা না হলে শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন।
প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. মোহতাছিম বিল্লাহ, হাফিজুর রহমান, ইমাম হোসাইন, মাহমুদুল হাসান, এটিএম সিরাজুল হক, ড.হারুনুর রশিদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও মো. রতন সহ আরো অনেকে।
এসময় ইসলামী ব্যংক গ্রাহক ফোরাম, সচেতন ব্যবসায়ী ফোরাম, ইসলামী ব্যাংক প্রাক্তন ব্যাংকার পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী চাকুরী প্রত্যাশী পরিষদ, সচেতন পেশাজীবী গ্রুপ, ইসলামী ব্যাংক সিবিএ এবং সচেতন ব্যাংকার সমাজ একই দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এস আলম রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যংক জবরদখল করে নেয়। এ ব্যাংক থেকে বৈধ মালিকদের ভয় দেখিয়ে বিদায় করে। পাশাপাশি বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদেরও নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিতাড়ন করে। এ ব্যাংককে নিজের কব্জায় নিয়ে তিনি ইচ্ছামত নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা আয় করেছেন। তিনি কোন রকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই পটিয়া চট্টগ্রামের লোক নিয়োগ দিয়ে এ ব্যাংকের চমৎকার কর্মপরিবেশ এবং উন্নত গ্রাহক সেবা ধ্বংস করে দিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক মানবতা দেখিয়ে এতদিন এসব কর্মকর্তাদের চাকরিতে রেখেছে। এতে ব্যাংকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবছর এসব অবৈধ কর্মকর্তার পিছনে ১৫০০ কোটি টাকার উপরে ব্যায় হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক তাদের বৈধ করার জন্য যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে তারা এ বাংকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরণের বিদ্রোহ। এ ধরণে বিদ্রোহীদের ব্যাংকে বহাল রাকার আর কোন বৈধ পথ খোলা নাই। তাদেরকে দ্রুত অপসারণ করার জন্য বক্তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তারা সারা দেশ থেকে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেয়ার দাবী জানান।
তারা আরো বলেন, অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণকে কোন ভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন বলা যাবে না। ৬৩ টি জেলার মানুষকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র পটিয়া এবং চট্টগ্রামের লোকদের রাতের আঁধারে বাক্স বসিয়ে চাকরি দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছিল। অবৈধ কর্মকর্তাদের অপসারনের মাধ্যমে এ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা যেকোন মূল্যে ইসলামী ব্যাংককে মাফিয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।
জানা গেছে, এস আলম ইসলামী ব্যাংক দখলের পর ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পদমর্যাদায় শুধুমাত্র চট্টগ্রামের ৭২২৪ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০০ জনের বেশি শুধুমাত্র পটিয়া উপজেলার। সারা দেশের চাকরিপ্রার্থীদের বঞ্চিত করে একটি জেলার প্রার্থীদের গোপনে নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকের শৃংখলা চরমভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
এছাড়াও ব্যাংকের পুরোনো কর্মীদের ব্যাংক থেকে বিতাড়ন করে নিজ উপজেলার লোক নিয়োগ দেয়ার কর্মসূচী হাতে নেয় এস আলম। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ব্যাংকের দেড় শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারিকে নানাবিধ ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় এবং বরখাস্ত করে।
নূরুল হক নামক একজন ড্রাইভার বলেন, আমাকে তৎকালীন এইচআরের একজন প্রতিনিধি ডেকে নিয়ে বলেন “আপনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তা না হলে আপনি সার্ভিস বেনিফিট থেকে বঞ্চিত হবেন।” বাধ্য হয়ে আমি পদত্যাগপত্র জমা দেই। এভাবে বারবার চাপ দেয়া হয়। আমার মত খলিল, আব্দুর রহমান, আব্দুল মোমিন ও দেলোয়ারও পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এভাবে ড্রাইভার, মেসেঞ্জার ও ক্লিনারসহ কয়েকশ নিম্নপদস্থ এবং আরো বেশ কিছু কর্মকর্তা ও নির্বাহীদের জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো হয়। আমাদের সবারই চাকরির বয়স আরও পাঁচ বছর অবশিষ্ট ছিল। এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিন পটিয়া উপজেলা থেকে লোক নিয়োগ দেয়ার জন্য এমন করেছিল বলে তিনি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাহী বলেন, এস আলমের কথামত ভুয়া বিনিয়োগের ফাইলে সাক্ষর না করায় ব্যাংকের বেশ কজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে অপরাধী হিসেবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার যোগ্যতা ও দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য ব্যাংক ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র মাধ্যমে মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে। এসব কর্মকর্তারা মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করে। ২৭ সেপ্টেম্বর এসব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৫৩৮৫ জনের মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বলা হয়। ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে এদের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৪৯৭১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এর মধ্যে ৪১৪ জন কর্মকর্তা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেন। যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ব্যাংক তাদের ওএসডি করেছে এবং বিদ্রোহী ৪০০ জনকে চাকুরিচ্যুত করেছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদেরকে অপারেশনাল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্পোরেট সংবাদ
ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান।
সভায় এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন এবং কোম্পানি সেক্রেটারি মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কর্পোরেট সংবাদ
ইসলামী ব্যাংকের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস ও শরীআহ সুপারভাইজরি কাউন্সিলের চেয়ারম্যন মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন। সম্মেলনে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসিমসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, ১৬টি জোনের প্রধান এবং ৪০০টি শাখার ব্যবস্থাপকগণ অংশ নেন।
কর্পোরেট সংবাদ
ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রম উদ্বোধন
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নতুন কলেবরে শুরু হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রধান অতিথি হিসেবে দেশের প্রথম ইসলামিক মোবাইল ব্যাংকিং ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও ব্যাংকের সকল জোনপ্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি শক্তিশালী গ্রাহক ভিত্তি রয়েছে। ৩ কোটির অধিক গ্রাহক এ ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামী ব্যাংকের ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা, প্রায় ২৮০০টি এজেন্ট আউটলেট-এর বৃহৎ নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এমক্যাশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহেও এমক্যাশকে কাজে লাগাতে হবে। ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে এমক্যাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, এমক্যাশকে শক্তিশালী করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। গ্রাহকদের প্রণোদনা ও ক্যাশব্যাক দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এমক্যাশকে রিটেইল মার্কেট ও এসএমই সেক্টরে ফোকাস করে তাদেরকে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনে অন্তুর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউটের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন হলে দেশে দুর্নীতি কমে আসবে, ২ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছলতা আসবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস-এর মার্কেটটা এককেন্দ্রিক না থেকে আরও প্রসারিত হোক। যা দেশের অর্থনীতি ও গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক।’ তিনি এমক্যাশের পুনর্যাত্রার সাফল্য কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান বলেন, ৩ কোটি গ্রাহক নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। তিনি এমক্যাশ লেনদেনে সবাইকে উৎসাহিত করার আহবান জানান। তিনি এমক্যাশের রিব্র্যান্ডিংয়ে গভর্নর মহোদয়ের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
এমক্যাশের সুবিধাসমূহ:
প্রযুক্তি এবং আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সমন্বয়ে ‘এমক্যাশ’ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে নিরাপদ, দ্রুত এবং সহজ করেছে। এমক্যাশ থেকে এমক্যাশ-এ সেন্ডমানির ক্ষেত্রে কোন ফি নেই এবং ক্যাশআউট চার্জ প্রতি হাজারে মাত্র ১৩.৯০ টাকা। ইসলামী ব্যাংকের যেকোন শাখা, উপ-শাখা ও এটিএম থেকে উত্তোলনের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্সের টাকা সরাসরি এমক্যাশে সরাসরি পাঠানো যায় যা সাথে সাথে জমা হয়ে যায়। রেমিট্যান্সের ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা। যেকোন ভিসা/মাস্টারকার্ড থেকে হাজারে মাত্র ৫ টাকা খরচে অ্যাড মানি করা যায়।
এছাড়াও এমক্যাশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলসহ বিভিন্ন বিল ও মেট্রোরেলের র্যাপিড পাসের রিফিল করা যায়। এমক্যাশের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও বিধাব ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা গ্রহণ করা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এমক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছে। গ্রাহকরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট, ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপ-শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম ও সিআরএম বুথ থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন।
এমকে
কর্পোরেট সংবাদ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়
কঠোর অভিবাসন নীতি ও বাড়তি ভিসা প্রত্যাখ্যানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নতুন ভিসা নিয়মে উচ্চ প্রত্যাখ্যানের হার থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী নিয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নয়, বরং হোম অফিসের কঠোর কমপ্লায়েন্স ও নজরদারির কারণে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। তবে শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জোগান দিয়ে থাকেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ভিসানীতির এই কঠোরতা দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক শিক্ষাগন্তব্য হিসেবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার বলছে, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সংস্কার। সরকারের দাবি, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।
কর্পোরেট সংবাদ
দু’দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং কনফারেন্সের উদ্বোধন
সেন্ট্রাল শরী’আহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এটি উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, পিএইচডি, সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কবির হাসান ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিযাল ইনস্টিটিউশনস (আআওফি) এর বোর্ড অব গভরন্যান্স অ্যান্ড এথিকসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফররুখ রেজা।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশাররফ হোসেন ও সেন্ট্রাল শরী’আহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাকী আন-নাদভী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শরীআহ অ্যাডভাইজরি বোডের্র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার মুফতি মুহাম্মদ ত¦কী উসমানী, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসের (আআওফি) সেক্রেটারি জেনারেল ওমর মোস্থফা আনসারি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সম্মেলনের কনভেনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. মো. সাকিদুল ইসলাম।
সম্মেলনের প্রথম দিনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক স্কলারদের একাধিক কী-নোট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি “বাংলাদেশে ইসলামী ফাইন্যান্স শিক্ষা” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
“টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইসলামিক ফাইন্যান্স” এই প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ইসলামিক ফাইন্যান্স পেশাজীবী, শরী’আহ বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা, নীতিনির্ধারক, আর্থিক উদ্ভাবক এবং দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন।
সম্মেলনের ২য় দিনে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।



