আইন-আদালত
আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা মামলায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১১ মে) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম. লিটন আহমেদ।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের কিছু সময় আগে, রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে লিখেন, আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।
সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও হবিগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। পরে হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন।
এরপর হাইকোর্টের দেওয়া জামিনা দেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেন যুবদল নেতা ও মিরপুরের ‘বাঙালিয়ানা ভোজ’-এর বাবুর্চি হৃদয় মিয়া। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে তার ডান পায়ে গুলি লাগে।
গ্রেফতারের পর এ মামলায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন পাঁচ দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
আইন-আদালত
গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা
গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ (ছেলে না মেয়ে) নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারীর অধিকার ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা প্রকাশ না করার আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা তা প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা বাড়ায়। আদালত মন্তব্য করেন, এটি সংবিধান স্বীকৃত সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা ছিল না। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রূণসংক্রান্ত পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।
হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে এ ডাটাবেজ চালুর নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।
এ রায়কে আদালত “কনটিনিউয়াস ম্যানডামাস” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও এর বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই বিষয়ে রিট আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশনা দেন।
আইন-আদালত
হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এ রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব। রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে। সবশেষ শনিবার হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৪৭ হাজার ৬৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৬ হাজার ৯৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ের মধ্যে সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩ হাজার ৬৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আইন-আদালত
আপিল বিভাগেও আইভীর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রোববার (১০ মে) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভী রহমানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৫ মামলায় তাকে জামিন দেন।
তবে আপিল বিভাগে তার স্থগিত হয়ে যায়। এরই মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।
আইন-আদালত
ব্যবসায়ীরা সংসদে গিয়ে নিজেদের স্বার্থে কাজ করছে: মহসিন রশিদ
সংসদে আইনজীবীদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা যাওয়ায় আইন প্রণয়নে ন্যায়বিচার ও ইনসাফের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সংসদে গেলে নিজস্ব স্বার্থ দেখেন, আইন বা ইনসাফের বিষয়টা দেখেন না।
শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদের প্রতিষ্ঠা সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মহসিন রশিদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এখন দেখা যাচ্ছে কোন বিচারককে কে নিয়োগ দিয়েছেন, সেই বিচারকের আদালতে গেলে সুবিধা পাওয়া যায়। এসব সমস্যার কারণে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হচ্ছে এবং জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ মিলিয়ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংগঠনটি অরাজনৈতিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আগের সংসদগুলোতে বেশিরভাগ আইনজীবীরা যেতেন, কারণ তারাই জানেন কীভাবে আইন প্রণয়ন করতে হয়। কিন্তু সেই ধারা এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। আইনজীবী সংগঠনগুলো রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ায় নতুন এই সংগঠন রাজনীতির বাইরে থেকে আইনজীবীদের স্বার্থ, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ। এছাড়া আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাও পড়ে শোনানো হয়। বিভিন্ন জেলা বার থেকে আসা প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
আইন-আদালত
জনপ্রিয় নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিন: বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রীর আহ্বান
জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, একজন বিচারককে সবসময় স্বাধীন চিন্তা ও চেতনায় বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
বিচার বিভাগের প্রতি জনআস্থা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, গোটা বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে হবে। প্রধান বিচারপতির বাসভবন যেন প্রতিটি মানুষের কাছে তীর্থস্থানের মতো মর্যাদা পায়। এই প্রতিষ্ঠান যেন কোনোভাবেই মানুষের ক্ষোভ বা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়।
বিচারকদের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারকদের কোনো দাবি বা কথা থাকলে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার তা বিবেচনা করবে। তবে সবার প্রতি তার একটাই অনুরোধ — জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।




