অর্থনীতি
বিনিয়োগ আকর্ষণে কর্পোরেট কর ২০ শতাংশে কমানোর দাবি
দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেসরকারি খাতের কর্পোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি।
জেবিসিসিআই জানায়, অনেক দেশ ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর হার কমিয়েছে। তুলনামূলক উচ্চ করের কারণে বাংলাদেশে শিল্প সম্প্রসারণ ও মূলধন প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত তাদের।
সংগঠনটি মনে করে, কর্পোরেট কর কমানো হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন), আইসিএবি সাবেক সভাপতি এবং জেবিসিসিআই সাধারন সম্পাদক মারিয়া হাওলাদার এফসিএ, জেবিসিসিআই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, জেবিসিসিআই সহ সভাপতি মতিউর রহমান, জেবিসিসিআই সাবেক সভাপতি আসিফ এ চৌধুরী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য বিভিন্ন সুপারিশমালা পেশ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও আনুষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং টেকসই দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার ওপর আলোচনা করা হয়। জেবিসিসিআই মনে করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়ের ওপর মনোযোগ না দিয়ে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
জেবিসিসিআই সামগ্রিক ভ্যাট ব্যবস্থাকে সরল করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার এবং একটি একীভূত ভ্যাট হার কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করে। অতিরিক্ত উৎসে কর ব্যবসার নগদ প্রবাহের উপর চাপ সৃষ্টি করে, কার্যকরী মূলধনের সীমাবদ্ধতা বাড়ায় এবং ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত অগ্রিম বা ন্যূনতম কর ব্যবস্থার পরিবর্তে কর ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে নিট লাভের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। বিদ্যমান ন্যূনতম কর ব্যবস্থা লোকসানে পরিচালিত হলেও কোম্পানিগুলোর উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়, যার ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং ব্যবসার স্থায়িত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য সাধারণ কর্পোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে করের হার কমাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক কর্পোরেট কর কাঠামো শিল্প সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত টেক্সটাইল খাত ১৫ শতাংশ হ্রাসকৃত কর্পোরেট কর সুবিধা পেতো। বর্তমানে এই খাতটি সাধারণ কর হারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এমন এক সময়ে শিল্পের ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং পণ্যের দামের চাপ ব্যবসায়িক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অর্থনীতি
গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায় রেস্তোরাঁ মালিকরা
দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরবরাহ কমেছে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে কমেছে গবাদিপশু পালনও। এই পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে নিজেরাই সরাসরি গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট ও ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী ও দপ্তর সম্পাদক আমির হোসেনসহ নেতারা।
সমিতি জানায়, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমে গেছে এবং সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতে।
মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে করসহ অন্যান্য করের ভার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
এলপিজি গ্যাস সংকটকে আরেকটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক নতুন ও ছোট রেস্তোরাঁ গ্যাস সংযোগের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। পরিকল্পিতভাবে নতুন সংযোগ দেওয়া হলে এলপিজির ওপর নির্ভরতা ও ব্যয় দুটোই কমবে। এছাড়া কিছু অসাধু গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১১ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে— রেস্তোরাঁ পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, রেস্তোরাঁ খাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্প হিসেবে ঘোষণা এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।
অর্থনীতি
লজিস্টিকস খাত সংস্কার না হলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ: ডিসিসিআই গোলটেবিল
দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে একটি দক্ষ ও সমন্বিত লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। গত শনিবার (৯ মে) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয়। রবিবার (১০ মে) সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, লজিস্টিকস খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। তিনি জানান, বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা, সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ধীরগতি এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসের অপ্রতুলতা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল ও মন্থর করে তুলছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে বন্দরগুলোতে পেপারলেস অটোমেটেড ব্যবস্থা প্রবর্তন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এর মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে, যা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে উৎপাদনমুখী খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও রপ্তানি এখনো গুটিকয়েক পণ্য ও বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান লজিস্টিকস ব্যয় ২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে রপ্তানি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় মাত্র ১ শতাংশ কমলেও রপ্তানিতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
আলোচনায় অন্য বক্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হওয়ায় রেলপথই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তবভিত্তিকতার অভাব এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর অসমন্বয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ জানান, পানগাঁও বন্দরে স্ক্যানার মেশিন না থাকায় এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সীমাবদ্ধতায় শিল্পখাতে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী জানান, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি আধুনিক হয়নি এবং স্থলবন্দরগুলোতে ডিজিটাল কার্যক্রমের অনুপস্থিতি পণ্য খালাসে বিলম্ব তৈরি করছে। এডিবির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ধীরাশ্রম আইসিডি কনটেইনার ডিপো ও মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব বাস্তবায়নে এডিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি
মে মাসের ৯ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার
চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে প্রবাসী রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৩৬ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোটের প্রচলন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১০ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
১. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে হাট শুরুর দিন হতে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তপশিলি ব্যাংকগুলোর তালিকা এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো।
এ হাটগুলো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মে-এর মধ্যে naima.tanzin@bb.org.bd এবং zarrin.tasnim@bb.org.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যাদি মনিটরিং করবেন।
২. ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়/প্রধান শাখাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;
৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, এমন জেলাসমূহের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা/উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের এতদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টন করা দায়িত্ব অনুযায়ী, আপনাদের ব্যাংকের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শাখাসমূহ যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;
৪. হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনাকরণ সুবিধা প্রদান করতে হবে;
৫. বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদিত হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে;
৬. বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে এ বিভাগের (তদানীতন DCMPS) ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জাল নোট: ০১(পুলিশ)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
৭. বুথে ব্যাংকের নাম ও তার সঙ্গে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার/নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে;
৮. ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি আপনাদের ব্যাংকের শাখাসমূহে ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে;
৯. দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এতদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে; এবং
১০. পবিত্র ঈদুল আজহা সমাপ্তির পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উপরে বর্ণিত নির্দেশনার সূত্রে আপনাদের কর্তৃক পরিপালিত বিষয়াদির ওপর প্রস্তুত করা একটি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে এ বিভাগে পাঠাতে হবে।
অর্থনীতি
ঈদ সামনে রেখে ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করছে টিসিবি
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্নআয়ের মানুষের স্বস্তির জন্য সাশ্রয়ী দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে শুরু হওয়া ট্রাকসেল কার্যক্রমে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।
রোববার (১০ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী ১১ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮.৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাকা কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।




