জাতীয়
সিলেটে ৪৬৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন
সিলেটের সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
আজ শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী এসময় প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
সিসিক জানায়, সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে যেমন নদীভাঙন রোধ হবে, অন্যদিকে নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাতীয়
বাড়ছে ৭ নদীর পানি, যেসব অঞ্চলে ধেয়ে আসছে বন্যা
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টির প্রভাবে বন্যার শঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতোমধ্যে সাতটি নদীর একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সোমবার (৪ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে হাওর এলাকার নদীগুলোতে। এতে কয়েকটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইল ও হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, হাওর বেসিনের তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদী, নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংশ নদী এবং মগরা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের কালনি ও সুতাং নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও কিছু নদীতে পানি সামান্য কমেছে, তবুও সার্বিকভাবে হাওর অঞ্চলে পানির স্তর ধীরগতিতে বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
জাতীয়
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তদবির করলেই ‘অপরাধী’: ডিএমপি
রাজধানীতে চাঁদাবাজি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বিশেষ অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কেউ অপরাধীর পক্ষে তদবির করলে তাকেও অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীতে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকায় পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে, আমাদের মূল গুরুত্ব থাকবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে ডিএমপি চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি ‘সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল’ গ্রহণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— অপরাধীদের নির্মূল করা, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকা মহানগরীকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা।
মো. সরওয়ার বলেন, বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিটিটিসি টিম যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং ৯৪ জন সহযোগী চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শনিবার ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে। আগে যেখানে ছোট পরিমাণের মাদকসেবী বা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হতো, গত কয়েক সপ্তাহে বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের পেছনে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা এবং কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, ‘আরও কয়েকটি জায়গায় শিগগিরই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন নতুন এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার, সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান আছে, যাতে দ্রুত আসামি শনাক্ত এবং অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।’
সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, মাদক বা অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে দিতে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচ্য নয়; তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়াড়ি ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তদবির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন অপরাধীকে ছাড়ানোর জন্য যদি কেউ তদবির করে, কোনোক্রমেই সেই তদবির গ্রহণ করা হবে না। ধরে নেওয়া হবে, যারা তদবির করবে তারাও এই অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত। অতএব, এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা)।”
চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, চাঁদাবাজ শুধুই চাঁদাবাজ। তাদের পরিচয় বা অন্য কিছু আমাদের কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য হলো সে চাঁদাবাজি করে, অপরাধ করে। সে যেই হোক, আমাদের কাছে অপরাধী। যারা চাঁদাবাজ, তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই অভিযানে শুধু থানা পুলিশ নয়, পাশাপাশি ডিবি এবং সিটিটিসি-ও কাজ করছে। আসামিদের তালিকা তিন সংস্থার কাছে এবং র্যাবের কাছেও আছে। অপরাধী কোনো না কোনোভাবে ধরা পড়বেই। আমরা তাকে চাঁদাবাজির স্থান থেকে, তার বাড়ি থেকে, এমনকি সে যদি দিনাজপুর বা রংপুরেও পালিয়ে যায়, সেখান থেকেও ধরে নিয়ে আসব। ওদের পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
চাঁদাবাজদের তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ৫৮ জন তালিকাভুক্ত অপরাধী। এর বাইরে ৯৪ জনকে ধরা হয়েছে, যারা তালিকায় ছিল না কিন্তু চাঁদাবাজিতে জড়িত। এই ৯৪ জনের নামও এখন তালিকায় উঠে যাবে।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উপদ্রব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বলা যায়, এখন তেমন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উপদ্রব নেই। তবে কিছু মিডিয়াম লেভেল (মাঝারি সারির) বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে কিছু সন্ত্রাসী কাজ করে। তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলেও জনসাধারণের ওপর আক্রমণের ঘটনা তেমন নেই। তারপরও আমরা তাদেরকে মনিটরিং করছি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’
মোহাম্মদপুর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বসিলায় ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ৬৬ জন সদস্য থাকে। তাদের দিয়ে দিনে-রাতে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ‘ব্লক রেইড’ দেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুরে আরও দুটি ক্যাম্প আছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং রায়েরবাজার থানা স্থাপনের প্রস্তাব অলরেডি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আছে।
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু ডিসি সম্মেলন
রাজধানীতে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এবারের উদ্বোধনী আয়োজন ঘিরে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের উদ্দেশে রওনা দেন। দূরত্ব খুব বেশি না হলেও তার এ পদযাত্রা উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়েছিলেন সাধারণ নাগরিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে তারা উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নাড়িয়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন এবং মাঝে মাঝে থেমে কারও সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এই চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও জেলা পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবা প্রদানে গতিশীলতা আনা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসার ঘটনাকে অনেকেই ইতিবাচক ও জনবান্ধব বলে মনে করছেন।
জাতীয়
ডিসি সম্মেলন শুরু আজ, আলোচনায় ৪৯৮ প্রস্তাব
দেশের মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আজ রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে সম্মেলনটি চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এবারে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনায় আসবে।
সম্মেলন ঘিরে শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাবগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতেই সর্বাধিক সংখ্যক প্রস্তাব রয়েছে।
চারদিনের এই আয়োজনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিও রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গেও পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দিনের সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা ও ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবন-এ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজে অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন, যা মাঠ প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয়
থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাজধানীর ঢাকাসহ সারাদেশের থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২ মে) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন রমনা মডেল থানা পরিদর্শনকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি থানার বিভিন্ন কক্ষ ও হাজতখানাসহ সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
থানা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী থানার ওসি ও ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
মন্ত্রী বলেন, সততা ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ জনগণকে (সেবাগ্রহীতাদেরকে) সেবা প্রদানের জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের রিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।




