অর্থনীতি
আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। তেলের উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা, এই সব মিলিয়ে বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান শান্তি আলোচনা স্থবির থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ৪টা ২৬ মিনিট অনুযায়ী, স্পট স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৬১.৩৩ ডলারে নেমে আসে। টানা চার সপ্তাহ দাম বৃদ্ধির পর চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার ২৪ এপ্রিল স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। তেলের উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা, এই সব মিলিয়ে স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান শান্তি আলোচনা স্থবির থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। খবরটি জানিয়েছে রয়টার্স।
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ৪টা ২৬ মিনিট অনুযায়ী, স্পট স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৬১.৩৩ ডলারে নেমে আসে। টানা চার সপ্তাহ দাম বৃদ্ধির পর চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্স ১ শতাংশ কমে ৪,৬৭৬.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, যতদিন হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকার ঝুঁকি থাকবে, ততদিন তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও জানান, স্বর্ণের দাম বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করছে। এর উপরের সীমা প্রায় ৪,৯০০ ডলার (৫০ দিনের গড়) এবং নিচের সীমা প্রায় ৪,৬৪৫ ডলার (২০ দিনের গড়)।
ওংয়ের ভাষায়, এখন সবকিছুই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন পরিস্থিতির ওপর।
এমএন
অর্থনীতি
সামাজিক সুরক্ষায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন এডিবির
বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বড় অঙ্কের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২৫০ মিলিয়ন ডলারের এই ঋণ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়াতে এবং বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর করতে ব্যবহার করা হবে।
এই অর্থ ‘সেকেন্ড স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ধাপের আওতায় দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা, যাতে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং ভবিষ্যৎ সংকটে তাদের সক্ষমতা বাড়ে।
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষ করে নারীদের জন্য সহায়তা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দারিদ্র্য ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে।
কর্মসূচির আওতায় নতুন অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সরকারের রাজস্বের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় আরও প্রায় আড়াই লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহনশীল করতে কর্মভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে। এর ফলে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং বর্তমানে এর সদস্য দেশ সংখ্যা ৬৯টি।
অর্থনীতি
কমার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম আরো বেশি ছিল। স্বর্ণের অন্যান্য মানের ক্ষেত্রেও দাম কিছুটা কমেছে। নতুন মূল্য তালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রি হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।
তবে ক্রেতাদের মাথায় রাখতে হবে, নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হবে। গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির এই হারে পরিবর্তন হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বেশ অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো।
এর মধ্যে ৩২ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৪ বার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
অর্থনীতি
মার্চে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে সরকার, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি
সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন, মার্চ মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটা হাইপাওয়ার মানি, ছাপানো টাকা। অর্থাৎ এটার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন পিআরআইয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করার সময় আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংস্কার থেকে পিছিয়ে গেলে সেটা আত্মঘাতী হবে। আশা করছি সরকার ব্যাংক রেজোল্যুশন পর্যালোচনা করবে। সংস্কার থেকে পিছিয়ে এসে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় টেনশন সৃষ্টি করেছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনই দ্বিধা–দ্বন্দ্ব কাজ করছে। তাঁরা গ্যাস–বিদ্যুৎ পাবেন কি না, সেই চিন্তা করছেন। সরকার ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাইদি সাত্তার বলেন, সব জিনিসের দামের ওপরে জ্বালানির প্রভাব রয়েছে। হরমুজ ইস্যুতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই চাপ পড়ছে। তাই নির্বাচিত সরকারকে বড় সংস্কারের দিকে যেতে হবে।
এমএন
অর্থনীতি
প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস এবং আন্তঃজেলা রুটের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর হবে।
ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত রয়েছে বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন বাস ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সভায় পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, পরিবহন খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ ও সামগ্রিক যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
এ অবস্থায় পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল পরিবহন নেতারা।
এর আগে গত রোববার (১৮ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক শুরু হয়। রাত ১০টার দিকে বৈঠকটি শেষ হয়। এতে বিআরটিএর কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক–শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে জানান, ভাড়া বিষয়ে একটি খসড়া করা হয়েছে। দ্রুতই মন্ত্রণালয় থেকেই খসড়া প্রস্তাব চুড়ান্ত হয়ে নির্দিষ্ট কত ভাড়া বৃদ্ধি হবে সে বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নতুন এই দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এমএন
অর্থনীতি
স্বর্ণ-রুপার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে নতুন দরে, কোনটির ভরি কত?
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে নতুন দরে বিক্রি শুরু হয়েছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই মূল্যবান ধাতু দুইটির সমন্বয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে, সবশেষ গত ১৫ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২৪ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে এবার দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
এমএন



