স্বাস্থ্য
আ.লীগের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
দীর্ঘ ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কর্মসূচিতে ভুল নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেশব্যাপী ‘হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় একটি ধ্বংসস্তূপের মতো স্বাস্থ্য খাত হাতে পেয়েছে। তিনি বলেন, পুরোনো অকেজো যন্ত্রপাতি, চিকিৎসাসেবার অনুপযোগী পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার অভাব, এমন এক ভগ্নপ্রায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। এক সরকারের ১৫ বছরের সীমাহীন জঞ্জাল আর অন্য সরকারের ভুল নীতির খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সময়মতো শিশুদের টিকা দেওয়া হলে এই সংক্রামক ব্যাধি সহজেই প্রতিরোধ করা যেত, কিন্তু বিগত বছরগুলোতে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভগ্নপ্রায় অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যেও বর্তমান সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছি। এরই মধ্যে ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আরও ৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
ড. এম এ মুহিত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভগ্নপ্রায় অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের আরও ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং আমরা দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে উঠব।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন নিশ্চিত হামে এবং অপর ৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম সংক্রান্ত পরিস্থিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, বরিশাল ও রাজশাহীতে ১ জন করে মারা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ১ শিশুর মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৬। আর সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮১। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৭ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৫ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ১৯৭ জন। এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে।
তবে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩২৬ সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে ১২ হাজার ৩৯৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৬টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়কালের।
প্রতিবেদনে অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর।
এমএন
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ((১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামে নিশ্চিত এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আট শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং এক শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুর মধ্যে ছয়জনই ঢাকার, দুজন চট্টগ্রামের এবং একজন রাজশাহীর।
একই সময় ১ হাজার ১০৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৪৮৫ জনই ঢাকা বিভাগের। হামের উপসর্গ নিয়ে একই সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ শিশু। যার ২৯০ জনই ঢাকা বিভাগের। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৬। যার মধ্যে ১৫৭ জনই ঢাকা বিভাগের।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৩৫ শিশু। ছাড় পাওয়া চট্টগ্রামের শিশু ঢাকার, ২৫৮ শিশু ঢাকার, ৭৯ শিশু খুলনার, ৯ শিশু ময়মনসিংহের, ৮৯ শিশু রাজশাহীর, ১৩ শিশু রংপুরের, ২৬ শিশু সিলেটের এবং ৫০ শিশু বরিশালের।
এর আগে গত রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি পাঁচ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ শিশুর।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ পাওয়া ১৮ হাজার ১২৯ শিশুর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ শিশু। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯ হাজার ৩০৪ শিশু বাসায় ফিরেছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৪২৮ জন শিশু।
রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)।
এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ জনের মধ্যে ১৫০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ১২৬৮ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহজনক হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫১ জন শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হলো।
একই সময়ে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে।
স্বাস্থ্য
ঢাকার দুই সিটিতে টিকা দেয়া হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এই দুই সিটিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা দেয়া গেলে হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্মেলন কক্ষে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে বর্তমান সরকার। ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সম্পন্ন করা গেলে হাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।’
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। সরকার এরইমধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেইসঙ্গে মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’
এদিকে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী আয়োজনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৯ মাস পর্যন্ত যাদের বয়সি শিশুদের অবশ্যই টিকা দিতে হবে। শুধু আপনার বাচ্চা টিকা নিলো কি না তাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
‘অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাতে দু-চারজন বাদ গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে’ যোগ করেন এম এ মুহিত।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। আজ ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার এই টিকাদান কর্মসূচি। ঢাকার দুই সিটিতে টিকা পাবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার শিশু। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।



