জাতীয়
সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসবের আনন্দে ভাসছে রাজধানীসহ পুরো দেশ।
ঈদকে ঘিরে ঘরে ঘরে ছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেমাই, চিনি, পোলাওয়ের চাল আর নতুন পোশাকের সুবাসে মুখর ছিল চারপাশ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরে পাড়া-মহল্লায় নেমে আসে আনন্দের ঢেউ। শিশু-কিশোররা মেতে ওঠে উল্লাসে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ )জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়।
পরদিন শুক্রবার চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই ঈদ উদযাপনের ঘোষণা আসে।
এবারের ঈদে রয়েছে ভিন্ন মাত্রা। নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম ঈদ হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে বাড়তি আলোচনা ও উৎসাহ।
তবে ঈদের আনন্দে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে আবহাওয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে ঈদের জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্যান্ডেল, মাইক ও ওজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে বসানো হয়, পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ছাড়াও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তেও নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিল মানুষ। জুতা, টুপি ও আতরের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি।
আজও নাড়ির টানে ঘরে ফিরেছেন মানুষ। এতে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করে সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার। ঈদগাহে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু খাবার, চলছে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে পুরো জাতি-এভাবেই উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
জাতীয়
রাজধানীর সব বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে রাজধানীতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে প্রতিটি বাসায় ধাপে ধাপে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে আগামী জুনের মধ্যে নতুন নীতিমালা জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নির্মাণ সরঞ্জাম বিষয়ক বিআইআইডি এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং ব্যাকআপ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সোলার বিদ্যুৎ সহজলভ্য করা হবে। এ জন্য সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের অভাবে দেশে বড় পরিসরে সোলার ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেনি। তবে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে সোলার ও বায়ুশক্তি খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
জাতীয়
নতুন করে পাঁচটি উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে পাঁচটি উপজেলা গঠন এবং বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রস্তাব উঠছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) আসন্ন সভায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব প্রস্তাব অনুমোদন পেলে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি আসবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে নিকারের ১২০তম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বগুড়া হবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, অবকাঠামো ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনায় এটি সিটি করপোরেশন হওয়ার উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বগুড়া পৌর এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার হলেও বাস্তবে জনসংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি ছিল স্থানীয়দের। প্রাক-নিকার কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তাবটির পক্ষে মত দিয়েছে।
এদিকে নতুন উপজেলা গঠনের তালিকায় রয়েছে কক্সবাজার, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও ও লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি এলাকা। বর্তমানে দেশে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫। নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদিত হলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০-তে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভেঙে ‘মাতামুহুরী’ নামে নতুন উপজেলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া এ অঞ্চলটি উপকূলীয় হওয়ায় বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। প্রশাসনের মতে, নতুন উপজেলা হলে সেবা কার্যক্রম দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘মোকামতলা’ নামে আরেকটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। যদিও জনসংখ্যা ও আয়তনের কিছু শর্ত পুরোপুরি পূরণ হয়নি, তবু ভৌগোলিক অবস্থান ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে দুটি উপজেলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, বড় আয়তন ও অতিরিক্ত ইউনিয়নের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নতুন দুটি উপজেলা গঠিত হলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কিছু ইউনিয়ন নিয়ে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে আরেকটি উপজেলা করার প্রস্তাব উঠছে। উপকূলীয় ও দূরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা প্রশাসনিক ইউনিটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রস্তাব তৈরির আগে স্থানীয় জনগণের মতামত, গণশুনানি, প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। প্রাক-নিকার কমিটিও যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
নিকার সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
জাতীয়
হরমুজ সংকটের পর দেশে এলো জ্বালানি তেলের বড় চালান
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ দুই মাস পর দেশে পৌঁছেছে ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ। দেশের জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে এসেছে চীনা জাহাজ ‘নিনেমিয়া’।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) জেটিতে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্র জানায়, বিকল্প রুট ব্যবহার করে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২১ এপ্রিল রওনা দেয় জাহাজটি। দীর্ঘ ১৫ দিনের যাত্রা শেষে বুধবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে এটি কুতুবদিয়া অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে।
জাহাজটি থেকে তেল খালাসের জন্য আগে থেকেই ছয়টি লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়। প্রতিটি লাইটার জাহাজ একেক ট্রিপে প্রায় ৪ হাজার টন পর্যন্ত ক্রুড অয়েল পরিবহন করতে পারবে। সে হিসেবে প্রতিদিন অন্তত ২৪ হাজার টন ক্রুড খালাস সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজে করে পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এবং সেখান থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত পুরো ক্রুড পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজটি পৌঁছানোর কথা থাকলেও সমুদ্র উত্তাল থাকায় প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা দেরিতে কুতুবদিয়া অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে। বুধবার দুপুর থেকেই ছয়টি লাইটার জাহাজ দিয়ে কার্গো খালাস শুরু হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি লাইটার ৪ হাজার টন করে ক্রুড বহন করতে সক্ষম। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার কারণে কিছুটা কম তেল পরিবহন করতে হতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এবার তেল পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান বিএসসির এমডি। যুদ্ধের আগে প্রতি টন জ্বালানি পরিবহনে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ ডলার খরচ হতো, এবার সেখানে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ ডলার। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তেল পরিবহনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসে আরও দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আগামী ১০ তারিখে ১ লাখ টন ক্রুড লোড হওয়ার সূচি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ মের মধ্যে সেই চালান দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ টন ক্রুড আনার বিষয়েও বিপিসির সঙ্গে কাজ চলছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৭ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এসইএস ব্রেভ’ নামের একটি জাহাজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন।
এর আগে গত সোমবার ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।
জাতীয়
নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপে গুরুত্ব পাবেন যারা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে এই সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিপুল অংকের আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় প্রথম ধাপে সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ধাপে মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রমতে, নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এই অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতেই প্রথম কিস্তির বড় অংশ ব্যয় হবে। কমিশন সর্বনিম্ন ধাপের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার যে সুপারিশ করেছে, তার একটি বড় অংশ শুরুতেই কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশে সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো পেনশনভোগীদের জন্য বিন্যাস। যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেল কার্যকর করার প্রথম ধাপেই এই ক্ষুদ্র পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা উচ্চ অংকের পেনশন পান, তাদের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম (৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশ) রাখা হয়েছে, যাতে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বিদ্যমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি প্রথম ধাপেই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও শুরুর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের কোনো প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব করেছে কমিশন। অর্থ বিভাগ এই মানবিক প্রস্তাবটিকে প্রথম ধাপেই কার্যকর করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এটি সরাসরি কার্যকর হলে সরকারি চাকুরিজীবী পরিবারের একটি বিশেষ অংশ সরাসরি উপকৃত হবে।
কেবল নিম্নস্তর নয়, সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের ধরে রাখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চপদের বড় অংকের সুযোগ-সুবিধাগুলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।
জাতীয়
ইচ্ছাকৃত ভুয়া তথ্য ছড়ানো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়: ডেপুটি স্পিকার
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই এই স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত নয়।
বুধবার (৬ মে) সংসদ ভবনস্থ নিজ কার্যালয়ে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুজান ভাইজের নেতৃত্বে আগত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ইউনেস্কোর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কার্যক্রম থেকে বাংলাদেশের শিশুরা উপকৃত হচ্ছে। তিনি সাইবার অপরাধ ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় ইউনেস্কো প্রতিনিধিদল জানায়, গণমাধ্যম উন্নয়ন, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন এবং নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তারা একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।




