সারাদেশ
১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে গড়তে হবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ: পানিসম্পদ মন্ত্রী
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ‘জঞ্জাল’ পরিষ্কার করে জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী, ওয়াপদা, জকসিন ও মান্দারী খালসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব কাজ সব ডিপার্টমেন্টের সাথে সমন্বয় করে করব। কাজগুলো চালু রাখব, সুযোগ-সুবিধা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেব।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সে সময় আমরা সেচ সুবিধা পেয়েছি। উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। মাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমরা স্বনির্ভর এলাকা গড়তে সক্ষম হয়েছি। এখনো স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে। সেখানে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। এটা দেশবাসীর প্রয়োজনে এবং দেশের মানুষের সুবিধা বা স্বার্থের কারণে। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি, তা আমরা সম্পন্ন করব।
এ্যানি চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারুল উপজেলায় সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। সারাদেশেই আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী, ওয়াপদা জকসিন ও মান্দারী খাল পরিদর্শন করেছি। খালে যে পরিমাণ ময়লা বর্জ্য পড়ে আছে বা দখল হয়ে আছে, এগুলো যদি আমরা কোনভাবেই সরিয়ে না নেই তাহলে খাল খননের সুবিধা আমরা পাব না। সেজন্য একদিকে খাল খনন অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যারা অবৈধভাবে দখলদার এবং বিভিন্ন জায়গায় ময়রা আবর্জনা ফেলেন তাদের আরও সতর্ক ও সজাগ হতে হবে। সবার আন্তরিকতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এটি সফল হবে বলে আমরা মনে করছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেলাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম প্রমুখ।
এমএন
সারাদেশ
রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বিয়ে করে ফেরার পথে বর-কনেসহ নিহত ১৩
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নয়জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ।
নিহত কনে মারজিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের জানান, বিয়ের পর বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি মোংলার শেলাবুনিয়া এলাকায় কনের শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেল ৪টার পর রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনার ঘটে। এতে কনে মিতু, তার বোন লামিয়া, নানি ও দাদিসহ পরিবারের মোট ৪ জন সদস্য নিহত হন।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি মোংলার দিকে যাচ্ছিল। পথে বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে।
নিহত গাড়িচালক নাঈমের বন্ধু বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে রামপালে নাঈম এক্সিডেন্ট করছে। পরে জানতে পানি নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে নাঈমের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম নাঈম মারা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নবদম্পতির স্বপ্নভঙ্গের পাশাপাশি একাধিক পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
এমএন
সারাদেশ
শরীয়তপুরের চরভাগায় জিওব্যাগ চুরি: ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন এমপি কিরণ
শরীয়তপুরের চরভাগা এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ‘সোনার বাংলা এভিনিউ’ অংশ থেকে জিওব্যাগ চুরির ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হওয়া জিওব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে ব্যাগ ফেরত না দিলে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শরীয়তপুরের সখিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চরভাগাসহ আশপাশের জনপদ রক্ষায় সরকার ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয় জিওব্যাগ, যা নদীর তীব্র স্রোতের চাপ কমিয়ে বাঁধকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে এসব জিওব্যাগ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, যা বাঁধের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তিনি আরও বলেন, যারা জিওব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের কেউ যদি কোনো অপকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।
সখিপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম হামিদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার। নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি শামসুল আলম দাদন, সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ মাসুম বালা, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজীব সরদার এবং নড়িয়া ও সখিপুর উপজেলার বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চরভাগাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএন
সারাদেশ
সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাই: মতিউর রহমান আকন্দ
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, অসহায় ও বিচারবঞ্চিত মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “আমরা সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিচারবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। এ কাজে আইনজীবীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনজীবীদের পবিত্র কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের বগুড়া ইউনিটের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহরের আমির ও বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুলহক সরকার, শহর সেক্রেটারি আব্দুল মালেক এবং জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম।
ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় বগুড়ার বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।
এমএন
সারাদেশ
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলায় ‘জাঙ্গাইল সুরমা নদী হতে বলাউরা জিলকার হাওড় পর্যন্ত বংশীখাল খনন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের অনেক কৃষিজমি শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাঙ্গাইল থেকে বলাউরা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বংশীখাল খনন করা হবে।
তিনি জানান, খালটি খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন, তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নবনির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের সামনে যে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাবে সরকার।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বংশীখাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এমএন
সারাদেশ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২ জন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর (ছিন্নমূল/আলীনগর) এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র মজুদ ও পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন ও আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানটি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এ সময় র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক অভিযান তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় যৌথ বাহিনী কর্তৃক তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার। এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথবাহিনী জানায়, আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন এবং যৌথবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল করা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমএন




