আইন-আদালত
ভোট কারচুপির অভিযোগ: বিএনপির আরও ৪ ও এলডিপির ১ প্রার্থীর হাইকোর্টে মামলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র আরও চার প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র এক প্রার্থী হাইকোর্টে মামলা করেছেন।
সোমবার (০৯ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগগুলোর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলা করা বিএনপির ৪ প্রার্থীরা হলেন— কামরুল হুদা (কুমিল্লা-১১), মোতাহার হোসেন তালুকদার (ময়মনসিংহ-২), হারুনুর রশীদ (চাঁদপুর-৪) এবং এম আকবর আলী (সিরাজগঞ্জ-৪)।
এছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক-ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি, জামায়াতের পক্ষ থেকে ৭টি ও স্বতন্ত্র এক প্রার্থী ভোট কারচুপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যালট ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের নির্বাচনী বেঞ্চ।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে করা ‘নির্বাচনী’ আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি চলছে।
এমএন
আইন-আদালত
শরীয়তপুরের আশিনগরে কেমিক্যাল মিশিয়ে শিশু খাদ্য তৈরি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আশিনগর ইউনিয়নে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করে শিশুদের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষ। অভিযানে সার্বিক সমন্বয় করেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য্য।
অভিযান চলাকালে সহায়তায় ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এইচ. এম. আকতার এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিনগর এলাকায় আইস ললি, চকলেটসহ শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব খাদ্য তৈরিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এছাড়া উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি কোনো সরকারি নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব খাদ্যপণ্য স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে নিম্নমানের কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি তদারকি কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হোক।
আইন-আদালত
হাদি হত্যা: গ্রেফতার দুজনকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে—আইজিপি
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদেরকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রধান অঙ্গীকার জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি থানা হবে জিরো কমপ্লেইন সেন্টার।
‘পুলিশের পক্ষ থেকে অতিউৎসাহী ভূমিকা পালন করবেন না কোনো সদস্য। তবে জনগণকে আইন মেনে চলতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত থাকলে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান আলী হোসেন ফকির।
পুলিশের দুর্নামের জন্য কতিপয় পুলিশ সদস্য দায়ী মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, পুলিশের পদোন্নতি, পদায়নে কোনো ধরণের স্বজনপ্রীতি হবে না। সৎ ও যোগ্য লোক থাকবে পুলিশে। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিটি থানায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর পুলিশের পোশাকের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
এমএন
আইন-আদালত
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী তাহমিনার ২০ লাখ টাকা অবরুদ্ধ
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানের নামে জনতা ব্যাংকে থাকা দুটি সঞ্চয় হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুটি হিসাবে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ কথা জানান।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এই আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, লুৎফুল তাহমিনা ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রাখেন। আসাদুজ্জামান খান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তাকে অপরাধে সহায়তা করেন। লুৎফুল তাহমিনা নিজ নামে এবং তার আংশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭৪৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন।
ওই অর্থের স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, এর ৪(২) ও ৪ (৩) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তারা মামলা সংশ্লিষ্ট অপরাধলব্ধ সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা করতে পারলে মামলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। এ জন্য মামলার বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির সুবিধার্থে লুৎফুল তাহমিনার নামে দুটি সঞ্চয় হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এমএন
আইন-আদালত
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট আসামি ৩০ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মঈনুল করিম। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ২৭ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের পর প্রসিকিউশনের পক্ষে জবাব দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এরপর পাল্টা জবাব দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্কে এ মামলার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়। এছাড়া বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত এসব ভিডিওতে আসামিরা কে কোথায় ছিলেন এবং তাদের কার্যকলাপ শনাক্ত করে দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। একইসঙ্গে ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।
গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন। ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
এমএন
আইন-আদালত
‘সেবা এক্সওয়াইজেড’-এর সিইও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
দেশীয় জনপ্রিয় স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম ‘সেবা এক্সওয়াইজেড’-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ও চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ হালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-৩ এর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা এই পরোয়ানা তামিলের জন্য ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সেবা এক্সওয়াইজেডের সিইওর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রোনাল্ড মিকি গোমেজ। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালনকালে বেতনের বিপরীতে কেটে রাখা করের চালানের কপি তাকে দেওয়া হয়নি। এর ফলে বেতনের বিপরীতে ‘সেবা এক্সওয়াইজেডের’ কেটে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলে আশঙ্কা করছেন মিকি গোমেজ। ভুক্তভোগীর মোট বকেয়া ৪১ লাখ টাকা।
মামলার বিষয়ে মিকি গোমেজ জানান, পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রাখার পর গত বছরের অক্টোবরে তাকে ‘সেবা এক্সওয়াইজেড’ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটিতে সিওও হিসেবে যোগ দেই। ওই বছরের জুলাই থেকে গত বছরের জুলাই পর্যন্ত আমার বেতনের বিপরীতে ১৩ লাখ এক হাজার ৭৯৮ টাকা আয়কর বাবদ কেটে রাখে সেবা। এরপর তাদের চাপে গেল বছরের অক্টোবরে রিজাইন দিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করি। কিন্তু আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা আমাকে কোনো বেতন দেয়নি। উলটো পাঁচ মাসে কর বাবদ ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৫ টাকা আয়কর হিসেবে কেটে রেখেছে।’
মিকি গোমেজ তার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কর হিসেবে ১৮ লাখ ২০ হাজার ২৮৩ টাকা কেটে রাখলেও সেবা আমাকে কোনো চালানের কপি দেয়নি। আয়কর রিটার্নের সঙ্গে তো আমাকে ওই কপি জমা দিতে হবে। নইলে আমাকে ১৮ লাখ টাকা কর আবারও পরিশোধ করতে হবে। আমার ভয় হচ্ছে—সেবার চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ কর বাবদ কেটে রাখা টাকা হয়তো সরকারি কোষাগারে জমা দেননি।’
আদনান ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা পরোয়ানা থেকে জানা যায়, ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানাভুক্ত আসামি আদনান ইমতিয়াজের বাসা মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় হওয়ায় ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরোয়ানা তামিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে করের চালানের কপি না পাওয়ার পাশাপাশি পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের জন্য শ্রম আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন মিকি গোমেজ। তিনি বলেন, ‘সেবা এক্সওয়াইজেড আমার পাঁচ মাসের বেতন দেয়নি। এরপর শ্রম আদালতে মামলা করি। সেই মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা অব্যাহত রাখলে কখনো বকেয়া বেতন দেওয়া হবে না সেবা ও আদনানের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে সেবাএক্সওয়াইজেডের সিইও আদনান ইমিতয়াজ বলেন, ‘এটি সাবেক এক কর্মীর সঙ্গে বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত একটি বিরোধ, যা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। আশা করি আদালতের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’




