ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম, ৫ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের লিখিত দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ-এর কাছে স্মারকলিপি আকারে পেশ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রুনা ম্যামের হত্যাকারী এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত সকল ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়া ম্যামের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩০ দিনের মধ্যে ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবারের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিভাগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে তার প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়। রুনা ম্যামের অবদান ও স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম তাঁর নামে নামকরণের দাবি তোলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান।
এসময় স্মারকলিপি গ্রহন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি গ্রহন করেছি। সবগুলো দাবি যৌক্তিক তবে রুনা ম্যামের পরিবারকে ৪ কোটি ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আমরা ইউজিসির সাথে আলোচনা করবো। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পঁচিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার এখতিয়ার আছে প্রশাসনের।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন আরইউ অ্যাকাউন্টিং ক্লাব লিমিটেড (আরইউএসিএল)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ইফতার মাহফিলের আয়োজনও করা হয়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, গবেষণামনস্কতা ও সৃজনশীলতা বিকাশ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের লক্ষ্যেও সংগঠনটি কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি মো. জাহেদুল ইসলাম (জাহিদ) এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়া।
এমএন
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
আমাদের মা’কে ফিরিয়ে দাও-নিহত শিক্ষিকার সন্তানের আর্তনাদে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এজহারভুক্ত আসামি ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মরহুমের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি-র সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, মেয়ে তাইয়েবা (১১), তাবাসসুম (৯), ছেলে সাজিদ আবরার (৩) এবং ছয় মাস বয়সী ছোট মেয়ে আমেনাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল— “খুনি ফজলুর ফাঁসি চাই”, “রক্তখেকো শ্যামসুন্দর এর ফাঁসি চাই”, “রক্তখেকো বিশ্বজিৎ এর ফাঁসি চাই”, “রুনা ম্যাম এর খুনিদের ফাঁসি চাই”, “এক দফা এক দাবি খুনীদের ফাঁসি চাই”, “কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করো”, “মা হারা আমরা চার ভাইবোন”, “আমাদের মা’কে ফিরিয়ে দাও” ইত্যাদি।
মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার কন্যা তাবাসসুম বলেন, “আমার ছোট ভাইটা সারাক্ষণ কাঁদে, মা মা বলে ডাকে। আমার মাকে ফিরিয়ে দিন। যারা আমার মাকে মেরেছে তাদের সবার ফাঁসি দিন।”
বড় মেয়ে তাইয়েবা বলেন, আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই। আমরা তো এতিম হয়ে গেলাম। আমার মা কে যত কষ্ট দিয়ে মেরেছে তাদেরও যেন তত কষ্ট দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। আমার মায়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল করার দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, তাদের মা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট ভাই-বোনরা রাতেও ঘুমাতে পারে না। আমার মা আমাদের কত আদর করে ঘুমায়ছেন, এখন আমরা মাকে কোথায় পাবো বলেন!
নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ বলেন, “শ্যাম, হাবিব তারা একটি দিনও তোমাদের ম্যামের সাথে ভালো আচরণ করেছে সেটার সাক্ষ্য দিতে পারবে তারা? যদি করে থাকে আমি—পুরো কেস তুলে নেব, চ্যালেঞ্জ করতেছি একটা দিন যদি তারা ভালো আচরণ করে থাকে। প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে আমাকে ফোন করে বলত, প্রত্যেকে আমার সাথে এতো খারাপ আচরণ করে আমি না শিক্ষক না চেয়ারম্যান। আমার (নিহত শিক্ষিকা) সাথে পিয়ন থেকে শুরু করে বিশ্বজিৎ, শ্যামের মতো লোক অকথ্য ব্যবহার করেছে। তারা চ্যালেঞ্জ করে আমি এই বিভাগেই থাকব দেখি কার কত ক্ষমতা আছে। তোমরা বলো, তোমরা যদি সত্যি, ন্যায়ের পক্ষে না বলতে পার আমার বিচার দরকার নেই। আমার সন্তানদের দুধ থেকে বঞ্চিত করে রাতের পর রাত প্রশ্ন করেছে খাতা দেখেছে। বলতে পার তোমার ম্যাম চেয়ারম্যানশিপ পাওয়ার আগে একটা ব্যাচ বের হয়েছে কি না। তোমার ম্যাম রাতের পর রাত পরিশ্রম করে তাদের পার করেছে, এই শ্যাম তো তাদেরও পরিক্ষা নিতে চেয়েছিল না ।
তিনি আরো বলেন, (খুনি) ফজলু যে ফোন ব্যবহার করছে সেটা আমি কিনে দিয়েছি,তোমার ম্যাম যোগদান করার পরে প্রতিটা ঈদ প্রতিটা বছর তাকে টাকা দিত বার বার বলতো ফজলু কত পরিশ্রম করে আমি যখন পারি যেভাবে পারি যত টুকু পারি ফজলু কে দেওয়ার চেষ্টা করি; তুমি কিছু মনে করো না, ফজলু বেঁচে আছে সে বলতে পারবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান প্রত্যেকে সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এতোমধ্যে খুনি ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামী করে উক্ত তিনজনের নামে ইবি থানায় একটি মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
শিক্ষিকাকে নিজ অফিস কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রদানের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এ কমিটি গঠন করেন।
পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. গোলাম মওলাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ বিষয়ে মিটিং দিয়েছি এবং সদস্য সচিবকে কমিটির সদস্যদের চিঠি দেওয়ার জন্য বলেছি।
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনে সমাজ কল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান। হত্যার পরে ফজলু নিজে নিজের গলায় ছুড়ি চালিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও কর্মকর্তা সাময়িক বহিষ্কার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ আসামি বিভাগের দুই শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সমায়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৭মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানে হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আসামিরা হলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও মো. হাবিবুর রহমান এবং বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।
বিজ্ঞপ্তি হতে জানা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪ অনুসারে থানায় প্রাপ্ত আমলযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক তথ্যে উপরোক্ত আসামিদের নাম উল্লেখ থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী শৃঙ্খলা বিধির ১৫(বি) ধারা অনুযায়ী তাদেরকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক জীবন ধারণ ভাতা পাবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, একজন কর্মকর্তা ও ২ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হত্যা মামলার আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট হতে পারে না। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৪ মার্চ) আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গতকাল ওই শিক্ষিকার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেলে তার স্বামী ফজলুকে প্রধান আসামিসহ বাকি তিনজনকে আসামি অর্থাৎ মোট চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ফজলুকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
এমএন
অন্যান্য
ইবি শিক্ষিকাকে খুন, আত্মা হত্যার চেষ্টা কর্মচারীর
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে কর্মচারী কর্তৃক নিজ অফিসে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় একই বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪ টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় উভয়কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরএমও ডা. ইমাম হোসাইন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী ফজলু আগে সমাজ কল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিল। পরবর্তীতে তার কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদল করে। বদল করার আগে তাকে তিন-চারবার সুযোগ দেওয়া হয় কিন্তু তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় অবশেষে তাকে বদলি করে দিতে বাধ্য হয়। হত্যাকারী ফজলুর রহমান তার এ ট্রান্সফারটা মেনে নিতে না পেরে বিভাগের সভাপতিকে বারবার অনুরোধ করে তার অনুষদে আবার ফিরে আনার কিন্তু সভাপতি (মৃত শিক্ষিকা) রাজি হয়নি। এজন্য তার এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সে বিভাগীয় সভাপতিকে হত্যা করা হয়েছে ধারণা করা হয়।
ভবনের দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, আমি নিচে ছিলাম তখন তিন-চারবার বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনতে পাই। পাশে কয়েকজন ছাত্র ছিল। তাদের সাথে উপরে কী অবস্থা দেখার জন্য গেলাম। পৌঁছে দেখি দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার দরজা খুলতে বলা সত্বেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় একজন চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছিদ্র দিয়ে রুমের অবস্থা দেখে বললো ভিতরে খুন হয়েছে। ৬ জন মিলে দরজা ভেঙে দেখি ম্যাডাম নিচে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। আর হত্যাকারী নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ঐ কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সে ব্যাপারে পরে জানানো হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই বিচার করা হবে।
এমএন/এমএসএ




