আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলের বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
উত্তর ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সশস্ত্র ইসলামী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে ড্রোন মোতায়েন করে ঘাঁটির রাডার সাইট এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে, বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা আজ সকালে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে ডায়েট কোকের সংকট
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা ও এরপর তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাতে সৃষ্ট যুদ্ধের কারণে ভারতে ডায়েট কোকের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে এই পানীয়টি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানেই বিক্রি করা হয়, আর যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ক্যান সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ হয় উপসাগরীয় অঞ্চলে।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়, যার ফলে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি এই ক্যান সরবরাহও আটকে রয়েছে।
ভারতে সাধারণত অধিকাংশ কোমল পানীয় প্লাস্টিক বোতল ও ক্যান—দুইভাবেই বিক্রি হয়।
তবে ডায়েট কোক শুধু ক্যানেই পাওয়া যায়, ফলে এর ওপর প্রভাব বেশি পড়েছে।
কোকা-কোলার দুই পরিবেশক রয়টার্সকে জানান, ক্যানের সংকটের কারণে কোম্পানি সরবরাহ সীমিত করছে বা কিছু অর্ডার পূরণ করতে পারছে না বলে তাদের জানানো হয়েছে।
সঞ্জয় নামে একজন পরিবেশক বলেন, “আমরা নিয়মিত অর্ডার দিচ্ছি, কিন্তু যুদ্ধের কারণে ঘাটতির কথা জানানো হচ্ছে।”
তবে এ বিষয়ে কোকা-কোলা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক
ইরানকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে বারবার মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কখনো তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, আবার কখনো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো সমাধান নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়নি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মস্কোয় লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের আল-বাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ল্যাভরভ বলেন, “আমরা ইরানের অবস্থান বুঝতে পারছি। তারা যথার্থভাবেই বলছে, তারা আগেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে।”
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দুই সপ্তাহ ব্যাপী যুদ্ধবিরতি শেষ হবে। তার আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় আলোচনা ভেস্তে গেছে।
ল্যাভরভ আরও বলেন, পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে রাশিয়া নজর রাখছে। তবে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাতে পারে এবং তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকবার পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের মতো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সেটা বড় ধরনের সাফল্য হবে।
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি সম্পাদিত হয়। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে একপাক্ষিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।
ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নানা ধরনের ইঙ্গিত থাকলেও এখনও পর্যন্ত কোনো বাস্তব ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আমরা দেখছি, কিন্তু বাস্তবতা দেখছি না।’
বিশ্লেষকদের মতে, ল্যাভরভের এই বক্তব্য শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কোনো চুক্তি অর্জন করা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং রাশিয়া-চীনসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো চুক্তি অর্জিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তথ্যসূত্র: তাস ও আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
লেবানন থেকে সেনা সরাতে ইসরায়েলকে আহ্বান ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেবানন-ইসরায়েল পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং দেশটির জনগণের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় ফ্রান্স লেবাননের পাশে রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে। এই সমঝোতা উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রের বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট একইসঙ্গে ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ ও লেবাননের পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং নতুন সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা তৈরির কারণে এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাসটি।
একইসঙ্গে দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু হওয়া যুদ্ধ, ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে আন্তরিক শোক প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শেয়ার্ড মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘস্থায়ী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে। ইরান অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
চলতি সপ্তাহে তুরস্কে আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস আন্তরিকভাবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গঠনমূলক এবং ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততা এবং উদ্যোগগুলো অনুসরণ করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের সমস্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করে, যা এই অঞ্চল এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপরিহার্য।
দূতাবাস ইরানের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শোক বার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য বিশেষ প্রশংসার যোগ্য, যা একটি উল্লেখযোগ্য এবং ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা দেয়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকেও দূতাবাস সাধুবাদ জানায়।
ইরান বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু করা যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষতির জন্য আন্তরিক শোক প্রকাশ করে এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।
ইরানের দূতাবাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং আজারবাইজান হয়ে ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুবিধাও দিয়েছে।
ইরানের দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত অংশের নির্বাচিত কিছু অংশ প্রচারের জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা কিছু মিডিয়া আউটলেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কাজ বা বিবৃতি থেকে বিরত থাকার জন্য এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায়।
আন্তর্জাতিক
সৌদির আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিল পাকিস্তান
সৌদি আরবের আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নিরাপত্তা সূত্র ও একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব দেড় বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি নিয়ে আপত্তি এবং অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সুদানের কাছে অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের একটি চুক্তি স্থগিত করেছে পাকিস্তান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি বিদেশি স্বার্থের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং লোহিত সাগর তীরবর্তী এই সোনাসমৃদ্ধ দেশটির ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে রয়টার্স জানায়, চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সে সময় রিয়াদের অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়ে যায়। এ সময়ে আরও কয়েকটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই চুক্তিও সেই আলোচনার অংশ ছিল।
সৌদি আরব পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির দুর্বল অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঋণ ও অর্থায়নের উৎস। গত বছর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। এ চুক্তিতে এক পক্ষের ওপর আক্রমণকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব অর্থায়নের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তানকে এই চুক্তি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সুদানের সশস্ত্র বাহিনীও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও রয়টার্সের অনুরোধের জবাব দেয়নি। এর আগে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্যও করেনি।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, কিছু পশ্চিমা দেশ রিয়াদকে আফ্রিকায় প্রক্সি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।
সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ দেশে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বললেও, সৌদি আরব সুদানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ অভিযোগ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
সূত্র জানায়, মার্চে রিয়াদে সুদানের সেনা নেতাদের সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পরই এই চুক্তির অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, ডিসেম্বর মাসে রয়টার্সে প্রকাশিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব এখন এই দুই দেশ নিয়ে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে।



