আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ইরান সরকারের হাতে নয়, বিপ্লবী গার্ডের কাছে
যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি দখলদার ইসরায়েলকেও টার্গেট করা হয়েছে।
এরমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের এই পাল্টা আক্রমণে নেতৃত্বে দিচ্ছে সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তিনি বলেছেন, বিপ্লবী গার্ড এখন ‘স্বাধীনভাবে’ বা নিজেদের মতো করে হামলা চালাচ্ছে। এতে সরকার কোনো নির্দেশনা দিচ্ছে না।
ওমানে গতকাল ইরানের হামলায় পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনার জেরেই ইরানি মন্ত্রী জানালেন, বিপ্লবী গার্ড এখন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ করছে। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রুহুল্লা খোমেনি বিপ্লবী গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময় ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়। এতে সাধারণ সেনাবাহিনীকে দেশ ও সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে বিপ্লবী গার্ড পায় ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার দায়িত্ব।
বিপ্লবী গার্ড নিজেদের কার্যক্রমের ব্যাপারে অবহিত করে সুপ্রিম লিডারের কাছে। যেহেতু সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। তাই বিপ্লবী গার্ড এখন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালাচ্ছে।
ওমানে হামলার নির্দেশ আমরা দেইনি
ওমানের বন্দরে পাঁচজন নিহত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। জবাবে তিনি বলেছেন, “ওমানে যা হয়েছে তা আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ইতিমধ্যে বলেছি তারা কিসে হামলা চালাচ্ছে সে ব্যাপারে যেন সতর্ক থাকে।”
এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, “আসল ব্যাপার হলো, আমাদের সামরিক ইউনিটগুলো এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা আসলে আগে থেকে দিয়ে রাখা সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই এখন কাজ করছে।”
আরাগচির এ বক্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার এ কথার অর্থ হলো— নিহত হওয়ার আগে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যে নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন বিপ্লবী গার্ড এখন সেভাবেই কাজ করছে।
তবে বার্তাসংস্থা এএফপি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা চালানের ‘অজুহাত’ হিসেবে আরাগচির এমন মন্তব্য করেছেন। কারণ তারা দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালালেও আবার তাদের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে চান।
সূত্র: এএফপি
আন্তর্জাতিক
পারস্য উপসাগরে ইন্টারনেট কেবলে ইরানের ‘হামলার ইঙ্গিত’
পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, বিশ্লেষকেরা এটি সম্ভাব্য ‘গোপন হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়, এটি সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এই পথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের প্রধান ইন্টারনেট সংযোগগুলো পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্য সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তাদেরকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ নয়; বরং কৌশলগত বার্তা। এতে সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, এসব স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তা অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা তীব্র। এরইমধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।
কিছু সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি স্থাপনা বা সমুদ্রপথের পাশাপাশি এখন সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারও এই সংঘাতের নতুন ঝুঁকির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইসরায়েল।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে ডায়েট কোকের সংকট
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা ও এরপর তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাতে সৃষ্ট যুদ্ধের কারণে ভারতে ডায়েট কোকের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে এই পানীয়টি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানেই বিক্রি করা হয়, আর যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ক্যান সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ হয় উপসাগরীয় অঞ্চলে।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়, যার ফলে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি এই ক্যান সরবরাহও আটকে রয়েছে।
ভারতে সাধারণত অধিকাংশ কোমল পানীয় প্লাস্টিক বোতল ও ক্যান—দুইভাবেই বিক্রি হয়।
তবে ডায়েট কোক শুধু ক্যানেই পাওয়া যায়, ফলে এর ওপর প্রভাব বেশি পড়েছে।
কোকা-কোলার দুই পরিবেশক রয়টার্সকে জানান, ক্যানের সংকটের কারণে কোম্পানি সরবরাহ সীমিত করছে বা কিছু অর্ডার পূরণ করতে পারছে না বলে তাদের জানানো হয়েছে।
সঞ্জয় নামে একজন পরিবেশক বলেন, “আমরা নিয়মিত অর্ডার দিচ্ছি, কিন্তু যুদ্ধের কারণে ঘাটতির কথা জানানো হচ্ছে।”
তবে এ বিষয়ে কোকা-কোলা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক
ইরানকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে বারবার মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কখনো তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, আবার কখনো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো সমাধান নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়নি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মস্কোয় লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের আল-বাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ল্যাভরভ বলেন, “আমরা ইরানের অবস্থান বুঝতে পারছি। তারা যথার্থভাবেই বলছে, তারা আগেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে।”
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দুই সপ্তাহ ব্যাপী যুদ্ধবিরতি শেষ হবে। তার আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় আলোচনা ভেস্তে গেছে।
ল্যাভরভ আরও বলেন, পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে রাশিয়া নজর রাখছে। তবে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাতে পারে এবং তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকবার পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের মতো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সেটা বড় ধরনের সাফল্য হবে।
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি সম্পাদিত হয়। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে একপাক্ষিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।
ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নানা ধরনের ইঙ্গিত থাকলেও এখনও পর্যন্ত কোনো বাস্তব ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আমরা দেখছি, কিন্তু বাস্তবতা দেখছি না।’
বিশ্লেষকদের মতে, ল্যাভরভের এই বক্তব্য শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কোনো চুক্তি অর্জন করা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং রাশিয়া-চীনসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো চুক্তি অর্জিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তথ্যসূত্র: তাস ও আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
লেবানন থেকে সেনা সরাতে ইসরায়েলকে আহ্বান ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেবানন-ইসরায়েল পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং দেশটির জনগণের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় ফ্রান্স লেবাননের পাশে রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে। এই সমঝোতা উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রের বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট একইসঙ্গে ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ ও লেবাননের পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং নতুন সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা তৈরির কারণে এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাসটি।
একইসঙ্গে দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু হওয়া যুদ্ধ, ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে আন্তরিক শোক প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শেয়ার্ড মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘস্থায়ী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে। ইরান অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
চলতি সপ্তাহে তুরস্কে আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস আন্তরিকভাবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গঠনমূলক এবং ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততা এবং উদ্যোগগুলো অনুসরণ করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের সমস্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করে, যা এই অঞ্চল এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপরিহার্য।
দূতাবাস ইরানের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শোক বার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য বিশেষ প্রশংসার যোগ্য, যা একটি উল্লেখযোগ্য এবং ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা দেয়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকেও দূতাবাস সাধুবাদ জানায়।
ইরান বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু করা যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষতির জন্য আন্তরিক শোক প্রকাশ করে এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।
ইরানের দূতাবাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং আজারবাইজান হয়ে ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুবিধাও দিয়েছে।
ইরানের দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত অংশের নির্বাচিত কিছু অংশ প্রচারের জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা কিছু মিডিয়া আউটলেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কাজ বা বিবৃতি থেকে বিরত থাকার জন্য এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায়।



