জাতীয়
প্রথম অধিবেশনেই উঠতে পারে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি বেশ পুরোনো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি একটি দৈনিকে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার কেন্দ্র করে আবারও এ আলোচনাটি সামনে এসেছে। তার বক্তব্যকে ‘অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয়’ বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ বলে অবহিত করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, জামায়াতের মিত্র দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রকাশ্যেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করার প্রস্তাব উঠতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট এই উদ্যোগ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জোটের নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ দেওয়া এই রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণহত্যায় নীরব থেকে’ এবং সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ‘শপথ ভঙ্গ করে’ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৫২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসিত করা যায়। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসনের প্রস্তাব স্পিকারের কাছে প্রদান করতে হয়। নোটিশ প্রদানের চৌদ্দ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংসদে এ প্রস্তাব আলোচিত হতে হয়। তারপর সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে ওই তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা সম্ভব। তবে দেশে কোনো রাষ্ট্রপতির অভিশংসিত হওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশে এর আগে সবসময় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে এসেছে। ২০০১ সালের নভেম্বরে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ২০০২ সালে অপসারণের উদ্যোগ নেয় তখনকার সরকার। সংসদে সেই প্রস্তুতির মধ্যে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই আর থাকতে পারেন না। তার অধীনে থাকাও এই মুহূর্তে দেশের জন্য নিরাপদ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দাবি জানালেও সাংবিধানিক দোহায় দিয়ে অভিশংসিত করা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেই বাধা আর থাকল না। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রথম অধিবেশনেই এ প্রস্তাব জানানো হবে। তবে যেহেতু সরকারি দল বিএনপি, এ প্রস্তাবে তারা সম্মতি না দিলে এটি কার্যকর হবে না। বিএনপি জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গত বুধবার শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের দায়িত্ব। এই রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন। কাজেই আমরা মনে করি ফ্যাসিস্ট সময়ের চিহ্ন যে রাষ্ট্রপতি, তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন এবং তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেটাতেও আসলে শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এ রাষ্ট্রপতি আর এ দায়িত্বে এই পদে থাকার যোগ্য নন।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘সংসদের যে প্রথম অধিবেশন হবে, তার প্রথম কাজটি হবে এ ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন সংসদের সরকারি দল, বিরোধী দল মিলে কাজটি করবে বলে আমরা মনে করি। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বঙ্গভবনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেয়। বঙ্গভবনের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ, নাটকীয়তা। পরে বিষয়টি নানা কারণে আর এগোয়নি। আওয়ামী লীগের পতন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি বলে কিন্তু এই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হননি; কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। সে সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূন্যতা ইত্যাদি অনেক কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, নতুন সংসদ হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, এখন এই রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের বিষয়।’
এই দাবির পেছনে যুক্তি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘জুলাই গণহত্যা যখন হয়েছিল, সেই সময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি। সেই সময় তিনি নীরব ও নিশ্চুপ ছিলেন। তার নীরব ভূমিকার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। কাজেই এ গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত। এবং তার বিরুদ্ধে কিন্তু অনেক আগে থেকেই আর্থিক অনৈতিকতারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা সম্মান, শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্যের যে ব্যক্তিত্ব বুঝি, তার কোনোটাই আসলে তার নেই। নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাকে সরানোর। তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—আমরা মনে করি নতুন সরকারের এটা অন্যতম দায়িত্ব।’
একই দাবি জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। জাতীয় যুবশক্তির ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে যদি আপনারা অপবিত্র হতে না দিতে চান, আপনারা যদি এই সংসদ অধিবেশন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন হিসেবে শুরু না করতে চান, তাহলে অবশ্যই প্রথম অধিবেশনেই সেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে, যিনি গণহত্যার সময় নিশ্চুপ ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।’
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘এ নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের প্রস্তাব দেওয়ার পক্ষেই আছি আমরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ইস্যুতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত শুক্রবার সিলেটে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের জন্য যা কল্যাণকর এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আমরা সে সিদ্ধান্তই নেব।’
এদিকে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। গতকাল সোমবার এ চিঠি পাঠান তিনি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা সংসদে ভাষণ প্রদানের অনুমতি না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অথবা প্রধানমন্ত্রী যেন তার সুবিধামতো ব্যবস্থা নেন—এই মর্মে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন।’
জাতীয়
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এই তথ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের শরীরে হাম।
এই এক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে। মৃত ১৬৬ শিশুর অধিকাংশই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া। এক থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ।
হামের সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩। ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল ও মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদানে শিথিলতার কারণে তৈরি হয়েছে এই প্রাদুর্ভাব। সংস্থাটি বলছে, ৯১ শতাংশ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়া প্রমাণ করে যে সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে বিস্তৃত।
এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে মানুষের যাতায়াতের ফলে ‘উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে আন্তঃদেশীয় সংক্রমণের ঝুঁকি।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের আনা হয়েছে এই কর্মসূচির আওতায়। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হাম প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা। সীমান্ত এলাকা ও আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার। সন্দেহভাজন রোগীকে দ্রুত আইসোলেশন বা আলাদা করে উন্নত চিকিৎসা প্রদান। স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান।
জাতীয়
বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও কার্যকর, বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ করতে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবে।
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পর্যায়ে নিতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দারিদ্র্যঝুঁকি কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এ কর্মসূচির আওতায় অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অতিরিক্ত অন্তত দুই লাখ ৫০ হাজার নারীর সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’
জলবায়ু সহনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযোজনভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হবে।
জাতীয়
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৯ হাজার ৩১৫ বাংলাদেশি হজযাত্রী
বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৩১৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। গত ১৭ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছান। এ সময়ের মধ্যে ২ জন হজযাত্রীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ২৬ হাজার ০৩১ জন।
এ পর্যন্ত মোট ৭৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ২৯টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১৭টি ফ্লাইট।
যাত্রী পরিবহনের হিসাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহন করেছে ১২ হাজার ০২৩ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১০ হাজার ০৮২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ২১০ জন হজযাত্রী।
চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ মে।
জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই: আমির খসরু
বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞানচর্চার প্রধান কেন্দ্র, এখানে কোনোভাবেই দলীয়করণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি স্থিতিশীল ও সহনশীল রাজনীতির পথে এগোচ্ছে। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু বলেন, জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা। জনগণের কথা বিবেচনা করে জ্বালানির মূল্য সামান্য সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দাম এখনো অনেক কম। উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে এখনো দেশের শিল্প-কারখানা সচল রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে দেশ থেকে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। ব্যাংকগুলো লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার ফলে আমানতকারীরা অর্থ তুলতে সমস্যায় পড়ছেন। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে ব্যাংক খাত ও শেয়ারবাজারকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয়
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ, বিচার এখনো অনিশ্চয়তায়
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে বহুতল ভবন ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক। আহত হন কয়েক হাজার মানুষ। এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ মর্মান্তিক ঘটনার বিচার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে হঠাৎ করেই ধসে পড়ে রানা প্লাজা ভবনটি। ভেতরে তখন কাজ করছিলেন কয়েক হাজার শ্রমিক। মুহূর্তেই ভবনটি পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। টানা কয়েক দিন চলে উদ্ধার অভিযান। দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এই দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার দুই বছর পর, ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। ২০১৬ সালে ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়।
তবে পরবর্তীতে আসামিদের একের পর এক আইনি পদক্ষেপ, উচ্চ আদালতে বিচার স্থগিতের আবেদন এবং বিভিন্ন জটিলতার কারণে মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। ২০২২ সালে পুনরায় বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও তা এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
এই হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হলেও এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও পুলিশ তা কার্যকর করতে পারেনি।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আপিল বিভাগ ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।
মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার আইনজীবী দাবি করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং তিনি নির্দোষ।
নিহতদের পরিবার এবং আহত শ্রমিকরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতা বিচারকে অনিশ্চিত করে তুলছে। তারা দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দিনটি উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সাভারে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচি থেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
আগামী ৩০ এপ্রিল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে পারে, তবে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এমএন



