অর্থনীতি
কেয়া কসমেটিকসের ৮৫৫২ কোটি টাকা উধাও, এফআরসির কাঠগড়ায় চার ব্যাংক
কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৫৫২ কোটি টাকা) রপ্তানি আয় কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্টে (এফসি) জমা না হওয়ার ঘটনা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তার রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কেয়া কসমেটিকসকে পরবর্তী নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দেওয়া হয় অভিযুক্ত চার ব্যাংক-সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসারকে (সিএফও)।
সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এই ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে ‘২০ বছরেও রপ্তানি আয়ের অর্থ মেলেনি এফসি অ্যাকাউন্টে, কেয়া গ্রুপের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্ট আমলে নিয়েই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয় এফআরসি।
এফআরসি মূলত সরকারি, আধাসরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি, নিরীক্ষা ও আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করে।
জানা যায়, যুগান্তরের রিপোর্টের সূত্র ধরে অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিকসকে তলব করে এফআরসি। সেখানে প্রকৃত ঘটনার অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের জবাব গ্রহণ করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে উল্লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে এফআরসি নির্দেশনা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে ধীরগতিতে পথ চলছে। বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।
কেয়া কসমেটিকসের বিষয়ে এফআরসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত করেছে কি না জানতে চাইলে এফআরসির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া যুগান্তরকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি আমাকে জানানো হয়নি। তবে অগ্রগতি এফআরসিকে নয়, কেয়া কসমেটিকসকে অবহিত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি বলেন, কেয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আমরা বলে দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিতে হবে।
এফআরসির নির্বাহী পরিচালক (আর্থিক প্রতিবেদন পরিবীক্ষণ বিভাগ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন, সেগুলো কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেই রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই যথোপযুক্ত একটি সমাধান বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
জানতে চাইলে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান বলেন, আমার ৬৬ কোটি ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা না হওয়ার বিষয়ে এফআরসি যে নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছে, তা জানতে পেরেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটুকু তদন্ত করছে, আদৌ তদন্ত হচ্ছে কি না-এ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। আমাকেও ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, ব্যাংক যদি কোনো অর্থ পাওনা থাকে, তা সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী আমার বৈদেশিক মুদ্রার আয় এফসি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। সেটি না করায় বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো অস্তিত্ব আমার হিসাবে নেই।
এদিকে এফআরসিতে কেয়া গ্রুপের অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ডলার তছরুপের অভিযোগ করার কারণে কেয়া কসমেটিকসের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলোয় যথেষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি বন্ধক আছে। এর ফলে কোম্পানি প্রতিমাসে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় বঞ্চিত হচ্ছে। ১৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী, এক হাজার (বাক ও শ্রবণ) প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডার তাদের বিনিয়োগে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের অর্থনীতি ও কোম্পানির স্বার্থে অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার।
সূত্রমতে, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্প্রতি অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি এবং কেয়া গ্রুপকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছে এফআরসি। সেখানে সভাপতিত্ব করেন এফআরসির চেয়ারম্যান। বৈঠকে কেয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চারটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার (এফইপিডি-এএমডিএএনআইএনআইটিআই ১১৭/২০১৭/১২) অমান্য করে আমাদের রপ্তানির ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার এফসি হিসাবে জমা করেনি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং রপ্তানিকারকের সঙ্গে ডলারের গরমিল থেকেই যাবে, যা আমার কোম্পানি, দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেখানে সাইথইস্ট ব্যাংক প্রসঙ্গে বলা হয়, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেয়া কসমেটিকসের এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করলেও ৪০৪.৮১ মিলিয়ন ডলার জমা করেনি। কিন্তু সেটি লোকাল মার্জিনাল অ্যাকাউন্টে জমা করে। অপরদিকে এফসি হিসাবে জমাকৃত ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪০৩.০৪ মিলিয়ন ডলার ব্যাংক পুনরায় ডেবিট করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত সাউথইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র সহসভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, কেয়া কসমেটিকসকে যে পরিমাণ টাকা ঋণ দেওয়া হয়, ঠিক সেই পরিমাণ টাকা ডেবিট করা হয়েছে। এখানে ঋণের সুদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ ডেবিট করা হয়নি।
এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা জানতে চান, রপ্তানি আয় থেকে কি ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। তবে দীর্ঘসময় ধরে বিল অনিষ্পন্ন থাকায় এমনটি হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি হয় না বললেই চলে।
এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আপনাদের প্রদত্ত ঋণ যোগ করলে আমরা কেয়া কসমেটিকসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে পারি। পরবর্তী সময়ে জমা অর্থ থেকে রপ্তানি আয়ের অর্থ বাদ যাবে বা ব্যাংক ডেবিট করবে। এ বিষয়ে কি কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ব্যাংক করছে কি না। এর জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি হয়নি।
বৈঠকে আরও বলা হয়, ২০০৭-২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংকে ২০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় আসে কেয়া কসমেটিকসের। কিন্তু ২০১ মিলিয়ন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি।
পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা সারিফুন নাহার জবাবে বলেন, কেয়া কসমেটিকসের সংশ্লিষ্ট দৈনিক লেনদেন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা চলাকালীন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যে কোনো প্রকার অসংগতি বা হিসাবনিকাশের অমিল পরিলক্ষিত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে, সে অর্থ আদায়ও হয়েছে। কিন্তু কেয়া কসমেটিকস পেয়েছে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অবশিষ্ট ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, রপ্তানি করেছে ৩০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রিয়ালাইজড হয় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি। জবাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কেয়া কসমেটিকসের আমাদের সব ব্যাংকেরই একই অবস্থা। ইতোমধ্যে অন্য ৩টি ব্যাংক থেকে যা শুনলেন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনা বিভাগের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আমার ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের (এফআইসিএসডি) সংশ্লিষ্টতা একান্ত আবশ্যক।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চিফ অ্যাকাউন্ট অফিসার কামরুল আনাম খান বলেন, এ বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মতামত দেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর
এমএন
অর্থনীতি
এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
এমএন
অর্থনীতি
নতুন আমদানি নীতি শিগগিরই উন্মুক্ত করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা উন্মুক্ত করা হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে গঠনমূলক ও ইতিবাচক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এফবিসিসিআইকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, এমন একটি এফবিসিসিআই দেখতে চান, যা সব ব্যবসায়ীর প্রকৃত সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান করবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সংগঠনটিকে কার্যকর ও গতিশীল করতে যোগ্য, দূরদর্শী এবং উদ্যমী নেতৃত্ব প্রয়োজন। এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব অবশ্যই ব্যবসায়ী সমাজ থেকেই আসা উচিত এবং সংগঠনটি যেন ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বক্তব্য দেন।
অর্থনীতি
তেলের দামবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী
সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। এর আগে গতকাল রাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য দেশে তেলের দাম ডাবল হয়েছে কিন্তু সেই তুলনায় আমরা বেশি বাড়াইনি। এটা বাড়ানো হয়েছে শুধু আমাদের তহবিলের ওপর প্রেশার পড়ার কারণে।
তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, না-ও পারে।
এমএন
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে তেলের দাম দিগুণ হলেও সরকার সামান্য বাড়িয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলেও সরকার জনগণের কষ্ট বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম সামান্যই বাড়িয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যে দাম ছিল, বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরকার সমানুপাতে দাম না বাড়িয়ে সীমিত সমন্বয় করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সরকার নিজেই বহন করছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ, রোববার থেকে দেশব্যাপী নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা।
এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা।
নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের আগে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য ছিল ১২০ টাকা এবং পেট্রোলের মূল্য ছিল ১১৬ টাকা। এছাড়া কেরোসিনের দাম ছিল প্রতি লিটার ১১২ টাকা এবং ডিজেলের মূল্য ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা।
এমএন
অর্থনীতি
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ও এর প্রয়োজনীয়তা।
লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার রবিবার (১৯ এপ্রিল, ২০২৬) বিনিময় হার—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭০ পয়সা
ইউরো : ১৪৪ টাকা ৩২ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৫ টাকা ৮১ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ৩২ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩১ টাকা ০৯ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ৫৬ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ৬৮ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৯২ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।



