জাতীয়
নির্বাচন ঘিরে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন,ভোটাররা যেন নির্ভয়ে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার সুযোগ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা’ সংক্রান্তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশিনার
নির্বাচন উপলক্ষে ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এ বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। অবস্থান, ভোটারের সংখ্যা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ (১৬১৪টি) ভোটকেন্দ্রগুলো ন্যুনতম ৪ জন করে এবং সাধারণ (৫১৭টি) কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর আটটি ডিভিশনে আটটি পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স। ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সরাসরি নেতৃত্বে থাকা এসব ফোর্স প্রয়োজনে দ্রুত যেকোন স্থানে মোতায়েন করা যাবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নানা কারণে এবারের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সে কালিমামুক্ত হয়ে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আমরা ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে সর্বসাধারণের নিকট স্পষ্টভাবে বলতে চাই এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবো যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে সুশৃঙ্খলভাবে গিয়ে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে কাজ আরম্ভ করে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ডিএমপির প্রায় ২৫ হাজার সদস্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আমরা আশা করি পুলিশের এই প্রশিক্ষণ আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পুলিশ সদস্যদেরকে স্বীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাবে পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আমাদের সীমিত সম্পদ ও জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রুটিহীন ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। যেকোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার, বিপিএম-সেবা, (অতিরিক্ত আইজি); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা; মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান পিপিএম; মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশের ছয়টি বিভাগে ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়টি শিশু হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অব্যবহৃত হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২ জুনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অব্যবহৃত থাকা হাসপাতালগুলো হলো-রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল, রংপুর শিশু হাসপাতাল, বরিশাল শিশু হাসপাতাল, কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল এবং সিলেট জেলা হাসপাতাল।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় নির্মিত আধুনিক এসব হাসপাতাল বছরের পর বছর চালু হয়নি। এই তথ্যের ভিত্তিতে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া নীলফামারীতে ১ হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি সদর উপজেলায় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় আধুনিক দ্বিতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গঠনের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, হাসপাতালটি চালু হলে এটি রংপুর অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
জাতীয়
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাচ্ছেন ইসির ৩ কর্মকর্তা
দক্ষিণ কোরিয়ায় যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তিন কর্মকর্তা। মূলত দেশটির স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে’ অংশ নিতে এই সফরে যাচ্ছেন তারা।
গত ৪ মে নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব জিএম শাহাতাব উদ্দীনের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ মে থেকে ৫ জুন একযোগে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য তিন কর্মকর্তাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন- ইসির উপসচিব মো. হুমায়ুন কবীর, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইস) এ এম এম নাসির উদ্দিনের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আশ্রাফুল আলম।
এই কর্মকর্তাদের সমস্ত ব্যয় বহন করবে কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তারা ২৭ মে দেশত্যাগ করে ফিরবেন ৭ জুন।
জাতীয়
বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়াতে বিডা–তুরস্কের বৈঠক
বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, তুর্কি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনা যাচাই করছেন।
আলোচনায় বাংলাদেশে তুর্কি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং চলমান আগ্রহকে আরও বিনিয়োগে রূপান্তরের উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূত সেন বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দরকার। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সফরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তুরস্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র-গাজিয়ানতেপ, দেনিজলি এবং কোকায়েলি-ইজমিত-এর কথাও উল্লেখ করেন।
টেক্সটাইলসহ আরও বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বুঝতে এসব জায়গা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগের বিদ্যমান আইনি কাঠামো নিয়েও কথা হয়। একইসঙ্গে কোচ গ্রুপের আইগ্যাস (@aygazunited) ও আর্চেলিকের (Singer Bangladesh Limited) মতো সফল বিনিয়োগের উদাহরণ এবং বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা যাচাই করছে এমন বড় তুর্কি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ও আলোচনায় আসে, যাদের সঙ্গে বিডা বর্তমানে কাজ করছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বাণিজ্য ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই তুরস্ক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দুই দেশের মধ্যে যে সুস্পষ্ট মিল ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা বিবেচনায় নিলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য দুটোর পরিমাণই আরও বেশি হওয়া উচিত।
অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক আউটরিচ গড়ে তুলতে বিডার তুরস্ক ডেস্ক, দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
জাতীয়
বাংলাদেশ থেকে পোশাক-চামড়াজাত পণ্য নিতে আগ্রহী ইতালি
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন মানসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে গভীরভাবে আগ্রহী ইতালি।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
পাশাপাশি, বাংলাদেশের শিল্পখাতের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে ইতালির দূতাবাসের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি (মেশিনারিজ) ইতালি থেকে ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ইতালির খ্যাতনামা ফুটবল ক্লাবগুলোকে সফর ও প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (পিপল টু পিপল কন্টাক্ট) বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও সহজতর করতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে চলমান সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে উভয়পক্ষই বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, সামরিক, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় বৈঠকে ইতালির মিশনের উপ-প্রধান ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের তুলনায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। বক্তব্য রাখেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফজলুল কাদের।
পিকেএসএফ জানায়, দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর যৌথ অর্থায়নে আরএআইএসই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার কর্মহীন তরুণকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্যে পিকেএসএফ এটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বর্ধিত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
আমির খসরু বলেন, বিগত দিনের দুর্নীতি ও অপচয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে যে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩ শ’ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সাথে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি।
সামাজিক ক্ষমতায়নের উদাহরণ দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবারের নারীরা সারাদিন কাজ করলেও তাদের যথাযথ স্বীকৃতি থাকে না। সরকার এখন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে, যাতে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন ঘটে। নারীরা সাশ্রয়ী এবং তারা জানেন কিভাবে সংসার চালাতে হয়। এই নগদ অর্থ লোকাল ইকোনমিতে ডিমান্ড তৈরি করবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য সরাসরি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে তারা বীজের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অনায়াসেই মেটাতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতকেও জিডিপিতে কন্ট্রিবিউট করার মতো শক্তিশালী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, থিয়েটার বা স্টেডিয়ামে মানুষ যখন টিকিট কেটে খেলা দেখতে যায়, তখন সেটিও জিডিপির অংশ। ইউকের থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টের মতো আমাদের দেশেও লাইটম্যান, মেকাপম্যান এবং ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলা সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়।
পিকেএসএফের কার্যক্রম সরকারের দর্শনের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।




