রাজনীতি
ঢাকা–১৮ আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহমুদুর রহমান মান্না
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিনদিন। এই শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেন তিনি। সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না তার পক্ষে।
ফেসবুক পোস্টে মাহমুদুর রহমান মান্না লিখেন, এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এবং বগুড়া-২ (আসন) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঢাকা-১৮ একটি বিশাল নির্বাচনী এলাকা। এর অন্তর্গত সাড়ে সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লক্ষের মত ভোটার এখানে।
তিনি আরও লিখেন, নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতে আমি ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
উল্লেখ্য, মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে তার নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমএন
রাজনীতি
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরিবারতন্ত্র ও নয়া ফ্যাসিবাদ বর্জনের আহ্বান
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরিবারতন্ত্র ও নয়া ফ্যাসিবাদকে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, আইনজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল রাইটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের নয়া চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়: প্রেক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কী-নোট উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন নেক্সস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’র সভাপতি বিঃ জেঃ মোহাম্মদ হাসান চাখির, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, সুইডেনের ব্লেকিংয়ে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ড. এ. এম. এম. শহীদুজ্জামান কোরেশী, রাঙ্গামাটি ইউনিভার্সিটির ড. আবু তালেব, সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম. এ. হাই (বীর মুক্তিযোদ্ধা), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিউর রহমান।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের ফলে যখন দেশের মানুষের নিশ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসছিল, তখন ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়। জুলাই মাসজুড়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং কোটি-কোটি মানুষ নৈতিক সমর্থন দেয়। এর ফলে জনগণের মধ্যে একটি নতুন আশার জন্ম নেয়—বাংলাদেশ হবে এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচবে এবং দুঃশাসন ও দুর্নীতি ইতিহাসের জাদুঘরে স্থান নেবে।
তবে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাত্র দেড় বছরের মাথায় সেই আশার আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কা রয়েছে, সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশ আবারও দুঃশাসন ও দুর্নীতির অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে।
তারা বলেন, এই সংকটময় সময়ে সচেতন নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হলো জনগণকে এমন প্রার্থী নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ করা, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অভিযোগ নেই। যাদের হাতে জাদুর কাঠি না থাকলেও রয়েছে সততা, মানবিকতা, উন্নত নৈতিক চরিত্র ও নিখাদ দেশপ্রেম। এমন নেতৃত্বই দেশের ১৮ কোটি মানুষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি উন্নত, কল্যাণমূলক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবার আগে পরিবারতন্ত্রকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ পরিবারতন্ত্রকে ভোটের মাধ্যমেই উপড়ে ফেলতে হবে। তার ভাষায়, “এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ও কন্যা একই ধারাবাহিকতায় থাকবে। এই পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও বলেন, নয়া ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড ও বয়ান প্রদানকারীদের অবশ্যই বর্জন করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পর একটি রাজনৈতিক দল স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিবাদী কায়দায় দখল করেছে এবং সরকারি অফিস-আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এতে বিচার বিভাগ, যা আওয়ামী সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এখন নয়া ফ্যাসিবাদের কারণে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিরুদ্ধে আদালতে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বলেন, এর ফলেই আওয়ামী ডেভিল ফয়সাল আহমেদ জামিনে মুক্ত হয়ে শহীদ ওসমান বি হাদীকে হত্যা করার সুযোগ পায়। পুরোনো দুঃশাসনের কাঠামো থেকে দেশকে মুক্ত করতে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রমনা সমাজ কল্যাণ সোসাইটির চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার সুমনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
রাজনীতি
ধর্ম বেচে রাজনীতি বন্ধ হবে ব্যালটেই : আমীর খসরু
ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি আর চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘একটি দল সাধারণ মানুষকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের প্রতীকে ভোট দিলে বেহেশতে যাবে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে ভোট ভিক্ষা চাইছে। জনগণ এখন সচেতন। তারা এসব ভণ্ডদের ভণ্ডামি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এসব মিথ্যার জবাব দিতে হবে।’
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির একটি বিশেষ বটবাহিনী প্রতিনিয়ত অসত্য, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এসব মিথ্যার জবাব দিতে হবে। মিথ্যেবাদী ও ভণ্ডদের কবর রচনা করেই শহীদ জিয়ার স্বপ্নের স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে—ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই ধানের শীষের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুরুষ, মহিলা এমনকি শিশুরাও ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছে। তবে আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। ১২ তারিখ রাতে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে যখন ঘরে ফিরব, তখনই আন্দোলনের সমাপ্তি হবে—এর আগে নয়।’
আমির খসরু বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবে, তবে সেই জয় হতে হবে বিশাল ভোটে। বিশ্বের মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—বাংলাদেশের জনগণ কোনো অদৃশ্য শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
জনগণের রায়েই সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান ও সালাউদ্দিন চৌধুরী সোহেল।
রাজনীতি
আয়কর প্রদানে শীর্ষে বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি আয়কর দিয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
নাগরিক সংগঠনটি গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে।
আয়কর প্রদানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ১৩২ প্রার্থী শুধু টিআইএন সনদ জমা দিলেও আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি।
এবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয় রয়েছে এমন প্রার্থী ৯৫ জন। তাদের মধ্যে ৫১ জন বিএনপির, ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির মনোনীত। প্রার্থীদের ৫১৯ জন বা প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঋণগ্রহীতা। তবে ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় তাদের আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া ৫৮ জন প্রার্থী সম্পদের ঘর পূরণ করেননি।
সুজনের তথ্য অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অধিক ঋণ রয়েছে ৭৫ জনের, যার হার ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ১৬৭ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের। তবে ইতিবাচক দিক হলো— এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা গতবারের ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে কমে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রার্থীর ৮৩২ জন বা প্রায় ৪১ শতাংশের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। ৭৪১ জনের বার্ষিক আয় পাঁচ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী।
শীর্ষ আয়কারী ১০ প্রার্থীর ৬ জন বিএনপির
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে শীর্ষ ১০ আয়কারীর তালিকায় ছয়জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এ তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর কেউ নেই। বাকি চারজনের তিনজন স্বতন্ত্র ও একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী।
দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম (প্রায় ৪০ কোটি টাকা)। প্রায় ১৯ কোটি টাকা বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থান লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস (আয় ৯ কোটি টাকার বেশি)। ৮ কোটি টাকার বেশি আয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।
বাকি পাঁচজন হলেন যথাক্রমে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন, নেত্রকোনা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কায়সার কামাল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী এবং কুমিল্লা-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ। তাদের সবার আয় ৪ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মধ্যে।
এমএন
রাজনীতি
সন্ত্রাস ও লুটপাটমুক্ত রাষ্ট্র গড়তেই ১১ দলের ঐক্য: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। শাসকের পরিবর্তন হলেও শোষণ, লুটপাট ও দুর্নীতির রাজনীতি রয়ে গেছে আগের মতোই। এই দুঃশাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তেই ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হইনি। বঞ্চিত, নিপীড়িত ও ভাগ্যহত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই ঐক্য।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও জনগণের ভাগ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। শাসকের চেহারা ও ভাষা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি।
মামুনুল হক আরও বলেন, আগে বিদেশি শাসকরা এ দেশ লুট করত, এখন দেশীয় শাসকরাই জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করছে। যারা বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে, তারা দেশের মানুষের সঙ্গে আরও বড়ো প্রতারণা করেছে।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। আলিয়া-কওমি মাদ্রাসা, পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সব বিভেদ ভেঙে তরুণ সমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল। তিনি বলেন, হাজারো মায়ের কোল খালি হয়েছে, দেড় সহস্রাধিক জুলাই যোদ্ধার রক্তে এই মাটি পবিত্র হয়েছে। সেই আত্মত্যাগকে যারা সম্মান জানাতে পারে না, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে নিরাপদ নয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ আখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো আপোশ নয়, কোনো নমনীয়তা নয়।
তিনি ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমি যদি এই আসনের ভোটার হতাম, শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলামকেই ভোট দিতাম। এটি আপনাদের পবিত্র আমানত।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচন পরিচালক মওলানা মো. কুতুব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
এমএন
রাজনীতি
১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হয়ে যাবে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গনভোটে যদি আমরা সফল হতে না পারি, তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ও ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করেছি ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সফল করব। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবো।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড্ডায় এনসিপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ, স্কুল, হাসপাতালও নাই। আপনারা এগুলো সবই জানেন। ১০০ ভাগ হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভর। কোনো সরকারি হাসপাতাল নাই। ঢাকা-১১ আসনে সরকারি হাই স্কুল নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরাটাই নির্ভরশীল হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপরে। বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেগুলোর মাধ্যমে আমাদের জীবন যাপন করতে হয়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫% এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের আওতায় বাকি ৭০% এলাকা সেটা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, নর্দমা এবং আশেপাশের খালগুলো সেটা পূরণ করে। আমাদের যে খালগুলো রয়েছে রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল এগুলো দখল করা হয়েছে। নদী দখল করা হয়েছে বালু ফেলানো হয়েছে। এই খালগুলো আর আমাদের সেই সুবিধা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, ঢাকা-১১ এলাকা উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণ। সেই রাজনৈতিক কারণটি হচ্ছে ভূমিদস্যু। এই এলাকার শত শত মানুষের জমি শত শত খাস জমি সাধারণ জলাশয় এগুলো দখল করে নেওয়া হয়েছে। ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শত শত পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে।
এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা আমরা নিশ্চিত করবো। যে সব মানুষ ভূমি হারিয়েছে, তাদের ভূমি আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। নতুবা তাদের আমরা ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট ঢাকা-১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করবো।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা শুধু ঢাকা-১১ আসনের জন্যই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নই, সমগ্র বাংলাদেশে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ১১ দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠনের ঐক্যজোট, আগামীর বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আপনারা সারা বাংলাদেশে যে যেখানে, যে মার্কা যে প্রার্থী আছেন তাদের সহযোগিতা ও ভোট দিয়ে জিতিয়ে আসবেন। এই আহ্বান আপনাদের প্রতি রইল।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশে যে আরেকটি দল রয়েছে, যারা বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে গেছে। সেই প্ল্যান পরিকল্পনাকে আমাদের পরাজিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে দখলদার মুক্ত, আধিপত্যবাদ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? ইনশাআল্লাহ আমরা তরুণ যুব সমাজ সবাই আছি। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি ব্যর্থ হয় ৫ আগস্ট ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করেছি ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সফল করব। ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে যাব।
এমএন



