অর্থনীতি
আজ রাত থেকে সীমিত হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেনে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার সীমা আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই সীমা আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে কার্যকর হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেয়া হয়েছে।
এই সময়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন; এর বেশি লেনদেন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সীমা অনুযায়ী লেনদেন পরিচালনা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থ পাচার ঠেকাতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক তথ্য প্রদানে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএন
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কাল, আরও কমবে শুল্কহার: বশিরউদ্দীন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য চুক্তি করছে বাংলাদেশ । এই চুক্তির ফলে শুল্ক আরোপ ২০ শতাংশ থেকে কমে আসবে। এর ফলে পোশাক শিল্পের ওপর শুল্ক শূন্যতে নিয়ে আসার জন্য দরকষাকষি করা হবে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিমান মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য ও বিমান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে। চুক্তির পর দুই দেশ রাজি হলে তা প্রকাশ করা হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কিনছে সরকার। ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, পরবর্তী সরকার এসে যাতে উন্নত দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য নিয়ে কোনো সমস্যা না হয়, এ জন্য নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করা হচ্ছে। এটা তাড়াহুড়ার বিষয় নয়। দেশের সার্বিক স্বার্থেই তা করা হচ্ছে।
বশিরউদ্দীন বলেন, যে বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে, দেশের স্বার্থেই সেটাকে নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট করা হচ্ছে। এটা দোষের কিছু নয়।
এমএন
অর্থনীতি
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর অচল
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড-কে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এই কর্মসূচির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে।
সরজমিনে জানা গেছে,সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেখা গেছে, বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেটে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহন প্রবেশের সংখ্যা নেই বললেই চলে। জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটার লাইটারেজ) পণ্য খালাস ও পরিচালনা কাজ বন্ধ রয়েছে। এই কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। পরিষদের অন্য তিনটি দাবি হলো—চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ করা।
বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।
শ্রমিক নেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে আমাদের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না।
পরিষদের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক আট ঘণ্টা এবং ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
এমএন
অর্থনীতি
চট্টগ্রাম বন্দরে রবিবার থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৪ দফা দাবিতে আবারও অচল হতে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। এর ফলে কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দুইদিন পরই আবারও চরম অচলাবস্থার শঙ্কায় পড়েছে বন্দর।
এর আগে শুক্রবার রাতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারাও একই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অবিলম্বে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, চার্জশিট) প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা আইনি হয়রানি করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। উপদেষ্টার আশ্বাসে রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।
তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দিয়েছেন।
শ্রমিক নেতারা এই পদক্ষেপকে অনৈতিক এবং আগুন নিয়ে খেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, বন্দর চেয়ারম্যান পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।
রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানীকৃত খাদ্যশস্য, শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিজাত তৈরি পোশাকবাহী কনটেইনার খালাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েক দিন টানা ধর্মঘট চললে জেটিতে জাহাজের জট এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রতিদিন শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার।
শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে। রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের ওপর থেকে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হবে, ততক্ষণ বন্দরে কোনো কাজ চলবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।
এমএন
অর্থনীতি
সোনার বাজারে অস্থিরতা, আবার বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর একদিন পার হতে না হতেই ফের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরি ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এই দাম ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।
সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।
এদিকে বিশ্ব বাজারেও আজ সোনার দাম বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯৬৬ ডলার। আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৮৫০ ডলার।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।
এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাজুস। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে একধাপে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।
এমএন
অর্থনীতি
সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৭৬৪০ টাকা
দেশের বাজারে ফের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে সোনার দামে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানান।
এদিন সকাল ১০টার দিকে নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে এখন ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা পড়বে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হয়েছে সোনা।
সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (৩৭ দিন) ২৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এমএন



