জাতীয়
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরালো করার ইঙ্গিত: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার নতুন বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা শেষে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন বেলা ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। কর্মসূচির শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সচিবের সঙ্গে আলোচনার শেষে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যান এবং দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ট্যারিফ ইস্যুসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে চমৎকার বৈঠক হয়েছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।
এমএন
জাতীয়
বাংলাদেশ থেকে পোশাক-চামড়াজাত পণ্য নিতে আগ্রহী ইতালি
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন মানসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে গভীরভাবে আগ্রহী ইতালি।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
পাশাপাশি, বাংলাদেশের শিল্পখাতের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে ইতালির দূতাবাসের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি (মেশিনারিজ) ইতালি থেকে ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ইতালির খ্যাতনামা ফুটবল ক্লাবগুলোকে সফর ও প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (পিপল টু পিপল কন্টাক্ট) বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও সহজতর করতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে চলমান সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে উভয়পক্ষই বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, সামরিক, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় বৈঠকে ইতালির মিশনের উপ-প্রধান ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের তুলনায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। বক্তব্য রাখেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফজলুল কাদের।
পিকেএসএফ জানায়, দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর যৌথ অর্থায়নে আরএআইএসই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার কর্মহীন তরুণকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্যে পিকেএসএফ এটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বর্ধিত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
আমির খসরু বলেন, বিগত দিনের দুর্নীতি ও অপচয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে যে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩ শ’ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সাথে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি।
সামাজিক ক্ষমতায়নের উদাহরণ দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবারের নারীরা সারাদিন কাজ করলেও তাদের যথাযথ স্বীকৃতি থাকে না। সরকার এখন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে, যাতে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন ঘটে। নারীরা সাশ্রয়ী এবং তারা জানেন কিভাবে সংসার চালাতে হয়। এই নগদ অর্থ লোকাল ইকোনমিতে ডিমান্ড তৈরি করবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য সরাসরি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে তারা বীজের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অনায়াসেই মেটাতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতকেও জিডিপিতে কন্ট্রিবিউট করার মতো শক্তিশালী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, থিয়েটার বা স্টেডিয়ামে মানুষ যখন টিকিট কেটে খেলা দেখতে যায়, তখন সেটিও জিডিপির অংশ। ইউকের থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টের মতো আমাদের দেশেও লাইটম্যান, মেকাপম্যান এবং ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলা সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়।
পিকেএসএফের কার্যক্রম সরকারের দর্শনের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
জাতীয়
পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করলেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। এ কারণে বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, পুলিশের কাজকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সব স্তরের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে এবং এতে তাদের মনোবল ও সেবার মান বাড়বে।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ এবং আবাসন সংকট দূরীকরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিগত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
জাতীয়
‘মব’ কালচার বন্ধে আইন সংস্কার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনকে সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে আন্তরিক। আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম এণ্ড অপারেশনস্) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের পদোন্নতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবলরা ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। সেজন্য বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।”
পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ‘ওভারটাইম ভাতা প্রদানের কথা সরকার ভাবছে’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওভারটাইমের কারণে মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে নিম্নে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে।”
তিনি পুলিশ হাসপাতাল আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার এবং আবাসিক সমস্যা দূর করণে বর্তমান সরকার আন্তরিক বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিগত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
“জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরো যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হবে।”
মন্ত্রী এ সময় পুলিশ বাহিনীকে জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
জাতীয়
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ১৪ হাজার প্রার্থীর ডকুমেন্ট যাচাইয়ে পুলিশি তদন্ত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর আওতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পূর্ব কার্যকলাপ, কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস যাচাইয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
রবিবার (১০ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) আইরিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর শূন্য পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে পূর্ব কার্যকলাপ এবং ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে তাদের পূর্ব কার্যকলাপ যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের জমা দেওয়া ডকুমেন্টস ও কাগজপত্রের সত্যতাও যাচাই করা হবে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




