আন্তর্জাতিক
দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতের দুই অঞ্চলে জোরাল ভূমিকম্প
মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতের দুই অঞ্চলে আঘাত হেনেছে জোরালো দুই ভূমিকম্প। এর মধ্যে ভারতের কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় আঘাত হেনেছে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পাত্তান এলাকা। এখন পর্যন্ত এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
একইদিনে ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) বিবৃতি অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়।
এনসিএস জানায়, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল উত্তর অক্ষাংশ ৯ দশমিক ০৩ ডিগ্রি এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ৯২ দশমিক ৭৮ ডিগ্রি।
ভারতের ভূমিকম্প ঝুঁকির মানচিত্র অনুযায়ী, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ‘সিসমিক জোন–৫’-এর অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। অতীতে এই এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে শক্তিশালী সুনামি সৃষ্টি হয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল বলে জানিয়েছে আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত অগভীর ভূমিকম্প গভীর ভূমিকম্পের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর হয়ে থাকে। কারণ, অগভীর ভূমিকম্পে উৎপন্ন কম্পন দ্রুত ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে যায়, ফলে ভূমি বেশি কাঁপে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর দিল ইতালির নতুন নাগরিকত্ব আইন
ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য সুখবর এনেছে দেশটির সরকার। বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে ইতালি সরকার, যার সুফল পেতে পারেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। নতুন বছরের শুরু থেকেই এই পরিবর্তনের বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাজেটে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনের আওতায় নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে ব্যাপক ডিজিটাল সুবিধা, যা দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভোগান্তি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সব তথ্য জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগে যেখানে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ফাইল ঘুরতে ঘুরতে কয়েক বছর লেগে যেত, সেখানে এখন নিষ্পত্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এছাড়া ইতালিতে টানা দীর্ঘ সময় বৈধভাবে বসবাসকারী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমান ১০ বছরের তথ্য যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও ফাইল আটকে থাকার সম্ভাবনা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্যও নতুন আইনে বড় সুযোগ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট আইনের আওতায় বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব ঘোষণা দেওয়ার সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ ধরনের ঘোষণার ক্ষেত্রে ২৫০ ইউরো ফি সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে।
ইতালি সরকারের ‘ইতালিয়া ডিজিটাল ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় আগামী জুন মাসের মধ্যে পুরো নাগরিকত্ব সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তখন আবেদনকারীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে স্পিড বা সিআইই (SPID/CIE) এর মাধ্যমে আবেদনের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর আগে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল সুবিধা চালু ছিল।
স্থানীয় অভিবাসীরা বলছেন, এই পরিবর্তন প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা নতুন করে ইতালিতে আসতে চান বা সিজনাল ভিসায় এসে বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতালি সরকার এখন দক্ষ ও বৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিয়ে দেশটির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। নতুন আইন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে সোনার দামে টানা ধস, প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও
বছরের শুরু থেকে রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে ছুটে চলা সোনার দামে যেন শক্ত টান পড়েছে হঠাৎ। আন্তর্জাতিক বাজারে রীতিমতো ধস নেমেছে মূল্যবান হলুদ ধাতুটির দামে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে আউন্স প্রতি সাড়ে ৫ হাজার ডলারের মাইলফলক ছাড়ানোর পর শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক ধাক্কায় সোনার দাম কমে গেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। দরপতনের এ ধারা আজ শনিবারও (৩১ জানুয়ারি) লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম দেখা গেছে ৪ হাজার ৮৯৩ দশমিক ২ ডলার।
রেকর্ড দামে পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে গেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। এত স্বল্প সময়ে সোনার দামে এমন বড় পতন বিশ্ববাজারে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে, গত দুই দিন ধরে অস্বাভাবিক দরপতন শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে এবং এতে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। কিন্তু, স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত সোনার দামে চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক দরপতন ঘটেছে।
বিশ্ববাজারের এই বড় দরপতনের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। শুক্রবার দেশের বাজারে এক ধাক্কায় ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৯ টাকা কমে যাওয়ার পর আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তার চেয়েও বড় পতন ঘটেছে সোনার দামে। এদিন প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশের সোনার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এতে করে মাত্র দুই ধাক্কায় দেশে ভরিপ্রতি সোনার দাম পড়ে গেছে ৩০ হাজার টাকার বেশি।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।
এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ১০টা ১৫ মিনিট থেকেই কার্যকর হয়েছে সোনার নতুন এই দাম।
দেশের বাজারে সোনার পাশাপাশি কমে গেছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৭ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, বেসামরিকসহ নিহত ১২৫
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ সদস্য ও ১৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তত ৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জিও নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলার পর বেলুচিস্তানে পরিচালিত ক্লিয়ারেন্স অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।
এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য শহীদ হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা ৩১ জানুয়ারি কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, দলবন্দিন, খারান, পানজগুর, তুম্প, গ্বাদর ও পাসনি এলাকায় একযোগে একাধিক হামলা চালায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে ১৮ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। আইএসপিআর জানায়, গোয়াদার ও খারানে সাধারণ মানুষের ওপর চালানো এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সারা প্রদেশে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অভিযান শুরু করে। এতে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ মোট ৯২ জন ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী নিহত হয়।
এদিকে বেলুচিস্তানজুড়ে হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি-বিএলএ। বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে সংগঠনটি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় হামলা চালিয়ে ছয় শিশুসহ ১৯ জনকে হত্যা
যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজায় আবারও হামলা চালিয়ে ছয় শিশুসহ ১৯ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। শনিবার ভোরে গাজা সিটি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
এদিকে এই হামলার একদিন পরই গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলার কথা রয়েছে। রোববার সীমান্তটি চালু হলে ২০২৪ সালের মে মাসের পর এই প্রথমবারের মতো এটি ব্যবহারযোগ্য হবে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে লড়াই মূলত বন্ধ থাকলেও উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৭৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। ওই সময় প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
একযোগে পাকিস্তানের ১২ স্থানে হামলা, নিহত ৪৭
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের ১২টি স্থানে একযোগে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১০ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৩৭ সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র বলেছে, ভারতের মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বেলুচিস্তানজুড়ে ১২টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। তবে, সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের সব হামলাই ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
ওই সূত্র বলেছে, ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সঙ্গে যুক্ত ৩৭ জন সন্ত্রাসীকে ‘নরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ দেশটির অপর এক নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
এদিকে রেডিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও সংঘর্ষ এখনও চলছে। এই অভিযানে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসীর হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বেলুচিস্তানে মোট ৮৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের হারনাই ও পাঞ্জগুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে অন্তত ৪১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক বিশেষ সহকারী রিন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, গত দুই দিনে প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার পরপরই এসব হামলা হয়েছে।
ডন বলছে, হামলার পর কুয়েটা, সিবি ও চামানে মোবাইল ফোন সেবা চালু থাকলেও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেলুচিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী মীর জহুর আহমেদ বুলেদি সরকারি সম্পদের ক্ষতি এবং নাগরিকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা বেলুচিস্তানকে জিম্মি করতে পারবে না। জনগণের সমর্থনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
এমএন



