জাতীয়
রাজধানীসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের তিন জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। তারা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেবেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ৫ ব্যাটালিয়নের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এ তথ্য জানান।
এতে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় মোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।
বিশেষ নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এবার বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি ও আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এবার বিজিবির ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে কিংবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি কর্মকর্তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
এমকে
জাতীয়
সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে: রিজওয়ানা হাসান
নির্বাচন ইস্যুতে সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন- দুটি দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণই হবে। এক দল আরেক দলকে হারানোর চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে, সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে। এটা খুব স্বাভাবিক।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা ও সভ্যতার সীমা রাখা হচ্ছে না। সে জন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পৌঁছে যায়, তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বলল বা না বলল, সেটা তো সরকারের দায়িত্ব নয়।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে, জেতার আগেই এত কথা বলে দিলে সেই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।
ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটি বিবৃতি রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি, তা ঠিক কথা নয়। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো, সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন হয়েছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে, তা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা আরও বাড়াব।
কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যা করছি তা হলো, আমরা সব উপদেষ্টারা দেশের ৬৪টি জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। গণভোট কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী—সেগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার অভিযান শুরু হয়ে গেছে, তাই এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু উপকরণ আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেগুলোই আমরা বিতরণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন বা করছেন না- জেলা প্রশাসকদের প্রচার বলতে বোঝায়, ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোট হবে এবং জনগণ যেন সাধারণ ভোটের সঙ্গে গণভোটেও অংশ নেয়, সে তথ্য জানানো। এর বেশি তাদের আর কিছু করার কথা নয়।’
মানুষের মধ্যে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন, কোন মানুষ আপনাকে বলেছে যে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এতগুলো জেলায় গেছি, সব জায়গায় গিয়ে দেখেছি নির্বাচনের একটি আমেজ তৈরি হয়েছে। আমরা যখন গিয়েছি, তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা বাংলাদেশে সবসময়ই হয়ে থাকে। আমি কোনো জায়গায় কাউকে বলতে শুনিনি যে ভোট দিতে যেতে তার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ তা বলে থাকে, আমাদের জানাবেন। তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।’
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ভয়ের একটি আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেই বলা হচ্ছে, পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্য কোনো কাজ করে, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এমকে
জাতীয়
জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি: আলী রীয়াজ
জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি। ত্রিশটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাস নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এজেন্ডাগুলো তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, এ চুক্তির বাস্তব রূপ দেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরও বর্তায়। এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এটি অগুনতি শহীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ : মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’- শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট।’
আলী রীয়াজ বলেন, গণ-অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী কিংবা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার জন্য নির্বাচন দরকার।
তিনি বলেন, যদি ন্যায়বিচার চাই, সংস্কার চাই এবং নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই— তাহলে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার- সবকিছুর ক্ষমতা জনগণের হাতেই।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা জীবন বিনিময় করে ফ্যাসিবাদের জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথযাত্রায়, সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের মালিক। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির, বক্তৃতা করেন ইনস্টিটিউটের ডিসটিংগুয়েশড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এমকে
জাতীয়
চাচাকে বাবা বানিয়ে কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়া সেই ইউএনও গ্রেপ্তার
প্রতারণা করে কোটা সুবিধা নিয়ে বিসিএসে চাকরি নেওয়া সেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) গ্রেফতার করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা পরিচয়ে প্রতারণা করায় নাচোলের ইউএনও মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়েরা জজ আদালতে জামিনের জন্য গেলে ডিএনএ টেস্টে অসযোগিতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিকে মামলার এজাহার অনুযায়ী, কামাল হোসেনের প্রকৃত পিতা আবুল কাশেম ও মা হাবীয়া খাতুন। কিন্তু তিনি কাগজপত্রে তার চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান হাবীব এবং চাচি সানোয়ারা খাতুনকে ‘পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ‘তিনি এসএসসি, এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব সনদে চাচা-চাচির নাম ব্যবহার করেছেন। এমনকি জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তাদের নাম বসিয়েছেন।’ অভিযোগ মতে, নবম শ্রেণি থেকে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি চাচাকে পিতা ও চাচিকে মাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং এই জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছিলেন, নাচোলের ইউএনও কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধা পেতে নিজের চাচাকে পিতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিসিএসে চাকরি নিয়েছেন, এমন অভিযোগ তদন্তে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে চাকরি ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার বেশ কয়েকটি মামলা ও তদন্ত বর্তমানে চলমান।
এমকে
জাতীয়
জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। জুলাই অভুত্থ্যানে ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই মহাশক্তিশালী এক সরকারের পতন ঘটেছিল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে। এতে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদেরকে প্রযুক্তিতে ভালো করতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের তিন জেলায় থাকা আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। যে স্কুলে শিক্ষক নেই, ইন্টারনেটই সে স্কুলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারবে।’
সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি দাস প্রথার শামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষরা সেই প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে রয়েছে।’
এমকে
জাতীয়
যেকোনো নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র কারও পক্ষ নিচ্ছে না, আমরা জনগণের পক্ষে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বতী সরকারের প্রস্তুতি। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব উদগ্রীব। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন পক্ষ নেবে না৷
প্রসঙ্গত, গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় আসেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এমকে



