আইন-আদালত
৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই, প্রশ্ন আবেদ পুত্রের
রিমান্ড আদেশ হওয়ার পর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম বলেছেন, ‘পঁয়ত্রিশ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?’
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে প্রিজনভ্যানে তোলার পর তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
গত মঙ্গলবার সিয়ামকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় দুদক। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার সিয়ামের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ঠিক করে। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সোয়া ১২ টার দিকে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শুরু হয়।
সিয়ামের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “সিয়ামের বিরুদ্ধে দুদকের ২৭(১) ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আবার একই ধারায় মামলা। কতবার আসামি করবেন একই অপরাধে।
“এক মাস আগে দুদক অভিযোগপত্র দিয়ে বলেছে, তার ৩৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেছে। মামলাটাও তো একই। রিমান্ডের যৌক্তিকতা নেই। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
দুদকের পক্ষে কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন খাত থেকে তার নামে প্রচুর টাকা এসেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে তাকে কারাগারে নিতে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়।
তখন সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিয়াম বলেন, “৩৫ লাখ টাকা সম্পত্তি বাপ আমারে দিছে। একটা গাড়ি, একটা জায়গা দিছে। ৮ লাখ টাকার জায়গা আর ২৫ লাখ টাকার গাড়ি। আমি কি কামাইছি? বাপে আমারে দিছে।
“এটার জন্য আমি কীভাবে দুদকের মামলার অন্তর্ভুক্ত হলাম। আমার বাবার রিমান্ড চলতেছে। দেখা করতে গেছিলাম, ধরে নিয়ে আসছে। দুদক থেকে চার্জশিট দিক। কয় টাকার দুর্নীতি করছে বিচার করুক, আমার সমস্যা নাই তো।”
তিনি বলেন, “আমার বাবা যদি কোনো অন্যায় করে, সেটার বিচার হবে- আমার সমস্যা নাই তো। সে আমাকে জায়গা দিছে, এটার জন্য কি আমি জেল খাটব? আর ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?”
পরে তাকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।
সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমএন
আইন-আদালত
স্ত্রী-সন্তান হারানো সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের হাইকোর্টে জামিন
সদ্য স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মানবিক বিবেচনায় এই জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি বলেন, আদালত মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামকে জামিন দিয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বের করে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় তখন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেক সংবাদকর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ।
পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন। প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এমকে
আইন-আদালত
চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্যানেল। কিন্তু, রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, আদালতে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও সীমিত সাজা দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা অসন্তুষ্ট। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। সাজা সীমিত হওয়া ন্যায় বিচারের সঙ্গে সঙ্গত না।
তিনি আরও বলেন, সুজন গুলি করার সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কিন্তু তিনি যেহেতু কনস্টেবল ছিলেন, ঊর্ধ্বতনের আদেশ পালনে বাধ্য ছিলেন তাই আদালত তাকে সীমিত সাজা দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই সাজা বার্তা দেয় যে, কোনো বেআইনি নির্দেশ মানতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধ্য নন। মানলে তিনি আদালতের এজলাসে ছাড় পাবেন না।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ওই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ছাড়াও সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তবে, রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর, কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এমকে
আইন-আদালত
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার আখতারুর ইসলাম।
এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর একই ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম রায় এসেছিল।
এমকে
আইন-আদালত
চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায় আজ
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি)।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো মামলার রায় হতে যাচ্ছে আজ। এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর এই ট্রাইব্যুনাল থেকেই প্রথম রায় এসেছিল।
গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। তবে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ ২৬ জানুয়ারি (আজ) নির্ধারণ করা হয়।
এ মামলায় মোট আসামি আটজনের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। বাকিরা পলাতক। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক চার আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গত ১৪ জুলাই চানখাঁরপুলের মামলাটির পলাতক চার আসামিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।
এমকে
আইন-আদালত
কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিজানুর রহমান।
এর আগে মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।
এমকে



