আইন-আদালত
প্রতারণার অভিযোগে ইউনিলিভার বাংলাদেশের পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ
প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সেন্ট্রাল সাউথ ক্লাস্টার প্রধান সৈয়দ জিকরুল বিন জমির, ওয়ারীর সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার এম সোয়াইব কামাল, সেন্ট্রাল সাউথ রিজিওনের এরিয়া ম্যানেজার কাওসার মাহমুদ চৌধুরী, কনজ্যুমার কেয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিন্নিয়া হক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম হিরণ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের ৭ আগস্ট ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স এ মামলা দায়ের করে। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে মাসুদ এন্ড ব্রাদার্সকে ওয়ারী, মানিকনগর, সদরঘাট, নবাবপুর রোড, মালিবাগ, শ্যামপুর ও মতিঝিল এলাকার পরিবেশক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী পরিবেশক প্রতিষ্ঠানটি গোডাউন ভাড়া, পণ্য পরিবহনের জন্য যানবাহন ক্রয় এবং জনবল নিয়োগসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনা করে।
চুক্তির আওতায় লাক্স, ডাভ, সানসিল্ক, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিসহ ইউনিলিভারের ২৫০টির বেশি পণ্য নির্ধারিত এলাকায় বাজারজাত করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি চুক্তি নবায়ন করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সরবরাহ করা পণ্যের মধ্যে নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ড্যামেজড পণ্য ফেরত দেওয়া হয়, যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী এসব পণ্যের বিপরীতে নতুন পণ্য সরবরাহ বা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আসামিরা বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তা না দিয়ে কালক্ষেপণ করেন।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অবাস্তব ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এবং কম বিক্রয়যোগ্য পণ্য বেশি সরবরাহের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি কমিয়ে দেন। এর ফলে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাদী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের বিপরীতে নতুন পণ্য বা অর্থ ফেরত না দিয়ে নতুন পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমে মোট প্রায় ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সময় বাদী প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন—এমন প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
আইন-আদালত
আত্মসমর্পণ করতে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন তিনি।
গত ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কারা-২) শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার।
আদেশে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। সরকারি এই আদেশের ফলে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে সু্প্রিম কোর্টে আপিল করার আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর তিনি আপিল করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সময় থেকে তিনি পলাতক।
গত ৮ জুলাই এই মামলায় সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদনের ওপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়ে পাঠান। আইন মন্ত্রণালয় ১৮৯৮ সালের ৫ ধারা ৪০১ (১) এর ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি আপিল দায়েরের সুযোগ পাবেন।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। একটি অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খারিজ করা হয়।
আবুল কালাম আজাদের এই রায়ই ছিল যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত প্রথম মামলার রায়। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি দেশত্যাগ করেন।
এমকে
আইন-আদালত
দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার পিএসসির সাবেক ড্রাইভারের ছেলে
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুদক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়াম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। প্রশ্নফাঁসে নাম তার জড়ানোর পর তাকে বহিষ্কার করেছিল ছাত্রলীগ।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও প্রায় ৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের নামে পৃথক তিনটি মামলা করেছিল দুদক। ওই মামলায় আজ সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আবেদ আলী ও তার ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আইন-আদালত
চানখারপুলে ৬ হত্যা: মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পিছিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রায় ঘোষণার নতুন এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। বাকিরা পলাতক। গ্রেপ্তাররা হলেন- শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ।
পলাতক চার আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।
গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তারা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।
যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে নিজের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক থাকায় হাবিবুরসহ চারজনের হয়ে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।
এমকে
আইন-আদালত
চানখারপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায় আজ
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালানোর দিন রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ মঙ্গলবার।
আজ (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করা হবে।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম মামলা। তবে রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার চারজন। বাকিরা পলাতক।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক চার আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।
গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তারা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।
যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে নিজের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক থাকায় হাবিবুরসহ চারজনের হয়ে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।
এমকে
আইন-আদালত
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার চার্জ গঠন আজ
আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য হয়েছে আজ সোমবার। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় সেটি অন্তর্ভুক্তও হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। ফলে এ মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এদিন আদালতে হাজির করা হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ট্রাইব্যুনালে মামলাটির চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় চার্জ গঠনের দিন অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মামলাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। চার্জ গঠনের মাধ্যমে ট্রায়াল প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি জানান, মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় আদালত প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় কার্যকর থাকবে। এ সময় সীমিত প্রবেশ ব্যবস্থা থাকবে। কেউ এ সময় আদালতে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে এ মামলার ২২ জন আসামিকে হাজির করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তা বিবেচনায় এ মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়নি। বিচারক এজলাসে উঠে একে একে সকল আসামির নাম ধরে হাজিরা নিশ্চিত করেন। ওই দিনে নথিপত্র পর্যালোচনা করে ১৯ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চার্জগঠন করা হয় জানান বিচারিক আদালত।
এমকে



