আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলার তেল বেচার অর্থ কাতারের ব্যাংকে
ভেনেজুয়েলার তেল বেচা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটা পুরোনো খবর। এই খবরের পরবর্তী অধ্যায় হচ্ছে, এই তেল বিক্রির অর্থ কাতারের ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হচ্ছে।
সিএনএনের সংবাদে বলা হচ্ছে, হতে পারে, এই অর্থ দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে ভেনেজুয়েলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তা কাতারের ব্যাংকে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আবার প্রশ্ন ওঠে, এভাবে কাতারের ব্যাংকে টাকা রাখা কতটা নৈতিক।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে আনার কারণ যে দেশটির তেলসম্পদের অধিকার নেওয়া, তা নিয়ে রাখঢাক নেই যুক্তরাষ্ট্রের। একাধিকবার ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের অধীন থাকবে। ইতিমধ্যে ৫০ কোটি ডলারের তেল যুক্তরাষ্ট্র বিক্রিও করেছে। সেই তেল বিক্রির অর্থ কাতারের ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা তো কেবল শুরু, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে আরও অনেক অর্থ আসবে। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। যদিও তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাইছে। তা না পেলে তারা ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিএনএন–এ বলেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে রাখা হয়নি বা সরাসরি ভেনেজুয়েলাতেও পাঠানো হয়নি; বরং সেগুলো কাতারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সকে বলেন, তেল বিক্রির নগদ অর্থ গত বৃহস্পতিবার থেকেই ভেনেজুয়েলায় পাঠানো শুরু হবে। ভেনেজুয়েলার আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত দুই সূত্রের ভাষ্য, দেশটির ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে নগদ অর্থের বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তেল বিক্রির আয় দেশে পৌঁছেছে।
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন পশ্চিমা সরকারের নিষেধাজ্ঞার মুখে আছে। ফলে দেশটি কার্যত বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়েছে। গত কয়েক দশকে দেশটির বিভিন্ন সরকার বিদেশি তেল কোম্পানি জব্দ করেছে—যার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেলসম্পদ ‘চুরি’ করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তেল বিক্রির অর্থ যেন সরাসরি ভেনেজুয়েলার উপকারে আসে। তিনি যেটা নিশ্চিত করতে চাইছেন, সেটি হলো ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের ওপর যাদের দাবি আছে, তারা যেন এই অর্থের নাগাল না পায়।
এই লক্ষ্যে ট্রাম্প শুক্রবার নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। আদেশে বলা হয়, ওই অর্থের ওপর কোনো ধরনের লিয়েন বা অন্য কোনো আইনি দাবি আরোপের চেষ্টা করা হলে তা অবরুদ্ধ থাকবে। আদেশে আরও সতর্ক করে বলা হয়, যদি এসব অর্থ আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত না থাকে, তাহলে তা ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় গুরুতর বাধা সৃষ্টি করবে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে তেল বিক্রির অর্থ পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাওনাদারদের নাগালের বাইরে রাখতেই কাতারের ব্যাংক হিসাবে রাখা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার পাওনাদারেরা এই অর্থপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তা যেমন দেশটির জন্য সমস্যাজনক হবে, তেমনি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, এটা প্রকৃতই বড় সমস্যা; ভেনেজুয়েলার কাছে সবারই টাকা পাওনা।
সেই বিশেষজ্ঞ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকা পালন করে আসছে। নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর কাতারের ভূমিকা আরও বেড়েছে। বাস্তবতা হলো কাতার তারও অনেক আগে থেকে দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, বাইডেন প্রশাসনের সময়ও কাতারের ব্যাংকগুলো একই ধরনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। সে সময় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হলে তেল বিক্রির কিছু অর্থ ইরানে পাঠাতে দেওয়া হয়।
লাতিন আমেরিকার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইকোঅ্যানালিটিকার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলেহান্দ্রো গ্রিসান্তির মতে, কাতারের যে ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ রাখা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার ব্যাংকগুলোর কাছে সেই অর্থ নিলামের মাধ্যমে ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য, ওষুধ ও ছোট ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
গ্রিসান্তি আরও বলেন, এই অর্থ ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংগ্রহ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে শর্ত নির্ধারণ করে দেবে, সে অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সকে বলেন, এই অর্থ ভেনেজুয়েলা সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও খাদ্য সরবরাহে ব্যয় করা হবে।
ভেনেজুয়েলায় পাঠানোর আগে কাতারের ব্যাংকে কেন অর্থ রাখা হচ্ছে—এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি।
মার্কিন এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ভেনেজুয়েলা অনেক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে প্রশাসন দ্রুত কাজ করছে। সেই সঙ্গে আমরা বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে দেখছি।’
স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
সেই বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে পাওনাদারদের পক্ষে ভেনেজুয়েলায় প্রয়োজনীয় অর্থপ্রবাহে বাধা দেওয়া সম্ভব ছিল না। বিষয়টি হলো অর্থ কাতারে রাখা হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আইনি চ্যালেঞ্জের আওতার আরও বাইরে চলে যায় না; বরং অর্থ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বচ্ছতাও কমে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘যদি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকাশ্যে জানা না যায়, যেখানে বলা থাকবে, এই অর্থের তহবিল কীভাবে পরিচালিত হবে, কারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কী ধরনের দুর্নীতিবিরোধী ও অর্থ পাচার রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাহলে পুরো ব্যবস্থা কার্যত “গোপন তহবিলের” মতো হয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।’
বিশেষজ্ঞের মত, এই অর্থ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাস্তব উদ্বেগ আছে। সেটি হলো ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই অর্থ ব্যবহার করে সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশ, আধা সামরিক গোষ্ঠী ও মাদক কার্টেলকে তোষণ করে যেতে পারেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুলছেন—এই অর্থ কাতারে পাঠানোর পেছনে ট্রাম্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।
ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর জব্দ করা সম্পদ বিক্রি করে প্রেসিডেন্ট নিজের নিয়ন্ত্রণে অফশোর হিসাব খুলবেন, এর আইনি ভিত্তি নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের আকৃষ্ট করার মতো।’
কেন ভেনেজুয়েলার তেল
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক—এই ক্ষেত্রে অন্য সবার চেয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র যে তেল উৎপাদন করে, তা মূলত হালকা ও অপরিশোধিত ধরনের; কিন্তু তাদের বেশির ভাগ তেল পরিশোধনাগারের যে সক্ষমতা, তাতে তাদের ভারী ও অপরিশোধিত তেল প্রয়োজন।
অন্য কথায়, নিজের দেশের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে এই থিকথিকে ও ভারী অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভর করতে হবে। খবর স্কাই নিউজ
এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মার্কিন পরিশোধনাগারগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন হবে হাজার হাজার কোটি ডলার। এ কারণে নিকট–ভবিষ্যতে কেউই তা করতে বিশেষ আগ্রহী নয়।
কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করে ঠিক; কিন্তু ভারী তেলের চাহিদা মেটাতে দেশটিকে এখনো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে হালকা অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়, তার সিংহভাগ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। অথচ টেক্সাস ও লুইজিয়ানার পরিশোধনাগারগুলো চালু রাখতে তাদের প্রতিদিন ছয় হাজার ব্যারেলের বেশি ভারী তেল আমদানি করতে হয়।
এ বাস্তবতা মাথায় রাখলেই সমীকরণ মেলানো সম্ভব। এ সমীকরণ অনিবার্যভাবে ভেনেজুয়েলার দিকেই নিয়ে যায়। কেননা, কানাডা ও রাশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভারী তেলের মজুত ভেনেজুয়েলায়।
আন্তর্জাতিক
পারস্য উপসাগরে ইন্টারনেট কেবলে ইরানের ‘হামলার ইঙ্গিত’
পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, বিশ্লেষকেরা এটি সম্ভাব্য ‘গোপন হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়, এটি সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এই পথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের প্রধান ইন্টারনেট সংযোগগুলো পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্য সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তাদেরকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ নয়; বরং কৌশলগত বার্তা। এতে সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, এসব স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তা অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা তীব্র। এরইমধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।
কিছু সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি স্থাপনা বা সমুদ্রপথের পাশাপাশি এখন সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারও এই সংঘাতের নতুন ঝুঁকির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইসরায়েল।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে ডায়েট কোকের সংকট
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা ও এরপর তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাতে সৃষ্ট যুদ্ধের কারণে ভারতে ডায়েট কোকের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে এই পানীয়টি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানেই বিক্রি করা হয়, আর যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ক্যান সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ হয় উপসাগরীয় অঞ্চলে।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়, যার ফলে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি এই ক্যান সরবরাহও আটকে রয়েছে।
ভারতে সাধারণত অধিকাংশ কোমল পানীয় প্লাস্টিক বোতল ও ক্যান—দুইভাবেই বিক্রি হয়।
তবে ডায়েট কোক শুধু ক্যানেই পাওয়া যায়, ফলে এর ওপর প্রভাব বেশি পড়েছে।
কোকা-কোলার দুই পরিবেশক রয়টার্সকে জানান, ক্যানের সংকটের কারণে কোম্পানি সরবরাহ সীমিত করছে বা কিছু অর্ডার পূরণ করতে পারছে না বলে তাদের জানানো হয়েছে।
সঞ্জয় নামে একজন পরিবেশক বলেন, “আমরা নিয়মিত অর্ডার দিচ্ছি, কিন্তু যুদ্ধের কারণে ঘাটতির কথা জানানো হচ্ছে।”
তবে এ বিষয়ে কোকা-কোলা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক
ইরানকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে বারবার মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কখনো তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, আবার কখনো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো সমাধান নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়নি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মস্কোয় লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের আল-বাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ল্যাভরভ বলেন, “আমরা ইরানের অবস্থান বুঝতে পারছি। তারা যথার্থভাবেই বলছে, তারা আগেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে।”
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দুই সপ্তাহ ব্যাপী যুদ্ধবিরতি শেষ হবে। তার আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় আলোচনা ভেস্তে গেছে।
ল্যাভরভ আরও বলেন, পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে রাশিয়া নজর রাখছে। তবে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাতে পারে এবং তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকবার পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের মতো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সেটা বড় ধরনের সাফল্য হবে।
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি সম্পাদিত হয়। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে একপাক্ষিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।
ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নানা ধরনের ইঙ্গিত থাকলেও এখনও পর্যন্ত কোনো বাস্তব ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আমরা দেখছি, কিন্তু বাস্তবতা দেখছি না।’
বিশ্লেষকদের মতে, ল্যাভরভের এই বক্তব্য শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কোনো চুক্তি অর্জন করা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং রাশিয়া-চীনসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো চুক্তি অর্জিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তথ্যসূত্র: তাস ও আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
লেবানন থেকে সেনা সরাতে ইসরায়েলকে আহ্বান ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেবানন-ইসরায়েল পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং দেশটির জনগণের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় ফ্রান্স লেবাননের পাশে রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে। এই সমঝোতা উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রের বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট একইসঙ্গে ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ ও লেবাননের পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং নতুন সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা তৈরির কারণে এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাসটি।
একইসঙ্গে দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু হওয়া যুদ্ধ, ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে আন্তরিক শোক প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শেয়ার্ড মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘস্থায়ী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে। ইরান অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
চলতি সপ্তাহে তুরস্কে আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস আন্তরিকভাবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গঠনমূলক এবং ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততা এবং উদ্যোগগুলো অনুসরণ করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের সমস্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করে, যা এই অঞ্চল এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপরিহার্য।
দূতাবাস ইরানের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শোক বার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য বিশেষ প্রশংসার যোগ্য, যা একটি উল্লেখযোগ্য এবং ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা দেয়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকেও দূতাবাস সাধুবাদ জানায়।
ইরান বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু করা যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষতির জন্য আন্তরিক শোক প্রকাশ করে এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।
ইরানের দূতাবাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং আজারবাইজান হয়ে ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুবিধাও দিয়েছে।
ইরানের দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত অংশের নির্বাচিত কিছু অংশ প্রচারের জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা কিছু মিডিয়া আউটলেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কাজ বা বিবৃতি থেকে বিরত থাকার জন্য এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায়।



