রাজনীতি
আমরা বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন চাই না: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন চাই না। বোঝাপড়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটারদের সঙ্গে, কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়।
সোমবার রাতে (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি এ কথা বলেন।
কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে এবং কর্নেল (অব.) জাকারিয়ার সঞ্চালনায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম গোলাম মোস্তফার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।
কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) মাহাবুব উল আলম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনসহ অনেকে এ সময় বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক বিনা চ্যালেঞ্জে ভোটকেন্দ্রে যাবে, আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবে এবং ভোটের প্রতিফলন পাবে। তবেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, গুড গভর্ন্যান্সের পূর্বশর্ত হলো- একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে-সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। তা না পারলে পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা এবার ভোট দেবে। আমরা তোমাদের ভোট পাহারা দেব। তোমরা জাতির পাহারাদার হবে।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জাতিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দিয়েছেন। এখন আপনাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মকে ভালো কিছু দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। আমরা দুর্নীতির মূল ধরে টান দিতে চাই।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো সিভিলিয়ানের মুখ দিয়ে যুদ্ধের ঘোষণা হয়নি, এটি হয়েছে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। এ বিষয়ে একবারই ইতিহাস রচিত হয়েছে এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে- যে যত চেষ্টা করুক। অনেকে এটিকে ম্লান করতে চান, যা অবিচার।
তিনি বলেন, এটি ছিল রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। তারা তা না করায় সেনাবাহিনীর একজন অফিসার এ মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতির জন্য তার অবদান অস্বীকার করা মানে নিজেকেই অস্বীকার করা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে জাতির মানসপট থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবকেও যথাযথভাবে স্মরণ করা হয় না। বীরদের অবশ্যই আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। নইলে নতুন করে বীর জন্মাবে না, যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য সেনাবাহিনী লড়াই করেছে। লড়াই করতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অসংখ্য অফিসার ও সেনা জীবন দিয়েছেন। তারা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু এক ইঞ্চি মাটি কাউকে দেননি।
তিনি বলেন, চব্বিশের এ আন্দোলনে আপামর জনগণ যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আপনাদের সেই দিনের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোড়িত করেছিল। অফিসার ও মায়েদের সাহসী ভূমিকা পথ দেখিয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগস্টের ৩ ও ৪ তারিখ সবচেয়ে মজলুম দল ছিল জামায়াত। জনতার আন্দোলন দমাতে গিয়ে অতীতের মতো নোংরা উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণ এ ঘোষণা মেনে নেয়নি। ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা ছাড়া জাতীয়তাবাদীরাও এর প্রতিবাদ করেছে। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সেদিন দল রক্ষার জন্য নয়, দেশ রক্ষার জন্য লড়াই করেছি। এ আন্দোলনে যদি কোনো অবদান থাকে, সেটি জাতির প্রতি উপহার-দায়িত্ব পালনের একটি স্মারক এবং আমাদের রাজনৈতিক নৈতিক দায়বদ্ধতা।
তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত আমরা এ পরিবর্তনকে বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান- যে ভাষাতেই বলা হোক না কেন-তার ক্রেডিট দল হিসেবে দাবি করিনি।
বর্তমান সরকারপ্রধান বিদেশে বসে এক ব্যক্তিকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেছিলেন, যার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ আন্দোলনে সব জনগণই মাস্টারমাইন্ড।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো শহীদকে দলীয় পরিচয় দিতে চাই না। দলীয় পরিচয় দিলে শহীদদের খাটো করা হয়। তারা এ জাতির সম্পদ। জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে আমরা সেই জায়গায় পেয়েছি এবং তাদের নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। এটি পারস্পরিক ভারসাম্যের বিষয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সীমানা অক্ষুণ্ন রাখবে সেনাবাহিনী। সীমানা ঠিক থাকলে ভেতরের কার্যক্রম ঠিক থাকবে, না থাকলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। এ স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে।
তিনি বলেন, শাসনযন্ত্র ও রাষ্ট্রযন্ত্রে যারা থাকবেন, তাদের মধ্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট বোঝাপড়া থাকতে হবে। সামান্য ঘাটতিতেই দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জব ডেসক্রিপশন ও সীমা থাকতে হবে। সীমা লঙ্ঘন হলে বিপর্যয় অনিবার্য এবং সেখান থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। প্রত্যেক পেশাজীবী কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করবে- এমন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা এখন ভয়-ভীতির মধ্যে বসবাস করছি। আমরা সেনাবাহিনীকে দেখতে চাই-তারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। সেনাবাহিনীকে তার পেশাগত দায়িত্বে আরও মনোযোগী হতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের দেশকে অগ্রসর দেশ হিসেবে দেখতে চাই। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে একটি নিরাপদ দেশ তুলে দিতে চাই। আমরা বেকারভাতা দিয়ে অলস জাতি গড়তে চাই না, তবে যারা অক্ষম, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এমকে
রাজনীতি
রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা
বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানী ঢাকায় বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে এই শোভাযাত্রাটি করা হয়। এটি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ও পেশার মানুষ অংশ নেন এই শোভাযাত্রায়। দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান যেমন, মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল ও কুলার উপস্থিতি ছিল এতে। বাঙালিয়ানার সাজ-পোশাকে চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি ছিল শিশুদের। দেশাত্মবোধক, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
শোভাযাত্রার আগে একটি সমাবেশ হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দেশীয় সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
হারানো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। পাশাপাশি বাঙালির প্রকৃত চেতনা জাগ্রত করার কথাও বলেন তারা। তবে সমাবেশে এমন সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়, যা ইমান ও আকিদার ক্ষতি করে বা ইসলামী শরিয়ার বিরুদ্ধে যায়।
শোভাযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ রাজধানীর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতি
মান্ডায় জামায়াতের উদ্যোগে ১৮ শিশুর বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা সম্পন্ন
রাজধানীর মুগদায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ১৮ জন শিশুর বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় মুগদা পূর্ব থানা জামায়াতের কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুগদা পূর্ব থানা আমির ও কাশবন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসহাক। তিনি আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ইসহাক বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ইসলামের সৌন্দর্য ও নবীদের সুন্নাহর কোনো বিকল্প নেই। মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী যাবতীয় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
থানা সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য ওসামা মুন্সি সুরুজ, শহীদুল ইসলাম শহীদ ও মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
খতনা শেষে শিশুদের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
রাজনীতি
গণভোটের রায় না মানলে সংকটে পড়বে দেশ : শিশির মনির
গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভার (কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে এক জাতীয় সেমিনারে কিনোট পেপার উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, জগতে কোথাও কি শুনেছেন গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়? সংবিধান মেনে তো অভ্যুত্থান হয় না, এটি হয় সংবিধানের বাইরে থেকে। এখন এই রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৯ তারিখ আদালত খুলবে। আমরা আশা করছি আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে। যদি বাংলাদেশের আদালত তার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া।
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে এই আইনজীবী বলেন, গণভোটের রেজাল্ট মেনে নিয়ে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। এরপর উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই ভাগে পার্লামেন্ট বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কথা। উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার কথা ১০০ জনকে নিয়ে, যেখানে ভোটের সংখ্যানুপাতে দলগুলো আসন পাবে। এই কর্মকাণ্ড যদি আপনারা প্রদর্শন না করেন, তবে তা হবে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
তিনি বলেন, আমি সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির সংগ্রহ করেছি। দুনিয়ার ইতিহাসে এমন একটা উদাহরণ নেই, যেখানে মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছে আর সরকার তা মানেনি।
আদালত ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তন করেছিলাম। সেটাকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে ‘অসাংবিধানিক’ বলা হলো। ফলে ১৭ বছর দেশে আগুন জ্বলল। এখন আবার কোর্ট বলছেন, সেটা সাংবিধানিক। রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান যখন কোর্টে খোঁজা হয়, তখন সংকট আরও বাড়ে।
‘থুতু নিজের গায়েই পড়বে’— এমন মন্তব্য করে সরকারের উদ্দেশ্যে শিশির মনির বলেন, মিসাইল ছুড়লে তার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে হয়। তা না হলে সেই মিসাইল কার বাড়িতে গিয়ে পড়বে, কোনো শিশু বা নারীকে হত্যা করবে, তার ঠিক থাকে না। আপনারা ওপর দিকে চেয়ে থুতু দিচ্ছেন, অপেক্ষা করেন, কয়দিন পর এই থুতু ঘুরে আপনাদের নিজেদের গায়েই পড়বে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রাজনীতি
জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী গঠনের চেষ্টা করছে বিএনপি
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার সময়ে পুলিশ ধীরে ধীরে ‘পুলিশ লীগে’ পরিণত হয়েছিল। এখন বিএনপি সেই বাহিনীকে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী’ বানানোর চেষ্টা করছে। তা না হলে তারা কেন পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করছে না? পুলিশ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করছে না কেন?
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বিএনপি নানা ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হবে। আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুর্নীতি-লুটপাটের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং পুরোনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে সরকার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনো একাত্তরের চেতনা, আবার কখনো জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা এসব আদর্শ ধারণ করে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি দাবি করছে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু বাস্তবে তারা সেটিকে কলুষিত করেছে। শেখ হাসিনার আমলে বিচার বিভাগ যেভাবে দলীয়করণ হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিচারপতিদের নিরপেক্ষ নিয়োগের যে অধ্যাদেশ ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলোই আবার বহাল রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সংস্কারের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে ধারণ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রকৃত সংস্কার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্যে আবারও আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।
রাজনীতি
ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারঃ জামায়াত আমির
নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার। তবে নতুন করে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। জুলাই জাদুঘর জনগণের, কিন্তু সেটাকেও তারা দলীয়করণের পথে নিয়ে গেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, যতদিন সংসদে লড়াই করতে পারবো ততদিন থাকবো, এর বাইরে এক সেকেন্ডও নয়। রাজপথই আমাদের মূল ঠিকানা।
সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি ও গাদ্দারি করেছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্রিকেট বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ—সব জায়গায় ক্যু করছে বিএনপি। এই অবৈধ হস্তক্ষেপ গণতান্ত্রিক পথসমূহ আবারও রুদ্ধ করছে। সরকারের এই অবৈধ হস্তক্ষেপ মানা হবে না; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এবারের আন্দোলনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সামনে সারিতে থাকবেন। যদি বুলেট ছোড়া হয়, সেই বুলেট আগে আমাদের বুক ভেদ করবে। তবে এবার অর্ধেক সফলতা নয়; পরিপূর্ণ সফলতার জন্য রাজপথে নামবো।



