আন্তর্জাতিক
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও ১৭০ বছর পর বন্ধ, দেউলিয়া ঘোষণা
একসময় ভারত শাসন করা এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ বিস্তারের পথ তৈরি করা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুনরুজ্জীবনের প্রায় ১৭০ বছর পর আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিলাসপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে কার্যক্রম গুটাতে হয়েছে ঐতিহাসিক এই কোম্পানিকে। আর এর মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনেরও সমাপ্তি ঘটল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, একসময় ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করা এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের পথ তৈরি করা ব্রিটিশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এবার লন্ডনে বিলাসপণ্যের খুচরা বিক্রেতা হিসেবে তাদের কার্যক্রমের ইতি টানা হলো। অবশ্য মূল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রায় ১৫২ বছর আগে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরে ২০১০ সালে এক ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী নামের স্বত্ব কিনে প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করেন। কিন্তু সেই প্রকল্প এবার দেউলিয়া হয়ে শেষ হয়েছে।
১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়। ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ ক্রাউন সরাসরি ভারতের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং এর মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্তরাধিকার সাধারণত নেতিবাচক অর্থেই দেখা হয়। ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক শোষণ, সহিংসতা এবং মহাদুর্ভিক্ষ, বিশেষ করে বাংলার মহাদুর্ভিক্ষের সঙ্গে এই কোম্পানির নাম জড়িত। পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। যদিও ব্রিটিশ এই কোম্পানি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু বিপুল মানবিক দুর্ভোগের বিনিময়েই এই পরিবর্তন এসেছিল।
২০১০ সালে ভারতীয় উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের সত্ত্বাধিকার কিনে নেন। যে কোম্পানি একসময় ভারত শাসন করেছে, সেটির মালিক একজন ভারতীয় হওয়ার সেই খবর বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিল। তবে কোম্পানিটির আধুনিক সংস্করণ এখন লিকুইডেশনে গেছে।
দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেটর নিয়োগ দেয়। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত তাদের মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি দেনা ছিল। কর বাবদ বকেয়া ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ পাউন্ড এবং কর্মীদের পাওনা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ পাউন্ড। মালিক সঞ্জীব মেহতার সঙ্গে যুক্ত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ নামধারী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও বিলুপ্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এছাড়া কোম্পানির ওয়েবসাইটও বর্তমানে অচল। লন্ডনের মেফেয়ারে ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে তাদের দোকানটি খালি পড়ে আছে এবং ভাড়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরেক প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কালেকশনস লিমিটেডের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি পাওনাদাররা উইন্ডিং-আপ পিটিশন দায়ের করেছে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন সঞ্জীব মেহতা। ২০১০ সালে তিনি মেফেয়ারে ২ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল দোকান খোলেন। সেখানে ফোর্টনাম অ্যান্ড ম্যাসনের মতো খ্যাতনামা দোকানের আদলে উচ্চমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি হতো।
মেহতা এটিকে উপনিবেশবাদের প্রতীককে ইতিবাচক কিছুর মধ্যে রূপান্তর হিসেবে দেখেছিলেন। ২০১৭ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একজন ভারতীয় এখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক, এতে নেতিবাচক বিষয়টি ইতিবাচকে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আগ্রাসনের ওপর দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু আজকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সহমর্মিতার কথা বলে।’
১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রানি প্রথম এলিজাবেথের দেয়া রাজকীয় সনদের মাধ্যমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইস্ট ইন্ডিজ তথা ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মসলা ও পণ্যের বাণিজ্যে অংশ নিতে এটি একটি যৌথ-শেয়ারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
এটি ছিল বিশ্বের প্রথম দিকের যৌথ-শেয়ার কোম্পানিগুলোর একটি, যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে লাভ-ক্ষতির অংশীদার হতেন। ১৬১২-১৩ সালে ভারতের সুরাটে প্রথম বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে এই কোম্পানি। পরে কেপ অব গুড হোপের পূর্বাঞ্চলে ব্রিটিশ বাণিজ্যে একচেটিয়া অধিকার পায়।
১৭০০-এর দশকে এটি শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। দুর্গ নির্মাণ, স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে জোট এবং ফরাসি ও বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলা অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং কর আদায়, আদালত পরিচালনাসহ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে থাকে।
উনিশ শতকের শুরুতে কোম্পানিটির প্রায় আড়াই লাখ সদস্যের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী ছিল। অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দ্বিগুণ সেনাসদস্য ছিল তাদের। মসলা, তুলা, রেশম, চা, নীলসহ নানা পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর মানবিক মূল্য ছিল অত্যন্ত বেশি।
কোম্পানির শাসনামলে শোষণ, নগদ ফসল চাষে বাধ্য করা এবং রপ্তানিনির্ভর নীতির কারণে দুর্ভিক্ষ আরও তীব্র হয়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর তাদের শাসনের অবসান ঘটে। পরে ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজপরিবারের হাতে হস্তান্তরের পর ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটি বিলুপ্ত করে।
একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে সাম্রাজ্য নির্মাতা হয়ে উঠেছিল— ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাস সেই কাহিনীই তুলে ধরে। এটি আধুনিক ভারত, ব্রিটেন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করলেও রেখে গেছে গভীর অবিচারের ইতিহাস।
আর এবার দ্বিতীয়বারের মতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই অদ্ভুত পুনরুজ্জীবনেরও সমাপ্তি টানল।
আন্তর্জাতিক
কমলো তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনার আশায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৪০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ৯৭.৪০ ডলারে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরপরই হঠাৎ তেলের দাম কমলো।
এর আগে, সপ্তাহান্তে দুই দেশের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের বন্দর অবরোধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এর জেরে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে, যা বাজারে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরে আসার শঙ্কা প্রবল।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি চীনের
ট্যারিফ বা শুল্ক বাড়ানোর হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
যুদ্ধে ইরানকে সামরিকভাবে সহায়তা করলে চীনের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডলান্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী বেইজিংয়ের পণ্যের ওপর ‘বিস্ময়কর’ নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পর চীনে পূর্বনির্ধারিত একটি রাষ্ট্রীয় সফর স্থগিত করেন ট্রাম্প। যা আগামী মাসে হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন ইরানকে সহায়তা করছে—এ বিষয়টি যদি সত্য হয়, তাহলে চীন বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়বে।’ ট্রাম্পের এই হুমকির জবাব দিয়েছে চীন। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানকে অস্ত্র দেয়ার খবর মিথ্যা। এই অজুহাতে আমেরিকা যদি চীনা পণ্যের শুল্ক বাড়ায়, তাহলে চীনও পাল্টা জবাব দেবে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, ইরানকে সামরিক সাহায্য দেওয়ার অভিযোগে যে মিডিয়া রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি বানানো এবং মিথ্যা। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে চীনের ওপর ট্যারিফ বাড়ায়, তাহলে চীন অবশ্যই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘চীন সামরিক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে সবসময় সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করে। আমরা চীনের আইন-কানুন এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব অনুসারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখি।’
আন্তর্জাতিক
চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে ব্যয় বহনের প্রমাণ দিতে হবে
বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে যাওয়া-আসার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওই বার্তায় বলা হয়েছে, একজন বি-২ ভিসা আবেদনকারীকে চিকিৎসা, সংশ্লিষ্ট সব খরচ এবং ওই চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে।
কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হবেন। যেন, যুক্তরাষ্ট্রে আবেদনকারী যে কাজের পরিকল্পনা করেছেন, তাতে আমেরিকার করদাতাদের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা সৃষ্টি না হয়।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করল ইতালি
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
টাইমস অফ ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও ইতালি একে-অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম (অস্ত্র) এবং প্রযুক্তি গবেষণা আদান-প্রদান করে।
ভেরোনায় এক উৎসবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির সময় এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয় এবং প্রতি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে আসছিল। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতা চলত।
গাজায় হামলার পর থেকে ইতালিজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশটির ডানপন্থী সরকারের ওপরও এই ইস্যুতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।
গত সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে মেলোনি জানান, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করবে ইতালি। তিনি বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ ‘মানবিক সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং এতে বেসামরিক মানুষের গণহত্যা ঘটছে।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের সময় ইতালি তাদের সিগোনেলা ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতিও দেয়নি বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এবং ইতালীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার
চলমান সংঘাতে ইরানের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে এই হিসাব এখনও চূড়ান্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে জানা যায়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে ইরানের অবকাঠামো, অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগবে এবং চূড়ান্ত হিসাব আরও বেশি হতে পারে।
মোহাজেরানি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করতে হয়। ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাতেও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ক্ষতির হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং সংঘাতের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে।
সূত্র : আলজাজিরা



