জাতীয়
ভারতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে আমরা অনড়: আসিফ নজরুল
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার অবস্থানে বাংলাদেশ অনড় রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) বোঝানো সম্ভব হবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান উপদেষ্টা। বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ডের পরিচালকরা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করবো না। আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই, বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আরেকটি আয়োজক দেশ শ্রীলংকা আমরা সেখানে খেলতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার এই অবস্থানে আমরা অনড়। কেন আমরা অনড়, সেটি আইসিসিকে যুক্তিসহ বোঝাতে পারবো বলে আশা করি। আইসিসি যদি নিরপেক্ষ ও সহৃদয়ভাবে আমাদের যুক্তিগুলো বিবেচনা করে, তাহলে আমরা যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি, সেখানে আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এই ম্যাচগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের ভেন্যু থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে বিসিবি।
এমকে
জাতীয়
কাতার-দুবাইসহ বিমানের ছয় রুটের সব ফ্লাইট ৫ মার্চ পর্যন্ত বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে– সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা; সৌদি আরবের দাম্মাম; কাতারের দোহা এবং কুয়েত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটল, যার বড় অংশই ছিল মধ্যপ্রাচ্যগামী।
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
শিক্ষার্থী-প্রতিবন্ধীদের মেট্রোরেলসহ সব ধরনের ট্রেনে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়
মেট্রোরেলসহ দেশের সব ধরনের রেলসেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে এই সুবিধা কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভাড়া ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে বিশেষ অপশন রাখা হবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখালে এই ছাড় পাবেন। এছাড়া ভ্রমণের সময় (অনবোর্ড) এবং টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীদেরও সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।
প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া কার্ডটি কার্যকর হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন কি না, সে বিষয়ে আজ কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
রেলের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমরা রেলের সেবার মান ও গতি বৃদ্ধি করতে চাই। বর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রেল আরও শক্তিশালী, জনবান্ধব ও মানসম্মত হবে।’
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাত্রীচাপ সামলাতে ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ব্যবহারের চেষ্টার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভব হলে কোনো শিডিউল বিপর্যয় হবে না এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা সহজ হবে।
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করছে। বাস মালিকদের পক্ষ থেকে যাতায়াতের সময় সেতুর টোল মওকুফের একটি দাবি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের চাপ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য কোথাও দুই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি লোক শহর ছাড়ে না। এর ফলে একটি বিশাল চাপের সৃষ্টি হয়। ইনশাআল্লাহ, যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তাতে একটি স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক ঈদযাত্রা হবে বলে আমরা আশা করছি।’
ঈদযাত্রা আরও সহজ করতে একদিনের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। বিষয়টি এখনো বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ হয়নি, তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এমএন
জাতীয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পল কাপুর, বৈঠক করছেন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন পল কাপুর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, পল কাপুর বর্তমানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসবে।
সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা সমস্যা, আঞ্চলিক ইস্যু-বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন পল কাপুর।
সফরসূচি অনুযায়ী, পল কাপুর আজ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আজ সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন তিনি।
সফরের শেষদিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করবেন পল কাপুর। এরপর রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে পলের। সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার পার্টিতে অংশ নেবেন তিনি।
পল কাপুরের ঢাকা সফর নিয়ে ঢাকা মার্কিন দূতাবাস সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কাপুর নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
এমএন
জাতীয়
নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে আইন লঙ্ঘন ড. ইউনূসের
বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে দায়িত্ব পর-পরবর্তী এক বছর তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। তবে সেটি জনসমক্ষে প্রকাশ পায় সম্প্রতি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে অসততার আশ্রয় নিয়ে তিনি আইন ও সংবিধানের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ড. ইউনূস যে অধ্যাদেশটি অতি গোপনীয়তার সঙ্গে করেছেন, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর এস আরও নং ২৮৫ সংশোধন করে করা। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্ব স্ব পদে কর্মবসানের তারিখ হইতে এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ তিন মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করিল।
বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই আদেশের আলোকে শুধু তার নিজের জন্য নিজেকে এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেননি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা যায় না। ১০ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনীয়ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি একদিকে যেমন সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন, ঠিক তেমনই এটি ড. ইউনূসের স্বার্থপরতার একটি উদাহরণ।
তারা বলছেন, তিনি (ড. ইউনূস) যদি বিদায়ি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আগের আইনে বর্ণিত সবার জন্য সময় বাড়াতেন, তা হলেও এর যৌক্তিকতা কিছুটা হলেও বোঝা যেত। কিন্তু শুধু নিজেকে আগামী এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা, কেবল অনৈতিক নয়, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নিজেকে শুধু ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেননি ড. ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে। সুদ মওকুফ করেছেন নিজের সব প্রতিষ্ঠানের। ক্ষমতায় বসে নিজের নামে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়, রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স। বিদায়ের আগেও নিজের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিতে ভোলেননি ড. ইউনূস।
এমএন
জাতীয়
অভিনন্দন জানানো বিলবোর্ড-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে টানানো সব ধরনের বিজ্ঞাপন, ব্যানার ও বিলবোর্ড দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী হাতিরঝিল এলাকা পার হওয়ার সময় পুলিশ প্লাজার সামনে তাঁর ছবি সম্বলিত অভিনন্দন বার্তা ও ব্যানার দেখতে পান। তিনি তখনই সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং তাঁর উপস্থিতিতেই তা কার্যকর করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির এলইডিতে প্রদর্শিত অভিনন্দন বার্তাও দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কয়েকদিন আগেও বিজয় সরণীর সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময়ে একটি এলইডিতে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল সেটা দেখে তিনি তখনই তা অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অফিস করেছেন সচিবালয়ে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অফিসে আসেন। দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলায় রাজধানীর সড়কে যান চলাচলের গতি বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের গতি প্রকৃতি কেমন এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আজ উপস্থাপন করা হয়েছে।
সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচলের কারণেই যানবাহনের গতি ১ কি.মি.বেড়েছে। ‘
তিনি আরো বলেন,‘রাজধানীতে আগে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ছিলো ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার যা কিনা পায়ে হাঁটা গতির সমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান দায়িত্বভার গ্রহণের পরে তিনি ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন।’
এমএন




