জাতীয়
গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল: কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তারা বলেন, আমরা যে ডেটা পেয়েছি তা দিয়ে প্রমাণিত যে এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন।
এসময় কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেনসহ উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
কমিশনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।
এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরও ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায় যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছে যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’
প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।
কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।
অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি এই কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা যে ঘটনা বর্ণনা করলেন, পৈশাচিক বলে যে শব্দ আছে বাংলায়, এককথায় বললে এ ঘটনাগুলোকে সেই শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়। এই নৃশংস ঘটনার মধ্যদিয়ে যারা গেছেন, আপনারাও তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্যদিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে সেই নৃশংস ঘটনাগুলো দেখেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা যেতো না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী পৈশাচিক আচরণ করা যেতে পারে সেটার ডকুমেন্টেশন এই রিপোর্ট। মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বিভৎস হতে পারে- এটা তার ডকুমেন্টেশন। যারা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমাদের মতোই মানুষ। নৃশংসতম ঘটনা ঘটিয়ে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে এ ধরনের নৃশংসতা থেকে আমাদের চিরতরে বের হয়ে আসতে হবে। এই নৃশংসতা যেন আর ফিরতে না পারে সেই প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা বলেন, আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল সেই সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এ কাজগুলো এগিয়ে নিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
এমকে
জাতীয়
১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও না পরেও না: প্রধান উপদেষ্টা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ় আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, কে কী বললো তাতে কিছু আসে-যায় না। ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন হবে—একদিন আগেও না, একদিন পরেও না।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মোর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তারা দুজনই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।
বৈঠককালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন হবে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং ভুয়া খবরের বন্যা বইছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল এবং ফল ঘোষণার পর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
সাবেক অ্যাক্টিং আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মোর্স ট্যান গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই বিপ্লব ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া খবর ও অপপ্রচার, রোহিঙ্গা সংকট এবং সত্য ও পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। তার ভাষায়, জনগণের সমর্থনে অনুমোদিত হতে যাওয়া জুলাই সনদ ভবিষ্যতের স্বৈরশাসনের পথ বন্ধ করবে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন।
তিনি বলেন, মানুষ এখন এআই-নির্মিত ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচার শনাক্ত করতে পারছে।
আলবার্ট গম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু হয়ে উঠেছে এবং এটি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
দুই সাবেক মার্কিন কূটনীতিকই গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তারা বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্ন তুললে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগের জন্য সময় উপযুক্ত নয়।
তিনি বলেন, সত্য ও পুনর্মিলন তখনই সম্ভব, যখন অপরাধ স্বীকার করা হয়, অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয় এবং সঠিক পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু এখনো তারা তাদের অপরাধ অস্বীকার করছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ তাদের (পতিত সরকার ও দল) বর্বর অপরাধের বিপুল প্রমাণ রয়েছে। তবুও তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানে রয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
দেশের সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বিজিবির নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে সদা জাগ্রত থাকতে হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।
তিনি বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী কালের পরিক্রমায় আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষা ও সীমান্তের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধসহ যেকোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিটিসিএন্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ৭০০–১০০০ জন হলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩০২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০, মহিলা ৭৩) রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের নির্দেশনায় এবং বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে এই চ্যালেঞ্জিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। একসঙ্গে ৩ হাজারেরও অধিক রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিজিটিসিএন্ডসি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট গণনা নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি বাসার ভেতরে একাধিক ব্যক্তিকে বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে দেখা যায়। খামগুলোর ওপর বাহরাইনের ঠিকানা লেখা দেখা গেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। এতে কয়েকজন ব্যক্তিকে পাশাপাশি বসে পোস্টাল ব্যালট গুনতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে ভিডিও ধারণে বাধা দিতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ভিডিও করা যাবে না এবং ফেসবুকে ছড়ানো যাবে না। আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, এতে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া একই ধরনের আরেকটি ২৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতেও বহু পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে চট্টগ্রাম-৩ আসনের নাম উল্লেখ করতে শোনা যায়।
জুনায়েন বিন সাদ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করেন, এটি ওমানে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বাসার দৃশ্য। তবে প্রথম ভিডিওটি বাহরাইনে জামায়াতের একজন নেতার বাসায় ধারণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন।
চট্টগ্রাম-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ভিডিওটি দেখেছি। এটি সঠিক কি না যাচাই করা হচ্ছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা পোস্টাল ব্যালট হ্যান্ডেল করছেন, এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
এমকে
জাতীয়
ইসিতে চলছে পঞ্চম দিনের আপিল শুনানি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পঞ্চম দিনের কার্যক্রম চলছে আজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
জানা গেছে, আজ আপিল নম্বর ২৮১ থেকে ৩৫০ পর্যন্ত মোট ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, গত চার দিনে ২৮০টি আপিল শুনানি হয়েছে। প্রথম দিনে ৫২টি, দ্বিতীয় দিনে ৫৭টি, তৃতীয় দিনে ৪০টি এবং চতুর্থ দিনে ৫৩টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সময়সূচিতে আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
এমকে
জাতীয়
ভোটে ভুয়া তথ্য রোধে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে জাতিসংঘ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ সহায়তা চান তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
টেলিফোনে আলাপকাল অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের এক প্রকার বন্যা বইছে। এটি বিদেশি গণমাধ্যম ও স্থানীয় উৎস- উভয় দিক থেকেই আসছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর, গুজব ও নানান ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কী হতে পারে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এ ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ভুল তথ্যের পরিমাণ অনেক বেশি। এখন যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করবো। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
টেলিফোন আলাপে দুই নেতা আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার টুর্ক জোর দিয়ে বলেন, গুম সংক্রান্ত বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে একটি বাস্তব অর্থে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ এরই মধ্যে জারি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। আমরা দায়িত্ব ছাড়ার আগেই এটি সম্পন্ন করবো।
ড. ইউনূস জানান, তিনি গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি এটিকে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগ ও ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, তার দপ্তর গুম তদন্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
টেলিফোনে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।



