রাজনীতি
শুধু ফ্যামিলি কার্ড না, ফারমার্স কার্ডও দেবো: নজরুল ইসলাম
শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয় বিএনপি কৃষকদের ফারমার্স কার্ডও দেবে এবং এটা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থনে যদি আমরা পরিচালনার দায়িত্ব পাই, তাহলে আমরা দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বেশকিছু কর্মসূচি নেবো এবং এটা বিএনপির ইতিহাসই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়েছিলেন যেগুলো এখনো কার্যকর। তিনি অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যেটা দেশের উন্নয়নে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অনেক সংস্কারমূলক কাজ করেছেন, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আমরা তো ফ্যামিলি কার্ড দেবো, আমরা বলেছি এবং পরিবারের যিনি নারীদের মধ্যে প্রধান থাকবেন তার নামে হবে সেই ফ্যামিলি কার্ড, কোনো ছেলের নামে হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক ভাঁজের মধ্যে পড়ে যায়, যা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। তাই এখনো যে ব্যালটগুলো পাঠানো হয়নি সেগুলোতে বিএনপি সংশোধন চেয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বিএনপি নেতা বলেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের অনেক ভাই বোনেরা ভোটার হয়েছেন এবং তারা নির্বাচনে তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। তাদের কাছে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে সেই ব্যালট পেপারে কেউ মনে করতে পারেন ঘটনাক্রমে, কিন্তু আমরা বলি যেটা খুব উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাঁজ করলে কাগজটা ভালো করে নজরেই পড়বে না। আমরা এটা নিয়ে কথা বলেছি তাদের সঙ্গে। তাদের কথায় মনে হয়েছে, যে তারা বিষয়টি ঠিক ওভাবে খেয়াল করেননি।
তিনি বলেন, আমরা তাদের বলেছি যে আপনারা এখানে পাঁচটা লাইন করেছেন, পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন, যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ রাজনৈতিক দল, তাদের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয়ে ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো, ১৪টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো, তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না। কাজেই ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে। কমিশনের নজরে না পড়লেও যারা আসলে ভেতরে কাজটা করেছে, সম্ভবত তারা এটা কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই করেছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি যে বিদেশে যে ব্যালটগুলো পাঠানো হয়েছে, সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয়নি। আমরা তাদের পরিষ্কার বলেছি যে এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি তাদের যে এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এতে কিছু ত্রুটি হচ্ছে। যার জন্য আমরা দেখছি যে, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা অনেকগুলো ব্যালট পেপার তারা হ্যান্ডেল করছেন।
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য শুনে কমিশন জানিয়েছে তারা বাহরাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বাহরাইনের গভর্নমেন্টের কাছ থেকে যেটা এসছে, সেটা হলো যে এটা স্বীকার করা হয়েছে যে, হ্যাঁ এরকম একটা ঘটনা তারা জেনেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে আরও তদন্ত করে তারা রিপোর্ট দেবেন এবং সেই অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা বলেছি তাদের বিরুদ্ধে যেন আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এরই মধ্যে দুজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। কাজেই এটা তো কনসার্ন। আমাদেরও বেশকিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের। তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি যে সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে কোনো কারণে সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
রাজনীতি
রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা
বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানী ঢাকায় বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে এই শোভাযাত্রাটি করা হয়। এটি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ও পেশার মানুষ অংশ নেন এই শোভাযাত্রায়। দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান যেমন, মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল ও কুলার উপস্থিতি ছিল এতে। বাঙালিয়ানার সাজ-পোশাকে চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি ছিল শিশুদের। দেশাত্মবোধক, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
শোভাযাত্রার আগে একটি সমাবেশ হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দেশীয় সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
হারানো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। পাশাপাশি বাঙালির প্রকৃত চেতনা জাগ্রত করার কথাও বলেন তারা। তবে সমাবেশে এমন সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়, যা ইমান ও আকিদার ক্ষতি করে বা ইসলামী শরিয়ার বিরুদ্ধে যায়।
শোভাযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ রাজধানীর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতি
মান্ডায় জামায়াতের উদ্যোগে ১৮ শিশুর বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা সম্পন্ন
রাজধানীর মুগদায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ১৮ জন শিশুর বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় মুগদা পূর্ব থানা জামায়াতের কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুগদা পূর্ব থানা আমির ও কাশবন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসহাক। তিনি আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ইসহাক বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ইসলামের সৌন্দর্য ও নবীদের সুন্নাহর কোনো বিকল্প নেই। মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী যাবতীয় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
থানা সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য ওসামা মুন্সি সুরুজ, শহীদুল ইসলাম শহীদ ও মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
খতনা শেষে শিশুদের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
রাজনীতি
গণভোটের রায় না মানলে সংকটে পড়বে দেশ : শিশির মনির
গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভার (কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে এক জাতীয় সেমিনারে কিনোট পেপার উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, জগতে কোথাও কি শুনেছেন গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়? সংবিধান মেনে তো অভ্যুত্থান হয় না, এটি হয় সংবিধানের বাইরে থেকে। এখন এই রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৯ তারিখ আদালত খুলবে। আমরা আশা করছি আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে। যদি বাংলাদেশের আদালত তার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া।
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে এই আইনজীবী বলেন, গণভোটের রেজাল্ট মেনে নিয়ে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। এরপর উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই ভাগে পার্লামেন্ট বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কথা। উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার কথা ১০০ জনকে নিয়ে, যেখানে ভোটের সংখ্যানুপাতে দলগুলো আসন পাবে। এই কর্মকাণ্ড যদি আপনারা প্রদর্শন না করেন, তবে তা হবে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
তিনি বলেন, আমি সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির সংগ্রহ করেছি। দুনিয়ার ইতিহাসে এমন একটা উদাহরণ নেই, যেখানে মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছে আর সরকার তা মানেনি।
আদালত ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তন করেছিলাম। সেটাকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে ‘অসাংবিধানিক’ বলা হলো। ফলে ১৭ বছর দেশে আগুন জ্বলল। এখন আবার কোর্ট বলছেন, সেটা সাংবিধানিক। রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান যখন কোর্টে খোঁজা হয়, তখন সংকট আরও বাড়ে।
‘থুতু নিজের গায়েই পড়বে’— এমন মন্তব্য করে সরকারের উদ্দেশ্যে শিশির মনির বলেন, মিসাইল ছুড়লে তার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে হয়। তা না হলে সেই মিসাইল কার বাড়িতে গিয়ে পড়বে, কোনো শিশু বা নারীকে হত্যা করবে, তার ঠিক থাকে না। আপনারা ওপর দিকে চেয়ে থুতু দিচ্ছেন, অপেক্ষা করেন, কয়দিন পর এই থুতু ঘুরে আপনাদের নিজেদের গায়েই পড়বে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রাজনীতি
জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী গঠনের চেষ্টা করছে বিএনপি
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার সময়ে পুলিশ ধীরে ধীরে ‘পুলিশ লীগে’ পরিণত হয়েছিল। এখন বিএনপি সেই বাহিনীকে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী’ বানানোর চেষ্টা করছে। তা না হলে তারা কেন পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করছে না? পুলিশ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করছে না কেন?
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বিএনপি নানা ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হবে। আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুর্নীতি-লুটপাটের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং পুরোনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে সরকার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনো একাত্তরের চেতনা, আবার কখনো জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা এসব আদর্শ ধারণ করে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি দাবি করছে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু বাস্তবে তারা সেটিকে কলুষিত করেছে। শেখ হাসিনার আমলে বিচার বিভাগ যেভাবে দলীয়করণ হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিচারপতিদের নিরপেক্ষ নিয়োগের যে অধ্যাদেশ ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলোই আবার বহাল রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সংস্কারের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে ধারণ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রকৃত সংস্কার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্যে আবারও আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।
রাজনীতি
ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারঃ জামায়াত আমির
নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার। তবে নতুন করে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। জুলাই জাদুঘর জনগণের, কিন্তু সেটাকেও তারা দলীয়করণের পথে নিয়ে গেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, যতদিন সংসদে লড়াই করতে পারবো ততদিন থাকবো, এর বাইরে এক সেকেন্ডও নয়। রাজপথই আমাদের মূল ঠিকানা।
সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি ও গাদ্দারি করেছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্রিকেট বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ—সব জায়গায় ক্যু করছে বিএনপি। এই অবৈধ হস্তক্ষেপ গণতান্ত্রিক পথসমূহ আবারও রুদ্ধ করছে। সরকারের এই অবৈধ হস্তক্ষেপ মানা হবে না; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এবারের আন্দোলনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সামনে সারিতে থাকবেন। যদি বুলেট ছোড়া হয়, সেই বুলেট আগে আমাদের বুক ভেদ করবে। তবে এবার অর্ধেক সফলতা নয়; পরিপূর্ণ সফলতার জন্য রাজপথে নামবো।



