রাজনীতি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নিঃশর্ত জামিনসহ তিনটি দাবি ও তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মাহদী হাসানের জামিন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং এর আগে ঘোষিত দুই দফা দাবির প্রেক্ষিতে পরবর্তী কর্মসূচি ও কার্যক্রম জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে শনিবার রাতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সংগঠনটি দুই দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—শনিবার রাতের মধ্যেই মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি ও হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহার। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারির দাবিও জানানো হয়।
রবিবার সন্ধ্যার সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশীদ বলেন, দুই দফার মাঝে শুধুমাত্র প্রথম দফা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। মাহদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি। একটি মামলায় কেবলমাত্র জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমাদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি।
সুতরাং আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের যে কর্মসূচি, সেটি চলমান থাকবে, সেটি থেমে থাকবে না। বর্তমানে আগের দুইটি দফার সাথে নতুন একটি দফা যুক্ত করে আমরা তিন দফা দিতে চাই।
সংগঠনটির ঘোষিত তিন নম্বর দাবি হল : জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে, তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষাণলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্ছিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করা। এসময় রিফাত রশীদ তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের যে যে থানার অধীনে ছাত্র জনতাকে শহীদ করা হয়েছে সেই সকল থানার ওসি এবং সেই জেলাগুলোর এসপি থেকে শুরু করে তদুর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করে তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা পূর্বক মামলার করবে সংগঠনটি। সেই সাথে ইনডেমিনিটি অর্ডিন্যান্স রাষ্ট্রপতি কতৃক জারি নিশ্চিতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। আর নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানের সাথে সাক্ষাৎপূর্বক তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারটি স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আমার প্রতিটি ভাই-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য অনেক সময় অনেক ধরনের পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড নিচ্ছে। তারা আওয়ামী পুনর্বাসনে ব্যস্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নাই, সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে কোনো ভোট নাই।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, তারা যদি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রাজপথে রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দিতে এখনো প্রস্তুত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা সারা বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম আবারও শুরু করেছি। সুতরাং এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ মূলতপাটন না করা পর্যন্ত এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলমান থাকবে।
এমকে
রাজনীতি
আমরা বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন চাই না: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন চাই না। বোঝাপড়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটারদের সঙ্গে, কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়।
সোমবার রাতে (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি এ কথা বলেন।
কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে এবং কর্নেল (অব.) জাকারিয়ার সঞ্চালনায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম গোলাম মোস্তফার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।
কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) মাহাবুব উল আলম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনসহ অনেকে এ সময় বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক বিনা চ্যালেঞ্জে ভোটকেন্দ্রে যাবে, আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবে এবং ভোটের প্রতিফলন পাবে। তবেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, গুড গভর্ন্যান্সের পূর্বশর্ত হলো- একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে-সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। তা না পারলে পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা এবার ভোট দেবে। আমরা তোমাদের ভোট পাহারা দেব। তোমরা জাতির পাহারাদার হবে।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জাতিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দিয়েছেন। এখন আপনাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মকে ভালো কিছু দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। আমরা দুর্নীতির মূল ধরে টান দিতে চাই।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো সিভিলিয়ানের মুখ দিয়ে যুদ্ধের ঘোষণা হয়নি, এটি হয়েছে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। এ বিষয়ে একবারই ইতিহাস রচিত হয়েছে এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে- যে যত চেষ্টা করুক। অনেকে এটিকে ম্লান করতে চান, যা অবিচার।
তিনি বলেন, এটি ছিল রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। তারা তা না করায় সেনাবাহিনীর একজন অফিসার এ মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতির জন্য তার অবদান অস্বীকার করা মানে নিজেকেই অস্বীকার করা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে জাতির মানসপট থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবকেও যথাযথভাবে স্মরণ করা হয় না। বীরদের অবশ্যই আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। নইলে নতুন করে বীর জন্মাবে না, যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য সেনাবাহিনী লড়াই করেছে। লড়াই করতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অসংখ্য অফিসার ও সেনা জীবন দিয়েছেন। তারা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু এক ইঞ্চি মাটি কাউকে দেননি।
তিনি বলেন, চব্বিশের এ আন্দোলনে আপামর জনগণ যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আপনাদের সেই দিনের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোড়িত করেছিল। অফিসার ও মায়েদের সাহসী ভূমিকা পথ দেখিয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগস্টের ৩ ও ৪ তারিখ সবচেয়ে মজলুম দল ছিল জামায়াত। জনতার আন্দোলন দমাতে গিয়ে অতীতের মতো নোংরা উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণ এ ঘোষণা মেনে নেয়নি। ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা ছাড়া জাতীয়তাবাদীরাও এর প্রতিবাদ করেছে। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সেদিন দল রক্ষার জন্য নয়, দেশ রক্ষার জন্য লড়াই করেছি। এ আন্দোলনে যদি কোনো অবদান থাকে, সেটি জাতির প্রতি উপহার-দায়িত্ব পালনের একটি স্মারক এবং আমাদের রাজনৈতিক নৈতিক দায়বদ্ধতা।
তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত আমরা এ পরিবর্তনকে বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান- যে ভাষাতেই বলা হোক না কেন-তার ক্রেডিট দল হিসেবে দাবি করিনি।
বর্তমান সরকারপ্রধান বিদেশে বসে এক ব্যক্তিকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেছিলেন, যার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ আন্দোলনে সব জনগণই মাস্টারমাইন্ড।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো শহীদকে দলীয় পরিচয় দিতে চাই না। দলীয় পরিচয় দিলে শহীদদের খাটো করা হয়। তারা এ জাতির সম্পদ। জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে আমরা সেই জায়গায় পেয়েছি এবং তাদের নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। এটি পারস্পরিক ভারসাম্যের বিষয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সীমানা অক্ষুণ্ন রাখবে সেনাবাহিনী। সীমানা ঠিক থাকলে ভেতরের কার্যক্রম ঠিক থাকবে, না থাকলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। এ স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে।
তিনি বলেন, শাসনযন্ত্র ও রাষ্ট্রযন্ত্রে যারা থাকবেন, তাদের মধ্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট বোঝাপড়া থাকতে হবে। সামান্য ঘাটতিতেই দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জব ডেসক্রিপশন ও সীমা থাকতে হবে। সীমা লঙ্ঘন হলে বিপর্যয় অনিবার্য এবং সেখান থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। প্রত্যেক পেশাজীবী কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করবে- এমন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা এখন ভয়-ভীতির মধ্যে বসবাস করছি। আমরা সেনাবাহিনীকে দেখতে চাই-তারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। সেনাবাহিনীকে তার পেশাগত দায়িত্বে আরও মনোযোগী হতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের দেশকে অগ্রসর দেশ হিসেবে দেখতে চাই। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে একটি নিরাপদ দেশ তুলে দিতে চাই। আমরা বেকারভাতা দিয়ে অলস জাতি গড়তে চাই না, তবে যারা অক্ষম, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এমকে
রাজনীতি
আগামী নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নগারিক পার্টি (এনসিপি) ৩০ আসনে লড়বে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, জোট করার জন্য এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে। অন্যদেরও এই মানসিকতা থাকায় এই জোটটি হয়েছে। এই জোট ইনশাআল্লাহ এবার সরকার গঠন করবে।
তিনি বলেন, যারা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তারা আমাদের অ্যাসেট। তাদের পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ করা হয়নি। এখনও একসঙ্গে কাজের সুযোগ আছে।
এটা কোনো আদর্শিক জোট নয়, এটা স্ট্রেটেজিক একটি জোট বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ।
তিনি জানান, এনসিপির কোনো প্রার্থী নেই এমন ২৭০টি আসনে প্রতিনিধির মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি তৃণমূলে মাঠ পর্যায়ে গণভোটের প্রার্থী হিসেবে কাজ করবে এনসিপি।
রাজনীতি
ন্যাপ’র ঢাকা মহানগরীর সভাপতির জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান
বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান সাজু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারী) বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ে এসে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নিকট জমা দেন। এসময় ড. হেলাল উদ্দিন তাকে বরণ করে নিয়ে সংগঠন পদ্ধতি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র সহ প্রয়োজনীয় বই উপহার দেন।
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সৈয়দ শাহাজাহান সাজু বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অংশীদার হতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। এসময় তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ন্যাপ ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে এসেছি। বিগত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত এক কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে কোনো সন্ত্রাস থাকবে না, কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না, কোনো দুর্নীতিবাজ থাকবে না। দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠীর কোনো বিভেদ-বিভাজন থাকবে না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা লাভ করবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা বারবার পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেও দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারেনি, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি তাদের থেকে জনগণ যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ছে তখন সেই দুর্নীতিগ্রস্ত দলের নেতারা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানান রকম অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো অপপ্রচারে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থেমে যাবে না। কারণ জামায়াতে ইসলামীর সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। যার কারণে দেশপ্রেমিক অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্রমেই জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশ ন্যাপের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান সাজু ন্যাপ ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
রাজনীতি
নির্বাচন করতে পারবেন না চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী
দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিলই থাকছে। ফলে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে ফজলুল হকের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে তার আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এদিন তৃতীয় দিনের মতো চলছে আপিল শুনানি।
এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন বলে জানান। গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন।
তবে ওইদিন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করা হলেও তার সপক্ষে কোনো নথিপত্র দেওয়া হয়নি।
এমকে
রাজনীতি
জামায়াত আমীরের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) ড. লিউ ইউইন, পলিটিক্যাল ডিরেক্টর মি. ঝাং জিং, মি. রু কি (রাকি) এবং মিস নাফিসা (লিয়াং শুইন)।
বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় চীন ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং এই সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ, উন্নয়ন টিম লিড দেওয়ান আলমগীর এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
এমকে




