জাতীয়
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ পাবেন আরও ৩৬০০ যুব-যুবতী
দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন মাস মেয়াদি পঞ্চম প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ধাপেও ৩ হাজার ৬০০ জন যুব-যুবতী কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ পাবেন।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন। উপদেষ্টা এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
এতে দেশের ৪৮টি জেলার প্রশিক্ষণার্থীরাও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। দেশের ৮টি বিভাগের ৪৮ জেলায় একযোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে চারটি ব্যাচে যুব ও যুবতীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে ৩ হাজার ৬০০ জন করে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এ সময় পূর্ববর্তী ব্যাচের সফল ২-৩ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং নতুন ব্যাচের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৪৮টি জেলার প্রতিটি জেলায় ৩টি ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩৫ বছর এবং ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে।
সরকারি অর্থায়নে জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় মোট ২৮ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশের ৪৮টি জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের মোট ৪৮টি জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চারটি কোয়ার্টারে মোট ১০ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারী সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ৬৭৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণার্থী এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৬ মার্কিন ডলার আয় করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ২ লাখ টাকার সমপরিমাণ। এই আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণ কোর্সে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল ট্রেনিং, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের আয় বৃদ্ধি এবং যারা এখনো আয় করতে পারেননি তাদের আয়মুখী করতে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের উদ্যোগে প্রকল্পভুক্ত সব জেলায় বিনামূল্যে নিয়মিত ভার্চুয়াল মেন্টরিং ও পোস্ট-ট্রেনিং সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চম ব্যাচে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেন প্রায় ৮৫ হাজার ২২৯ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪১ হাজার ৫৮১ জন যোগ্য প্রার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৩৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ চলাকালে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয়
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না বাংলাদেশিরা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিসা বন্ড নীতির আওতায় এখন থেকে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কেবল তিনটি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে। সেগুলো হলো— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
৬ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয়
টিকিটবিহীন ২ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা আদায়
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ৬৪টি ট্রেনে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার এই অভিযানে মোট ৯৪ জন টিটিই অংশগ্রহণ করেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ হাজার ৯৪৫ জন টিকিটবিহীন যাত্রী শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ভাড়া ও জরিমানা হিসেবে মোট ৪ লাখ ২৪ হাজার ৯১০ টাকা আদায় করা হয়।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রেলওয়ের ভেরিফাইড পেইজে জানানো হয়েছে, এই অভিযান চলাকালীন মোট ২ হাজার ৭৩৫টি টিকিট যাচাই করা হয়। যাত্রীদের মধ্যে যাদের টিকিট ছিল না, তাদের কাছ থেকে ভাড়া হিসেবে আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৩০ টাকা, আর জরিমানা হিসাবে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৮০ টাকা।
অভিযানটি মূলত রেলযাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত টিকিট ব্যবহারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রেলওয়ের নিরাপত্তা ও আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পরিচালিত হয়েছে। খোলাখুলিভাবে ট্রেনে যাত্রী ভ্রমণ ও টিকিটবিহীন ভ্রমণ রোধের লক্ষ্যে এই অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তা জানান, অভিযান চলাকালীন যাত্রীরা সচেতনভাবে টিকিট প্রদর্শন করায় কিছুটা নিয়মের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে কিছু যাত্রী এখনও টিকিটবিহীন ভ্রমণ করছে, যা রেলওয়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও কড়া করা হবে এবং জরিমানা কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাড়তি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতায় পড়া দেশগুলোর তালিকা আপডেট করেছে। এতেই যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম এখন এ তালিকায় রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের হালনাগাদ তথ্যে এই নতুন দেশগুলোর তালিকা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে তিনটি ধাপে— ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তা।
বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার নির্দেশনা দেওয়ার আগে কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার বেশি, সেসব দেশকেই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বন্ডের টাকা স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নিচের পরিস্থিতিতে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে—
• যদি ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।
• যদি ভিসা পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করেন।
• যদি মার্কিন বিমানবন্দরে তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।
তবে যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন এসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয়), তবে সেই জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন বাংলাদেশিরা কেবল এই তিন বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বিমানবন্দর তিনটি হলো— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় আছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, ও নেপাল, উগান্ডা। তালিকার দেশগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো একধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়।
বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
জাতীয়
সরকারি গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়লো
সরকারি গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে নতুন নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকে যানবাহন কেনার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য এসি মিনিবাস (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় নন-এসি বাস (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) কেনা যাবে সর্বোচ্চ ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকায়, যা আগে ছিল ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তবে মাইক্রোবাসের মূল্যসীমা ৫২ লাখ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এদিকে, প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এবার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাড়ির বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর জিপ গাড়ির (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) মূল্যসীমা ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এসব গাড়ি মূলত গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হয়। গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৬৫ লাখ টাকা মূল্যসীমা বহাল রয়েছে।
এ ছাড়া সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের মূল্যসীমা ৩৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। যদিও ডাবল কেবিন পিকআপের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়নি। তবে গত ৬ মার্চ এই গাড়ির মূল্যসীমা ৫৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
৫ টনের ট্রাকের মূল্যসীমা ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ লাখ টাকা, ৩ টনের ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪২ লাখ টাকা করা হয়েছে। মোটরসাইকেল (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সব ধরনের গাড়ির মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দফায় কিছু কিছু যানবাহনের দাম বাড়ানো হয়। এবার আগের তালিকার বাইরে থাকা আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
জাতীয়
নির্বাচনের প্রস্তুতি দেখতে ইইউর প্রধান পর্যবেক্ষক আসছেন বৃহস্পতিবার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় আসছেন।
ঢাকার ইইউ দূতাবাস সূত্র জানায়, সফরকালে ইজাবস ইইউর বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইজাবস লাটভিয়ার নাগরিক এবং বর্তমানে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। সফরের সময় তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করবেন। ঢাকা ছাড়ার আগে ১১ জানুয়ারি তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এ সফরের পর প্রধান পর্যবেক্ষক অন্তত আরও দুবার বাংলাদেশ সফর করবেন।
গত ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ ইজাবসকে প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
এক বিবৃতিতে ইজাবস বলেন, ‘বাংলাদেশে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের নেতৃত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। এই মিশন নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন তুলে ধরবে।’
এই মিশন বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতি ইইউর সমর্থনের বাস্তব উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইইউ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড অনুযায়ী পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করবে। এছাড়া প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করবে।






